Home » অর্থনীতি » প্রাণ প্রকৃতি বাংলাদেশ-১

প্রাণ প্রকৃতি বাংলাদেশ-১

আনু মুহাম্মদ ::

 ‘মানুষ ছাড়া বন বাঁচে

বন ছাড়া মানুষ বাঁচে না।

মানুষ ছাড়া নদী বাঁচে

পানি ছাড়া মানুষ বাঁচে না।।’

তাই একটি দেশের বস্তুগত উন্নয়ন কতোটা মানুষের জন্য তা বুঝতে শুধু অর্থকড়ির পরিমাণ বৃদ্ধি দেখলে হবে না।

তাকাতে হবে বন নদী পানিমানুষসহ সর্বপ্রাণের দিকে

 

পুঁজিবাদের বিকাশ ও উন্নয়নের পরিসংখ্যান :

সন্দেহ নেই, গত চারদশকে বাংলাদেশে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটেছে সকল ক্ষেত্রে। গত দুদশকে এর বিকাশ মাত্রা দ্রুততর হয়েছে। ধনিক শ্রেণীর আয়তন বেড়েছে। কয়েক হাজার কোটিপতি সৃষ্টি হয়েছে, স্বচ্ছল মধ্যবিত্তের একটি স্তর তৈরি হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটেছে। এই বিকাশ প্রক্রিয়ায় দেশের সমাজ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্র এখন পুঁজির আওতায়, একইসাথে একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক বেশি বিশ্ব অর্থনীতির সাথে অঙ্গীভূত।

পুঁজিবাদের এই বিকাশ নিয়ে সরকারি উচ্ছ্বাস সীমাহীন। উন্নয়নে সরকার সার্থক বলে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অর্থনীতিবিদদের মধ্যে স্তুতিগানের কমতি নেই। এই স্তুতি বন্দনায় বিশেষভাবে ৭০ দশকের শুরুতে প্রকাশিত একটি বই-এর কথা টানা হয়, নাম – বাংলাদেশ: এ টেস্ট কেস অব ডেভেলপমেন্ট [1]  এর লেখক ছিলেন ১৯৭২-৭৪ সালে ঢাকার বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি জাস্ট ফাল্যান্ড এবং একই সময়ে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জে . আর. পারকিনসন। এই গ্রন্থে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ নিয়ে গভীর হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের দর্শন অনুযায়ী তাঁরা পুঁজিবাদ বিকাশের সম্ভাবনাই বিচার করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্যে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের এমনই অবস্থা যে, যদি বাংলাদেশের উন্নয়ন হয় তাহলে বিশ্বের কোথাও উন্নয়ন কোনো সমস্যা হবে না। এই হতাশাব্যঞ্জক কথার সূত্র টেনে বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সূচক তুলনা করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়।

কিন্তু স্বাধীনতার পর বিপুল প্রত্যাশা আর তার বিপরীতে রাষ্ট্রের যাত্রা নিয়ে সেসময়ের অন্য আরও কিছু বই আছে যেগুলোর প্রসঙ্গ টানলে বিশ্লেষণ ভিন্ন হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তৎকালীন পরিকল্পনা কমিশনের প্রধান নূরুল ইসলাম এবং সদস্য রেহমান সোবহান, আনিসুর রহমানের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা বই।[2]  যদি আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিশ্লেষণ করি, যদি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনা করি, যদি স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রে যে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিলো সেই সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা- বর্তমান উন্নয়ন ধারায় কতটা অর্জিত হয়েছে তার বিচার করি, তাহলে উচ্ছ্বাসের বদলে উন্নয়নের গতিধারা নিয়েই প্রশ্ন আসবে। যদি ধনিক শ্রেণীর আয়তন ও জিডিপি বৃদ্ধির পাশাপাশি কতো নদী বিনাশ হলো, কতো বন উজাড় হলো, বাতাস কতো দূষিত হলো, মানুষের জীবন কতো বিপন্ন হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বঞ্চনা ও বৈষম্য কতোটা বাড়লো, শ্রেণী-লিঙ্গীয়-ধর্মীয়-জাতিগত বৈষম্য নিপীড়ন কী দাঁড়ালো তার হিসাব করি তাহলে  উন্নয়নের সংজ্ঞা পাল্টাতে হবে।

সরকারি হিসাবে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বার্ষিক ৭ শতাংশের বেশি এবং মাথাপিছু আয় এখন বার্ষিক ১৬শ’ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।[3]  গত ১০ বছরের গড় হিসাবে বিশ্বের সবচাইতে উচ্চহারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ঘটেছে নাওরু, ইথিওপিয়া, তুর্কমেনিস্তান, কাতার, চীন এবং উজবেকিস্তানে। এক দশকের গড় হিসাবে দ্রুত প্রবৃদ্ধির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ২০। তবে ২০১৭ সালের প্রবৃদ্ধি হার বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫ম। বাংলাদেশের চাইতে বেশি, সমান ও কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি হার অর্জনকারী অন্যদেশগুলো হলো: ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, ভারত, কম্বোডিয়া, তানজানিয়া, লাওস, ফিলিপাইন, আইভরিকোস্ট ও সেনেগাল।[4]

ভারতে মাথাপিছু আয় ও জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার গত এক দশক ধরে বেশ ভালো দেখালেও তার পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে সেখানকার অর্থনীতিবিদরা অনেক প্রশ্ন তুলছেন, বিতর্ক হচ্ছে। ডাটা-র গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।[5]  ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের তথ্য উপাত্ত পরিসংখ্যান হিসাব নিকাশ প্রবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ অনেক বেশি থাকলেও বাংলাদেশে এনিয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই, কোনো বিতর্ক নেই। সরকারি ভাষ্যের সাথে মেলে না এরকম যুক্তি, তথ্য,  প্রশ্ন আর বিতর্ক সরকার পছন্দ করে না বলে প্রায় সকল অর্থনীতিবিদ, থিংক-ট্যাংক, মিডিয়াও বিনাপ্রশ্নে সব গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। যাইহোক, কতটা এবং কীভাবে তা নিয়ে অনেক প্রশ্নের অবকাশ থাকলেও জাতীয় আয় নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে।

কোনো দেশের অর্থনীতিকে জিডিপি/জিএনপি এবং মাথাপিছু আয় দিয়ে পরিমাপ করায় বিশ্বব্যাংক- আইএমএফ-ই প্রধান পথনির্দেশকের ভূমিকা পালন করে। এই পদ্ধতি সারা দুনিয়ার কর্পোরেট শাসকদের প্রিয়, কেননা এতে অনেক সত্য আড়াল করা যায়। বিশ্বব্যাংকই সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করে থাকে। এগুলো হল: (১) নিম্ন আয়ভুক্ত দেশ (মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত)। (২) নিম্ন মধ্য আয়ভুক্ত দেশ (১ হাজার ২৬ মার্কিন ডলার থেকে ৪ হাজার ৩৫ ডলার); (৩) উচ্চ মধ্যম আয় (৪ হাজার ৩৬ মার্কিন ডলার থেকে ১২ হাজার ৪৭৫ ডলার)। (৩) উচ্চ আয়ভুক্ত দেশ (১২ হাজার ৪৭৬ মার্কিন ডলার থেকে বেশি )।

মাথাপিছু আয়সহ আরও কিছু বিষয় নিয়ে জাতিসংঘেরও বিভাজন আছে। তাদের মাপকাঠি অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ গ্রুপের পরের ধাপ উন্নয়নশীল (developing)) দেশ; এই পর্বের দেশগুলোকে কম (less developed) বা অনুন্নত (underdeveloped)  দেশও বলা হয়। তাদের সর্বশেষ  তালিকা অনুযায়ী বিশ্বের  ৪৭টি দেশ ও দ্বীপপুঞ্জ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে ৩৩টি আফ্রিকায়। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে আছে ১৩টি, ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানের মধ্যে একমাত্র হাইতি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে চিহ্নিত। এশিয়ার মধ্যে তালিকাভুক্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ছিল আফগানিস্তান, ভুটান, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও নেপাল। জাতিসংঘের বিবেচনায় সবচাইতে দরিদ্র এবং দুর্বল দেশগুলো নিয়ে স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ গঠন করা হয় ১৯৭১ সালে। বাংলাদেশ এই তালিকাভুক্ত হয় ১৯৭৪-৭৫ সালে।

৪৭ বছর আগে এই গ্রুপ গঠন করবার পরে এর মধ্যে মাত্র ৫টি দেশ স্বল্পোন্নত তালিকা থেকে পুরোপুরি বের হতে পেরেছে। এগুলো হল বতসওয়ানা, কেপ ভার্দে, ইকুয়েটরিয়াল গিনি, মালদ্বীপ এবং সামোয়া। জাতিসংঘের কমিটি বলেছে, আগামী ৩ বছরে আরও দুটি দেশ ভানুয়াতু এবং এ্যাঙ্গোলা এই উত্তরণের তালিকায় আছে। নেপাল এবং তিমুরও শর্ত পূরণ করেছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের বিষয়টি ২০২১ সালে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় বিবেচনার জন্য রাখা হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ জাতিসংঘের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, লাওস এবং মিয়ানমার প্রথমবারের মতো স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য শর্ত পূরণ হয়েছে। আরও কয় বছর দ্বিতীয় দফায় শর্ত পুরণ করতে পারলে চুড়ান্ত ভাবে এলডিসি তালিকা থেকে এ দেশগুলো বের হতে পারবে।[6]

একটি দেশে জিডিপি অনেক বেশি হলেও যে টেকসই উন্নয়ন দুর্বল হতে পারে, মাথাপিছু আয় বেশি হলেও যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্ন হতে পারে এবিষয় স্পষ্ট করে অনেক গবেষণামূলক কাজ হয়েছে নানাদেশে। অমর্ত্য সেন এবিষয় পরীক্ষা নিরীক্ষা নতুন প্রস্তাবনা হাজির করেছেন। মাহবুবুল হকের সাথে ‘মানব উন্নয়ন সূচক’ ধারণা প্রবর্তন করেছেন, যার ভিত্তিতে জাতিসংঘ এখন নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। জোসেফ স্টিগলিজসহ মূলধারার বহু অর্থনীতিবিদ অর্থনীতি পরিমাপের পদ্ধতি হিসেবে জিডিপি ব্যবহারের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।[7]

ভারতের ভেতরেই রাজ্য থেকে রাজ্য তাৎপর্যপূর্ণ তফাৎ পাওয়া যায়। আফ্রিকার বহু দেশে মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে বেশি, মধ্যম আয়ের বিবরণে তারা বাংলাদেশ থেকে অনেক আগে থেকেই এগিয়ে, কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্ন। মিয়ানমারে মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের প্রায় সমান, মানে তারাও নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। মিয়ানমারও একইসঙ্গে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে যাবার শর্তপূরণ করেছে। নাইজেরিয়ার মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু তাদের জীবনযাত্রার মান বাংলাদেশের চাইতে দ্বিগুণ ভালো, এটা বলা যাবেনা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বরং আরও খারাপ। সেজন্য মানব উন্নয়ন সূচকে নাইজেরিয়া বাংলাদেশেরও পেছনে।

প্রকৃতপক্ষে জি ডি পি দিয়ে একটি দেশের আর্থিক লেনদেন বা বাণিজ্যিক উৎপাদন, বিতরণ, পরিষেবার বিস্তার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, কারণ যেকোনো লেনদেন ও বাণিজ্যিক তৎপরতা বৃদ্ধিতেই জিডিপি বাড়ে। কিন্তু এরজন্য সামাজিক ও পরিবেশগত কোনো ক্ষতি হলে তা হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। সেকারণে এর মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ  মানুষের সামাজিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝা যায় না, অর্থনীতির গুণগত অগ্রগতিও বোঝা যায় না।

যেমন চোরাই অর্থনীতির তৎপরতাতেও জি ডি পি বাড়ে কিন্তু সমাজের বড় একটা অংশের জীবন জীবিকা তাতে বিপদগ্রস্ত হয়। নদীনালা, খালবিল, বন দখল ও ধ্বংসের মাধ্যমেও জি ডি পি বাড়তে পারে, কিন্তু তা দীর্ঘ মেয়াদে  টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে না, বরং অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এসব তৎপরতায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রকৃত আয় বৃদ্ধি পায় না বরং জীবনমান বিপর্যস্ত হয়। দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও তার কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিও বড় দেখায়, জিডিপির অংকও বাড়ে। একইসময়ে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ কমে এসেছে তার ব্যয়বৃদ্ধির কারণে। কিন্তু এই ব্যয়বৃদ্ধি আবার জিডিপি বাড়ায়। অনিয়ন্ত্রিভাবে গৃহীত বৃহৎ প্রকল্পে ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি, আর্থিক খাত থেকে অভাবনীয় মাত্রায় লুন্ঠন ও পাচারও জিডিপি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

দ্বিতীয়ত, যে সমাজে বৈষম্য বেশি সেখানে মাথাপিছু আয়ের হিসাব বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। একটি পরিবার যদি দশ লক্ষ টাকা আয় করে, পাশাপাশি অন্য একটি পরিবার যদি দশ হাজার টাকা আয় করে তাহলে উভয় পরিবারের গড় আয় হবে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। এতে কি দুই পরিবারের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায়? বর্তমান মাথাপিছু আয় হিসাবে আমাদের দেশে চার সদস্যের পরিবারের বার্ষিক গড় আয় হয়  প্রায় ৭ হাজার মার্কিন ডলার অর্থাৎ মাসে প্রায় ৫৭ হাজার টাকা। তারমানে বাংলাদেশের সকল নাগরিক শিশু বৃদ্ধ নারীপুরুষ সকলেরই মাথাপিছু আয় মাসে এখন প্রায় ১৪ হাজার টাকা! অথচ সরকারি পরিসংখ্যান বলে বাংলাদেশের শতকরা ৮০ জন  মানুষের মাসিক আয় এর থেকে অনেক নিচে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় যত শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ পায় তার মাত্র ৩০ শতাংশ। (নাজমা জেসমিন চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা ২০১৮)

[1]Just Faaland, J.R. Parkinson: Bangladesh A Test Case of Development, S. chand, New Delhi, 1977.

[2]মো: আনিসুর রহমান: পথে যা পেয়েছি, ২য় পর্ব, অ্যাডর্ণ পাবলিকেশন, ঢাকা, ২০০৪। একই লেখকের Anisur Rahman: The Lost Moment, UPL,Dhaka, 1993. Ges Nurul Islam: Development Planning in Bangladesh, UPL, 1981. এছাড়া আরও দেখুন- – – Rehman Sobhan and  Muzaffar Ahmed: Public enterprise in an intermediate regime: a study in the political economy of Bangladesh. Bangladesh Institute of Development Studies,  1980.

[3] বাংলাদেশ সরকার: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮।

[4]https://www.gfmag.com/global-data/economic-data/countries-highest-gdp-growth-2017

[5]Amiya Kumar Bagchi:“What an Obsession with GDP Denotes”, Economic & Political Weekly EPW, September 1, 2018.

[6] একই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ভুটান, কিরিবাতি সাওতোম এবং সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ইতোমধ্যে সব শর্ত পূরণ করে অর্থাৎ জাতীয় আয় এবং শিক্ষা-চিকিৎসার শর্ত পূরণ করে স্বল্পোন্নত দেশের গ্রুপ থেকে বের হবার এবং উন্নয়নশীল দেশ কাতারে দাঁড়ানোর যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের নাম এখন জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) জাতিসংঘের ইকনমিক এ্যান্ড সোশাল কাউন্সিল এ পাঠাবে, সেখান থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গিয়ে তা চুড়ান্ত হবে।

[7]`দীপ্তি ভৌমিক: জিডিপি- উচ্ছ্বাস ও বাস্তবতা। সর্বজনকথা, ফেব্রুয়ারি ২০১৭।: : Debra Efroymson: Beyond Apologies: Defining and Achieving an Economics of Wellbeing, March 2015, Institute of Wellbeing, Dhaka.

বাংলাদেশের চাইতে ভুটানের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণেরও বেশি। তারপরও ভুটান জিডিপির এই হিসাব পদ্ধতিকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর নাম মোট জাতীয় সুখ (গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস)। এতে সর্বমোট ৯টি ক্ষেত্র বিবেচনার অন্তর্ভুক্ত করা হয় : মানসিক ভালো থাকা, সময়ের ব্যবহার, সম্প্রদায়, জীবনীশক্তি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বাস্তুতান্ত্রিক স্থিতিস্থাপকতা, জীবনযাত্রার মান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সুশাসন। এছাড়া এসসব ক্ষেত্রের সাথে মাথাপিছু আয় সহ ৩৩টি নির্দেশক আছে। অন্যান্য নির্দেশক হলো নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক, সাক্ষরতা, বাস্তুতান্ত্রিক বিষয় এবং ঘুম এবং কাজে ব্যয়কৃত সময়।