Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 10)

শিল্প-সংস্কৃতি

উত্তাল ষাটের দশক (চতুর্দশ পর্ব)

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান :: মওলানা ভাসানীর আন্দোলন ও শেখ মুজিবের মুক্তি

হায়দার আকবর খান রনো

last 5ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা প্রণয়ন করেই ব্যাপক প্রচারে নেমেছিল এবং বিপুল সাড়া পেয়েছিল। ১৭ জানুয়ারি ১৯৬৯ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছাত্র সভা থেকে এই প্রচারাভিযান শুরু হয়েছিল। তখন রাস্তায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল। ১৮ জানুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। ১৯ জানুয়ারি আবারও মিছিল বেরিয়েছিল। সেদিন পুলিশ গুলি করেছিল। আসাদুল হক নামে একজন (পরবর্তীতে শহীদ আসাদুজ্জামান নন) গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন ২০ জানুয়ারি আবারও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের হলে চারখানপুলের মোড়ে অবস্থিত একটি পুলিশজিপ থেকে মিছিলকে লক্ষ্য করে জনৈক পুলিশ অফিসার গুলি ছোড়ে। মিছিলের সামনের কাতারে ছিলেন আসাদুজ্জামান (আসাদ)। তিনি সাথে সাথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিস্তারিত »

বিশ্বব্যাপী চলমান যুদ্ধের ছবি – দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার

ফ্লোরা সরকার

last 6১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি, ঠিক যেদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো মিলে নাফটা অর্থাৎ নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট করলো, ঠিক তার কয়েক ঘন্টা পরেই মেক্সিকোর চিয়াপাসে কিছু সেনা কৃষক জেগে উঠেছিলো। গড়ে তুলেছিলো, জাপাটিসটার আর্মি অফ ন্যাশনাল লিবারেশান, সংক্ষেপে জাপাটিসটাস বামপন্থী রাজনৈতিক ও মিলিটারি বৈপ্লবিক দল। ১৯৯৪ সাল থেকেই এই দল মেক্সিকোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আসছে, যে যুদ্ধ ছিলো মূলত আত্মরক্ষামূলক। মেক্সিকোর সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত চিয়াপাস অঞ্চলে মিলিটারি, সংসদীয় এবং কর্পোরেট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ছিলো মূলত আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ। যাদের অবিসংবাদী নেতা ছিলেন সাবকমান্ডেন্ট মারকস (১৯ জুন, ১৯৫৭)। যাকে নব্য চে গুয়েভারা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। মিলিটারি, সংসদীয় বা কর্পোরেট ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্পিত যেকোনো জোরপূর্বক সমাধান চাপিয়ে দেয়ার নীতি বিরুদ্ধ ছিলো এই দল। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দাবী আদায়ের চেষ্টা করে আসছে দলটি। তাদের যুদ্ধ অতীতের গেরিলা যুদ্ধের মতো না। বিস্তারিত »

সুতরাং সুভাষ দত্ত…

ফ্লোরা সরকার

last 7বানিজ্যিক ধারার সিনেমা নির্মাণে অবস্থান করেও সুভাষ দত্ত ছিলেন একজন সফল চিত্রপরিচালক। এই দেশে সব থেকে অধিক প্রচলিত এবং চলচ্চিত্র শিল্পকে ধরে রাখার অবদান থাকা সত্ত্বেও বানিজ্যিক ধারার ছবিগুলো অনেকদিন থেকে নন্দিত হবার চেয়ে নিন্দিত হয়েছে বেশি। একমাত্র ষাট এবং সত্তরের দশক ছাড়া এদেশে তেমন কোনো ভালো ছবি নির্মাণের ইতিহাস আমরা খুঁজে পাবোনা। বানিজ্যিক ধারার সমান্তরালে বিকল্প ধারা হিসেবে পরিচিত গত আশি এবং নব্বইয়ের দশকে আর্ট ফিল্ম নামে যেসব চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে তারও যে খুব একটা উন্নয়ন ঘটেছে তা কিন্তু নয়। আসলে বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র বলতেই বা আমরা কি বুঝি? এক কথায় প্রথাপ্রতিষ্ঠান বিরোধী অবস্থান গ্রহণ অর্থাৎ বহুজাতিক কর্পোরেট সংস্কৃতির অধীনে থেকে যান্ত্রিক,পুনরাবৃত্তিতে পূর্ণ, লোভ এবং মুনাফার উদ্দেশ্যে যেসব ছবি নির্মিত হয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এবং সমান্তরালে গড়ে ওঠা এক শিল্প প্রচেষ্টা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো এসব বিকল্প ধারার ছবির জন্যে বিকল্প ধারার দর্শকেরও প্রয়োজন পড়ে, যারা মূলত সমাজের এলিট শ্রেণী থেকে আগত। সাধারণ দর্শক এসব ছবির রসাস্বাদন করতে পারে খুব কম। বিস্তারিত »

হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও গানের বাহিরানা (শেষ পর্ব)

গুরু একজন নয়, গণসমষ্টি

(গণমানুষের শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্ম ১৯১২ সালের জানুয়ারিতে এবং মৃত্যু ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে। প্রখ্যাত এই গণসঙ্গীত শিল্পীর প্রতি আমাদের বুধবারএর শ্রদ্ধা।)

আনু মুহাম্মদ

last 2রমেশ শীল পূর্ববঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের এক ভাষণে যা বলেছিলেন তা এক নির্মম বাস্তবতাকে আমাদের সামনে উপস্থিত করে। একইসঙ্গে এটাও দেখায় যে, কেন লোককবি লোকশিল্পীর সব সৃষ্টি জনগণের পক্ষে যায় না? কেন শিল্পীজগতে ধ্বস নামে যা আমরা এখনও প্রত্যক্ষ করি। রমেশ শীল বলেছিলেন, ‘গ্রামের চাষী গরীব হইল, ফুলিয়া ফাঁপিয়া উঠিল জমিদার মহাজনের দল, চাষীরা আর গ্রাম্য কবি ও লোকশিল্পীদের অন্নসংস্থান করিতে পারে না। গ্রাম্য কবিগণ পেটের দায়ে এবং মোটা অর্থের প্রলোভনে জমিদার মহাজনদের উৎসব মন্ডপে আসিয়া ভিড় জমাইল। বাউন্ডুলে ইয়ারদোস্ত পরিবৃত ধনী জমিদার বাবুদের মনোরঞ্জন করিতে গিয়া গ্রাম্যকবিগণ অশ্লীল ভঙ্গীতে নাচিল, গান গাহিল। নারীজাতির কুৎসা রটনা করিয়া তথাকথিত পুরুষপুঙ্গবকে পরিতৃপ্ত করিল। আমার ব্যক্তিগত কবিজীবনে অসংখ্যবার এইভাবে নাচিয়াছি। অশ্লীল গান গাহিয়াছি।…’ বিস্তারিত »

হেমাঙ্গ বিশ্বাস ও গানের বাহিরানা (প্রথম পর্ব)

(গণমানুষের শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের জন্ম ১৯১২ সালের জানুয়ারিতে এবং মৃত্যু ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে। প্রখ্যাত এই গণসঙ্গীত শিল্পীর প্রতি আমাদের বুধবারএর শ্রদ্ধা।)

গুরু একজন নয়, গণসমষ্টি

আনু মুহাম্মদ

last 2হেমাঙ্গ বিশ্বাসের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই তাঁর গানের সাথে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে, সেগুলো আমাদের সক্রিয়তার অংশই ছিল। তাঁর সঙ্গে কথা বলার এবং মুখোমুখি তাঁর কন্ঠে গান শোনার সুযোগ হয়েছিল ১৯৮১ সালে, যখন তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেইসময় অনেকগুলো কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও দলসহ তাঁকে নিয়ে একটা অনুষ্ঠান করেছিলাম। তখন বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের যে গণনাট্যদল ছিল সেখানে প্রধানত হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গানই গাওয়া হত। সেসময় আজফার আজিজ এবং কামরুদ্দীন আবসার এই গানগুলো আমাদের কৃষক, শ্রমিক ও সাংস্কৃতিক সমাবেশে গাইতেন। বিস্তারিত »

মুক্ত চিন্তা আর জ্ঞান নিষিদ্ধে স্বৈরাচারের ভূমিকা নিয়ে চলচ্চিত্র

ফ্লোরা সরকার

last 6ফ্রাসোয়া ক্রফোর ফারহেনহাইট ফোর ফিফটি ওয়ানএবং নবারুণ ভট্রাচার্যের খেলনানগরযেন ভিন্ন বয়ানে এক হিম শীতল নগরের গল্প বলে। ফারহেনহাইট ছবির শহর এবং খেলনানগর গল্পের শহর যেন একই শহর। দুটোতেই কোন জনমানবের চিহ্ন আমরা পাইনা। যেসব মানুষকে পাই, তারা যেন সব খেলনা পুতুলের মতো ঘোরফেরা করে। দম দেয়া পুতুলের মতো তারা রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলে। খেলনা নগর এমনই এক হিম শীতল নগর যেখানে খুন, গুম হয়ে গেলেও কেউ মুখ খোলেনা। বিষাক্ত নদীর পানি পান করে তারা বেঁচে থাকে। তাই একটা চরিত্রের মুখে আমরা বলতে শুনি খেলনানগরে কখনও বোমা পড়বে না। হয়ত আমরা ধুঁকে ধুঁকে মরব। কিন্তু বোমায় পুড়ে মরতে হবেনা।যেসব খুন,গুম হয়, সেসব ঘটনা বহু বহু বছর পর এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয় যখন তার প্রকাশঅপ্রকাশের মাঝে কোনো ভেদ থাকেনা। কিছু যায় আসেনা। তবে অন্যায় দেখে যাওয়া এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মতো মানুষ সব যুগে সব স্থানে থাকে। অধিকাংশ মানুষই অন্যায় দেখে যায়, সাহসের অভাবে। বিস্তারিত »

উত্তাল ষাটের দশক (দ্বাদশ পর্ব)

বৈরীকালে পূর্ব বাংলার সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন

হায়দার আকবর খান রনো

last 4যখন কোন জাতির মধ্যে জাগরণ দেখা দেয়, তখন সেই জাগরণ সর্বক্ষেত্রে বিস্তার লাভ করে। ষাটের দশক ছিল রাজনৈতিকভাবে উত্তাল দশক। উত্তাল জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পাশাপাশি শ্রমিক, কৃষকের উত্থানও ঘটেছিল। ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা তো ছিলই। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন ও জাগরণও ষাটের দশকে পরিলক্ষিত হয়েছিল।

৪৭ সালে ইসলামী তমদ্দুনের যে স্রোত বাঙ্গালী সত্তাকে মুছে দিতে চেয়েছিল, পঞ্চাশের দশকেই সেই স্রোত প্রায় হারিয়ে গিয়েছিল। ১৯৫৬ সালেই অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বাংলার স্বীকৃতি এসেছিল পাকিস্তানের সংবিধানে। তবু বাংলা বিদ্বেষী আইয়ুব সরকার চেয়েছিল বাংলার সংস্কৃতিকে হিন্দু সংস্কৃতি বলে, বিজাতীয় সংস্কৃতি বলে বাতিল করতে। বিস্তারিত »