Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 12)

শিল্প-সংস্কৃতি

অন্য দৃষ্টিতে দেখা যুদ্ধের ছবি – ফার ফ্রম আফগানিস্তান

ফ্লোরা সরকার

last 7কাজটা শেষ পর্যন্ত পশ্চিমের হাত দিয়েই ঘটাতে হলো। কেননা, যাদের হাত দিয়ে ঘটার কথা ছিলো, ঘটা উচিত তা কখনোই ঘটেনা। সাম্রাজ্যবাদ এমন এক শক্তি যা তাদের ঘটতে দেয়না, তারাও সাহস করেননা। তবে ঘটনাটা ঘটেছে ঠিক যেমন ভাবে ঘটাতে হয়েছিলো ১৯৬৭ সালে নির্মিত ‘ফার ফ্রম ভিয়েতনাম’, একই ভাবে নির্মিত হলো ২০১২ সালে ‘ফার ফ্রম আফগানিস্তান’ নামক প্রামাণ্য ছবি। যদিও ফার ফ্রম আফগানিস্তান, ফার ফ্রম ভিয়েনাম ছবির উদ্দীপনা থেকে নির্মিত, তবু দুটো ছবির প্রেক্ষাপট, স্থান, কাল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু উদ্দেশ্য এক। সাম্রাজ্যবাদী দেশ আমেরিকা তার সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে যেকোনো ছলচাতুরি নিতে যে কোনো কাপর্ণ্য বোধ করেনা, সেটা তুলে ধরা। তা কমিউনিস্ট নিধন হোক বা সান্ত্রাস দমনের নামে হোক। নতুন বোতলে পুরনো মদের মতো যুদ্ধের নাম পরিবর্তন করা হলেও উদ্দেশ্য থাকে এক ও অভিন্ন এবং তা হচ্ছে সাম্রাজ্য বিস্তার। পৃথিবীর সব দেশের সাধারণ জনগণ, রাজনীতি কর্তৃক গঠিত অর্থনৈতিক সংকট, নানান ধরণের ত্যাগ স্বীকার, অবৈধ সম্পদের পাহাড়, দুনীর্তি, সেনা আগ্রাসন, অনন্ত মিথ্যাচার ইত্যাদি নিয়ে চিন্তিত থাকেন। বিস্তারিত »

শিল্পীর স্বাধীনতা দলীয় আনুগত্য এবং ন্যান্সি প্রসঙ্গ

ফ্লোরা সরকার

last 6একজন শিল্পী বিধাতা নন, তবে বিধাতার কাছাকাছি তার বসবাস। শিল্পীর কোনো দেশকালপাত্র নেই, কোনো সীমানা প্রাচীর নেই, সর্বত্র তার বিচরণ। শিল্পীর গায়ে কোনো তকমা বা লেবেল আঁটা থাকেনা, তার একটাই লেবেল তিনি একজন শ্রদ্ধেয় শিল্পী। যদি তাই না হবে তাহলে মাইকেল জ্যাকসান কেন এতো জনপ্রিয় হন বা আমাদের গান “আমায় ভাসাইলে রে, আমায় ডুবাইলিরে…” ভারত ভিত্তিক কোকস্টুডিওতে রিমেক করা হয়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে একজন শিল্পী বা শিল্পকর্ম শুধু জাতীয় সম্পদই নয় আন্তর্জাতিক সম্পদ। একজন শিল্পী একদিনে গড়ে ওঠেন না যেমন গড়ে ওঠেন না একজন বিদ্বান মানুষ। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একজন শিল্পীকে শিল্পীর মতো শিল্পী হয়ে উঠতে হয়। একটি দেশকে শুধু তার আর্থিক, রাজনৈতিক, সামাজিক অবস্থান দিয়ে চেনা যায়না। তাকে চিন্তে হলে তার শিল্প, সংস্কৃতি, আচার, ব্যবহার দিয়েও চিনে নিতে হয়। বিস্তারিত »

বিভক্তি আর বিভক্তির দেয়ালের প্যালেস্টাইনি রাজনৈতিক ছবি – ওমর

ফ্লোরা সরকার

last 6ওমর” ছবির প্রথম দৃশ্যে প্যালেস্টাইনের পশ্চিম তীর অঞ্চলের ভীষণ উঁচু ‘ওলান্দিয়া ’ প্রাচীর বেয়ে ছবির নায়ক, ওমরকে উঠতে দেখা যায়। দেয়াল বেয়ে ওঠার এই দৃশ্য শুধু একটি সাধারণ দেয়াল হয়েই দাঁড়িয়ে থাকেনা। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ভৌগলিক ভাঙ্গনের দেয়াল, বিভেদের দেয়াল, কোন্দলের দেয়াল। যে কোন্দল শুধু পাশাপাশি দুটো দেশের কোন্দল নয়, একই দেশের বিশেষত ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভেতর কীভবে এই দেয়াল কোন্দলের সৃষ্টি করে তা দেখায় যা ছবির মূল বিষয়ের দিকে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। বার্লিন প্রাচীর যেভাবে আদর্শগত বিভেদের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, ওলান্দিয়ার প্রাচীর আদর্শ ছাড়িয়ে আরো বৃহত্তর পরিমন্ডলের দিকে আমাদের ইঙ্গিত করে। অথচ এই দেয়াল বেয়েই ওমরকে প্রায়ই তার প্রেমিকা নাদজাকে দেখতে যেতে হয়। কারণ ওমর থাকে ইসরাইল অধিকৃত প্যালেস্টাইন অংশে আর নাদজা মুক্ত অঞ্চলে। ছবিতে বার বার এই দেয়াল বেয়ে ওঠার দৃশ্যটি আমাদের ভাবিয়ে তোলে। বিস্তারিত »

ভারতীয় টিভি চ্যানেল :: বন্ধ দাবির যৌক্তিকতা

ফ্লোরা সরকার

last 6১৭৭৬ সালে অ্যাডাম স্মিথের “অদৃশ্য হাত” এর হাত ধরে, ১৯৯৪ সালের ডব্লিউটিওর মাধ্যমে ধনীদরিদ্র ও শিল্পোন্নত দেশসমূহ নির্বিশেষে অবাধ বা মুক্ত বাজারে প্রবেশ করে। মাঝের সময়টিতে ১৮৭০, ১৯৩০ এর দীর্ঘকালীন মহামন্দা, এর কাছাকাছি সময়ে সমাজতন্ত্রের উত্থান, ১৯৯০ এর দশকে সমাজতন্ত্রের পতনের চড়াই উৎরাইয়ের পর, পশ্চিমের শক্তিশালী দেশগুলো স্থির সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছায় যে, অ্যাডাম স্মিথের “অদৃশ্য হাত” এর তত্ত্বই ছিলো সঠিক। কোন পণ্য কত দামে বেচাকেনা হবে তা সরকার নয়, চাহিদা এবং যোগানের অদৃশ্য হাতের মাধ্যমে তা নির্ধারিত হবে। বিস্তারিত »

ইসরাইলি চলচ্চিত্র প্রযোজকের গুপ্তচরবৃত্তির তথ্য

ফ্লোরা সরকার

last 6বর্তমান বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ বানিজ্যের নাম অস্ত্র বানিজ্য। বিশেষত পারমাণবিক অস্ত্র। মনুষ্য সমাজকে এক নিমেষে নিমূর্ল করার অন্যতম লাভজনক বানিজ্য। এটা এমন এক বানিজ্যযা যুদ্ধ ছাড়াই চলে এর বেচাকেনা, কেননা এখন আর শক্তিধর রাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রয়োজন হয়না, যুদ্ধের নামে চলে আগ্রাসন। এটা এমন এক বানিজ্য যা চলে নিরবে, নিভৃতে। এমন বানিজ্য, যা নিয়ে মানুষ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করে না। জেনেও না জানার ভান করে। শুধু তাই না, জানাজানি হয়ে গেলেও সেই অস্ত্রব্যবসায়ী সদর্পে বলে ওঠেন – “ফাক ইউ!” বিস্তারিত »

জন লেননের প্রগতিশীলতা

ফাহিম ইবনে সারওয়ার

last 7জন লেনন আর বিটলস জড়িয়ে আছে একে অপরের সাথে গভীরভাবে এবং সে কথাগুলো এখনো মনে আছে অনেকের। ৬০এর দশকে একদিকে জন লেননের তরতর করে বেড়ে ওঠা অন্যদিকে বিটলস গঠন নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। জন লেনন ওই ৬০এর দশকেই প্রথমে জড়িয়ে গেলেন প্রগতিশীল ধারার সাথে। তিনি গাইলেন, গিভ পিস এ চান্স এবং ওয়ার্কিং ক্লাস হিরোর মতো বিখ্যাত গান। পরে আয়ারল্যান্ডের বৃটিশ আধিপত্যের বিরুদ্ধেও তিনি জোরালো ভূমিকা রাখেন। ৬০এর দশকের প্রগতিশীলতার চিন্তা তার মধ্যে বজায় ছিল ৭০এর দশকেও। কিন্তু জন লেননও ৬০এর দশকের অনেকের মতোই দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়লেন। পরবর্তীকালে তিনি তার বাম প্রগতিশীল চিন্তা ও কর্মকানিয়ে ভেবেছেন এবং এক পর্যায়ে এ ব্যাপারে চুপচাপই হয়ে গেলেন। মুরিস হিন্ডলে তার সম্পর্কে বলেছেন, ‘প্রগতিশীল বাম ঘরানার সাথে যুক্ত থাকার জন্য জন লেনন একসময় আফসোস করেছেন। বিস্তারিত »

কবি-কবিতা আর প্রেমের ছবি ‘ইল পাসতিনো :: দ্য পোস্টম্যান’

ফ্লোরা সরকার

last 8বাস্তবতার এক নান্দনিক রূপ দ্য পোস্টম্যান। বাস্তবতার এই নান্দনিক রূপ আমাদের ভিন্ন এক নান্দনিক স্বাদ এনে দেয়। বাস্তবকে আমরা দেখতে শিখি সুন্দরের জায়গা থেকে। বস্তুজগত যা দিতে পারেনা, সৌন্দর্য্য তা দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এই ছবির বাস্তবতার সাথে আজকের পৃথিবীর বাস্তবতার খুব বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যাবেনা। বর্তমানের অতিদ্রুতগতির বাস্তবের চাইতে পোস্টম্যানের পৃথিবীর বাস্তবতা শ্লথ হলেও তা প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ। সাধারণ এক গল্প নিয়ে ছবির কাহিনী আবর্তিত। গল্পের সাধারণত্বের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়া হয়েছে তার স্থান,কাল এবং চরিত্র। পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত কবি, পাবলো নেরুদা নির্বাসনে এসেছেন ইতালির অপূর্ব প্রকৃতিক পরিবেশ সমন্বিত, বিশাল সমুদ্র বেষ্টিত এক প্রত্যন্ত দ্বীপে। যে দ্বীপে জেলেদের সংখ্যাধিক্য। সহজ সরল যাদের জীবনযাপন। তার চাইতেও সরল ছবির নায়ক মারিও রুপোলোকে আমরা পাই ছবির শুরু থেকে। সে তার বাবার মতো জেলে জীবন যাপন করতে চায়না, পোস্টঅফিসে খন্ডকালীন চাকরিতে যোগ দেয়। এখান থেকেই শুরু হয় কাহিনী। বিস্তারিত »