Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 16)

শিল্প-সংস্কৃতি

“দ্য কোলাবরেশন” – স্বৈরাচার এবং দোসরদের স্বরূপ উন্মোচন (প্রথম পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

lastপৃথিবীর প্রায় সব স্বৈরতন্ত্রের ইতিহাস মাঝে মাঝে মনে হয় কোনো মহাফেজখানার হিমাগারে জমাট বেঁধে আছে। হয়তো অনুদঘাটিত তার অনেক ঘটনা উদঘাটনের দিকে কেউ মনোনিবেশ করছে না বা করবে না। পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিপুল বিনোদনের মাঝে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার, ভিডিও গেমের চাকচিক্যময় গোলক ধাঁধায় মানুষ বেশ আছে। চিন্তাভাবনাহীন এক অনিশ্চিত গন্তব্য। কিন্তু কেউ কেউ থাকেন, যারা মহাফেজখানার সেই হিমাগারে বিচরণ করেন, উদঘাটন করেন শুধু স্বৈরশাসকদের কৃতকর্মগুলোই নয়, সেই সঙ্গে উদঘাটন করেন সেসব কর্মে সঙ্গে জড়িত বা সংশ্লিষ্ট সহযোগী বা দোসরদের। পৃথিবীর যেকোনো ঘটনার পেছনে সহযোগিদের ভূমিকা থাকে অনেকটা পার্শ্বচরিত্রের মতো। মূল চরিত্রকে ছাপিয়ে সে সামনে আসেনা। এই আপাত নিরীহ এই দোসরদের কোন ভুল বা ক্রটি তাই সাদা চোখে দেখা যায় না। কিন্তু দৃষ্টি প্রসারণের সেই কাজটিই করেছেন গত বছর অস্ট্রেলীয় বংশদ্ভূত লেখক এবং হার্ভাড ইউনিভার্সিটির জুনিয়র ফেলো বেন আরওয়ান্ড। বিস্তারিত »

ইতিহাস বিকৃতির ছবি গুন্ডে এবং ‘ওদের’ অপচেষ্টা

ফ্লোরা সরকার

last 6সাধারণত যার মাথা তারই ব্যথা হবার কথা, কিন্তু বলিউডের সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ইয়াশ রাজ ফিল্মস্ এর ব্যানারে নির্মিত ও আলী আব্বাস জাফরের চিত্রনাট্য ও পরিচালিত ছবি “গুন্ডের” ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটতে দেখা গেলো। ছবিটি নির্মিত হলো ভারতে আর তার প্রতিক্রিয়া ঘটলো বাংলাদেশে। ইতিহাস যখন শুধুমাত্র মিথ্যে দিয়ে নয়, বিকৃত করে চিত্রিত বা রচিত হয় তখনই এমন ঘটনা ঘটে থাকে। ভারতের নির্মিত এই ছবি তাই বাংলাদেশের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব থেকে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ছবির যেভাবে সমাপ্তি টানা হয়েছে তা শুরুর থেকেও যেনো আরো প্রশ্নবোধকে রূপান্তরিত হয়েছে। সেখানে যাবার আগে আমরা ছবির শুরু থেকেই আলোচনায় যেতে পারি। বিস্তারিত »

বাঙালির সংস্কৃতি

আহমদ শরীফ

bangali-cultureঅন্যান্য প্রাণী ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য এই যে, অন্য প্রাণী প্রকৃতির অনুগত জীবন ধারণ করে আর মানুষ নিজের জীবন রচনা করে। প্রকৃতিকে জয় করে, বশীভূত করে প্রকৃতির প্রভু হয়ে সে কৃত্রিম জীবনযাপন করে ই তার সংস্কৃতি ও সভ্যতা। অতএব, এইভাবে জীবন রচনা করার নৈপুণ্যই সংস্কৃতি। স্বল্প কথায় সুন্দর ও সামগ্রিক জীবনচেতনাই সংস্কৃতি। বিস্তারিত »

টুয়েলভ ইয়ার্স এ স্লেভ :: দাসত্বের ভূত আজও তাড়া করে ফেরে

ফ্লোরা সরকার

Adobe Photoshop PDFঔপনিবেশিক শক্তির আধিপত্যবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিলো যারা উপনিবেশবাদের শিকার তাদের মানসিক জগত। উপনিবেশ শোষিত সমাজ কিভাবে,কোন্ দৃষ্টিতে নিজেদেরকে দেখে এবং জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে কোন সংস্কৃতির মাধ্যমে অবলোকন করে তার নিয়ন্ত্রণ নেয়াটাও ছিলো ঔপনিবেশিক শক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য। মানসিক নিয়ন্ত্রণকে বাদ দিয়ে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কখনোই পরিপূর্ণ ও ফলপ্রসূ হয়না” কেনিয়ার বরেণ্য সাহিত্যিক ও লেখক নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গোর “ডিকলোনাইজিং দ্য মাইন্ড”। ঠিক একইভাবে ১৬২০ থেকে ১৮৬৫ অর্থাৎ ২৪৫ বছরের দীর্ঘ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাসপ্রথা প্রচলিত সমাজে, যে সময়ের শেষ ৮৫ বছর এই সমাজ ব্রিটিশ উপনিবেশভুক্ত ছিলো, সবটা সময় জুড়ে দাসমালিক সম্পর্কে, মানুষকে বোঝানো হতো এই বলে যে, পৃথিবীর কিছু মানুষ দাস হয়ে জন্মায় কিছু মালিক হয়ে, কিছু উঁচু কিছু নিচু হয়ে। আর এভাবেই দাসদের শারীরিক ভাবে প্রস্তুতির পাশাপাশি মানসিক ভাবেও প্রস্তুত করা হতো।

এবারের অস্কার মনোনীত অন্যতম ছবি “টুয়েলভ ইয়ার্স এ স্লেভ” এ দাসদের এই মানসিক প্রস্তুতির বেশকিছু দৃশ্য দেখা যায়। বিস্তারিত »

একজন অনিচ্ছুক মৌলবাদীর গল্প – দ্য রিলাকট্যান্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট

ফ্লোরা সরকার

the reluctant fundamentalistদ্য রিলাকট্যান্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট (The Reluctant Fundamentalist)যদি গত শতাব্দীর ষাটের দশকে উপন্যাস আকারে লিখিত অথবা চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মিত হতো তাহলে ছবির নামটা হয়তো হতো The Reluctant Communist। কারণ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্যে সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিবাদী দেশের কোনো না কোনো শক্রুর প্রয়োজন। গত শতাব্দীতে যে শত্রুর নাম ছিলো “কমিউনিস্ট”। এই শতাব্দীতে সেই শত্রুর নাম হয়েছে “ফানডামেন্টালিস্ট” বা “মৌলবাদী”। মৌলবাদ অন্দোলনের উত্থানের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় এর উত্থান ঘটেছিলো প্রধানত ডারউইনিনের মতবাদকে কেন্দ্র করে। “ফানডামেন্টালিস্ট” শব্দটি প্রথম সম্ভবত ব্যবহৃত হয় ১৯২০ সালে ব্যাপটিস্ট ওয়াচম্যান একজামিনার পত্রিকায়। বিস্তারিত »

ব্লাড ডায়মন্ড – যে গৃহযুদ্ধে মূল হোতাদের কোনোই ক্ষতি হয় না

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

ফ্লোরা সরকার

siera-leon-warগবেষক সো ইউয়ুং জাংয়ের বিশ্লেষণের আগে সিয়ারা লিয়নের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জেনে নেয়া যাক। সিয়ারা লিয়নের আধুনিক ইতিহাস গড়ে উঠেছে ১৭৮৭ সাল থেকে, যখন ব্রিটিশ বাহিনী এখানে উপনিবেশ গড়া শুরু করে। তার আগে পর্তুগিজ বাহিনীর আগমন ঘটে ১৪৬২ সালে। ১৮০৮ এর মধ্যেই দেশটি সরাসরি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অধীনে চলে আসে। ২০ এপ্রিল ১৯৬০ এ স্যার মিল্টন মারগাই (যাকে ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন সংবিধানের আওতায় প্রধানমন্ত্রিত্ব প্রদান করা হয়) এর নেতৃত্বে চব্বিশ সদস্যের একটি দল লন্ডনের ল্যানসেসটার হলে সমবেত হন দেশটির স্বাধীনতাপ্রাপ্তির উদ্দেশ্য নিয়ে। বিস্তারিত »

ব্লাড ডায়মন্ড – একটি নৃশংস গৃহযুদ্ধের ইতিবৃত্ত

ফ্লোরা সরকার

blood-diamondপশ্চিম আফ্রিকার সিয়ারালিয়ন দেশটিতে কি ছিলো? জাতিগত বিদ্বেষ? উত্তরউপনিবেশ প্রভাবিত শাসনব্যবস্থা? সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা? নাকি পৃথিবীর সবথেকে বহুমূল্যবান রত্ন ‘হীরার খনি’ র অভিশাপ যে কারণে ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত দেশটিতে সংঘঠিত হয় এই শতাব্দির অন্যতম ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ? যে যুদ্ধে প্রায় পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয় আর দশহাজারের উপর মানুষকে বরণ করতে হয় পঙ্গুত্ব? নিখোঁজ হয় ছয় থেকে আট হাজারের মতো শিশু? হাজার হাজার মানুষকে শরণার্থী হতে হয় গিনিয়া এবং লাইবেরিয়ায়? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাাদিক গ্রেগ ক্যাম্বেল ২০০১ সালে দেশটিতে গিয়ে সরেজমিনে বিষয়টি দেখার পর ২০০২ সালে প্রকাশ করেন তার অন্যতম বই “Blood Diamond – Tracing the deadly path of the world’s most precious stones”। যে বইটির উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ২০০৬ সালে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র – “ব্লাড ডায়মন্ড”। বিস্তারিত »