Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 17)

শিল্প-সংস্কৃতি

“স্বৈরাচার” – সেকাল একাল

ফ্লোরা সরকার

charlie-chaplinচার্লি চ্যাপলিনের “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” ছবির শেষ অংশে চ্যাপলিন একজন স্বৈরশাসক নয় প্রকৃত একজন শাসকের মনোমুগ্ধকর দীর্ঘ একটি ভাষণের মাধ্যমে ছবির সমাপ্তি ঘটান। তার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো – “আমি খুব দুঃখিত, আমি সম্রাট হতে চাই না। সেটা আমার কাজ না—- আমি সবাইকে সহায়তা করতে চাই ইহুদি, সকল গেষ্ঠি বা জাতি, কালো, সাদা। আমরা সবাইকে সহায়তা করতে চাই। আর সেটাই প্রকৃত মানুষের কাজ। আমরা সকলের সঙ্গে আনন্দে থাকতে চাই, দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে নয়। এই পৃথিবী সকলের। মানুষে জীবন সৌন্দর্যমন্ডিত এবং মুক্তস্বাধীন, কিন্তু আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। বিস্তারিত »

‘নির্বাচন’ নিয়ে চলচ্চিত্র – ‘সিক্রেট ব্যালট’

ফ্লোরা সরকার

secret-ballotএকদিনের গল্প। নির্বাচনের দিন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোট গ্রহণ। ভোট গ্রহণ শেষ, ছবিও শেষ। কিন্তু ২০০১ সালে ইরানের চলচ্চিত্রকার বাবাক পায়ামি নির্মিত “সিক্রেট ব্যালট” ছবিটি দর্শককে তিনটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় . গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত বা ২. গণন্ত্রের পথে সংগ্রামরত বা ৩. আমজনতার কাছে গণতন্ত্র তাৎপর্যহীন একটি বিষয়। ছবিটি দেখার সময় এই তিনটি প্রত্যয়ের কোনটিতেই দর্শক কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেননা। অথচ একদিনের ভোট গ্রহণের মধ্যে দিয়ে পরিচালক বাবাক পায়ামি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন অর্থাৎ প্রতিনিধিত্বশীতার এই আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সাম্য অর্জন কতদূর পর্যন্ত প্রসারিত করা যায় বা আদৌ যায় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ জনগণের কাছে এই গণতন্ত্র কতটুকু অর্থ বহন করে তারও নজির রেখে দেন ছবিটিতে। গণতন্ত্র যেহেতু একটি সুদূর প্রসারিত পথ, অধিকার আদায়ের একটি অনন্ত পথরেখা ছবিটি তাই শেষ হয়েও যেন শেষ হয়না। ছবি শেষ হয়ে যায় দর্শক স্তব্ধ হয়ে বসে থাকেন। বসে থাকেন আর ভাবেন। ভাবনার এই নানা দিক নিয়ে তাই ছবির আলোচনাও হয়ে ওঠে বর্তমান বাংলাদেশের এই সংকটপূর্ণ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। বিস্তারিত »

টেলি-ভীষণ :: ক্ষমতাসীনদের বন্দনার বাক্স

ফ্লোরা সরকার

democracyচার্লস ডিকেন্সের “হার্ড টাইমস” উপন্যাসের মি.গ্র্যাডগ্রিন্ড স্কুলঘরের একটা ফাঁকা, সাদামাটা, একঘেয়ে জায়গায় তার চৌকো আঙুল দিয়ে মাস্টারমশাইয়ের আস্তিনে দাগ কেটে কেটে বললেন – “—জীবনে আমরা তথ্য ছাড়া আর কিছুই চাই না,স্যার, তথ্য ছাড়া আর কিছুই চাইনা।” প্রশ্ন হলো তথ্যের প্রতি কেনো এই বিবমিষা? যেখানে তথ্য অধিকার আইনের জন্যে সারা পৃথিবীময় মানুষ লড়ে যাচ্ছে, তথ্য যেখানে বৃহৎ শক্তি বা ক্ষমতা হিসেবে বিরাজ করছে, হাইটেক যুগের এই সময়ে উন্মুক্ত দ্বার দিয়ে তথ্যের অবাধ চলাফেরার গতি যেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত,সেখানে তথ্যের প্রতি এই ব্যঙ্গ আমাদের বিচলিত করে বটে। বিস্তারিত »

ক্ষমতা আর নির্যাতনের প্রামাণ্যচিত্র – ‘দ্য টল ম্যান’

(পুনঃমুদ্রণ…)

ফ্লোরা সরকার

cravits২০০৪ সালের ১৯ নভেম্বর। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পূর্ণ ছোট্ট দ্বীপ পাম। সেই দ্বীপের অস্ট্রেলিয়ান এক আদিবাসী নাম ক্যামেরন দুমেগি। অন্যান্য দিনের মতো মাছ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে ক্যামেরন দেখেন এক আদিবাসীকে দুজন পুলিশ (দুজনের মধ্যে একজন আদিবাসী পুলিশ ছিলেন) গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা দেখে ক্যামেরন নিজেকে সংযত রাখতে পারলেন না। কর্তব্যরত সিনিয়ার পুলিশ সার্জেন ক্রিস হার্লির সামনে সেই আদিবাসী পুলিশকে অভিসম্পাত দিতে থাকেন। সার্জেন তখন তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বিস্তারিত »

সময়ের সাক্ষী – ‘আবার তোরা মানুষ হ’

ফ্লোরা সরকার

khan-ataur-rahmanযেকোন ঐতিহাসিক ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানচেতনা এবং কালচেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যদিও “আবার তোরা মানুষ হ” ছবিটি তার সমসাময়িক কালের এবং স্থানের একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র, কিন্তু সমকাল ও স্থানকে এমন নিপূণ ভাবে ধারণ করার ফলে ছবিটি আজকের বাংলাদেশের একটি “ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে” রূপান্তরিত হয়ে গেছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এই অর্থে যুদ্ধ বিধস্ত দেশের যে করুণ চিত্র ছবিটিতে আঁকা হয়েছে সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই বিধস্ত রূপ ক্রমেই আজকের বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা বিধক্ষংসী রূপ পরিগ্রহ হতে দেখা যাচ্ছে। ফলে ছবিটি তার সময়কালে শুধু স্থির থাকেনি, সময়ের অগ্রগামী একটি চিত্র তুলে ধরতে আমাদের আরো সহায়তা করেছে। বিস্তারিত »

ভয়ঙ্কর স্বৈর-সন্ত্রাসের দলিল – আলব্যেয়ার কামু’র দ্য প্লেগ

ফ্লোরা সরকার

the-plague১৯৪৭ সালে আলব্যেয়ার কামু’র “দ্য প্লেগ” উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে, ফ্রান্সের প্রথিতযশ চিন্তাবিদ ও সমালোচক রোলা বার্ত তৎকালীন ফরাসি পত্রিকা “ক্লাব” এ উপন্যাসটির ওপর একটি সমালোচনা লেখেন। সেই সমালোচনার জবাবে কামু, বার্তকে একটি চিঠিতে জানান “দ্য প্লেগে আমি চেয়েছিলাম, বইটির নানাস্তরিক পাঠ চলুক —-”। এবং বলাই বাহুল্য দ্য প্লেগ মূলত নাৎসীবাদের বিরুদ্ধে ইউরোপের প্রতিরোধ আন্দোলনের একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে উপস্থাপিত হলেও তা মানবতাবিরোধী অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী শক্তির এক সর্বজনীন দলিল হিসেবে দেখা দেয়। দ্য প্লেগকে তাই যেকোন দেশে, যেকোন সময়ে, স্থাপনপুনঃস্থাপন করে অবলীলায় পাঠ করা যায়। এ যেন এক নিত্যবর্তমান, নিত্যবহমান এক অনন্ত গল্প। যে গল্পের শুরু আছে শেষ নেই। যে গল্প পাঠের সময় একজন অচেতন পাঠকও সচেতন হয়ে ওঠে। পাঠ শেষে কিছুদিন ভুলে থাকে কিন্তু আবার প্লেগ দ্বারা আক্রান্ত হলে আবার সচেতন হয়ে ওঠে। অ্যাবসার্ট তত্ত্বের এই চিন্তানায়ক জীবনের অর্থহীনতার পথ ধরে আমাদের জীবনকে আরো অর্থবহ হতে শেখান। বিস্তারিত »

নারীবাদের ভিন্ন ভাষ্যকার – ডোরিস লেসিং

ফ্লোরা সরকার

dorice-lasingবিশ্বায়নের বিশ্বে বাংলাদেশ গোটা বিশ্ব থেকে শুধু দূরে নয় পৃথক, বিচ্ছিন্ন এক অবস্থানে বসবাস করে। অফিস বা বাড়িতে একটা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এবং সেই সঙ্গে ইন্টারনেটের যোগাযোগ থাকলেই আমরা মনে করি বিশ্বায়নের কারণে অঈীভূত হয়ে আছি। কিন্তু দৃষ্টিটাকে যখন আরো প্রসারিত করতে যাই, অধিকতর স্বচ্ছতার দিকে এগিয়ে নিতে চাই, গভীরভাবে উপলব্ধি করতে চাই গোটা বিশ্ব পরিস্থিতির বিভিন্ন আঙ্গিনা, দুঃখজনক হলেও সত্য যে সেই প্রসারণ, স্বচ্ছকরণ আর গভীরতার ঘনীভবন আর হয়ে ওঠে না। ডোরিস লেসিং এর জন্ম ১৯১৯ সালের ২২ অক্টোবর। বিস্তারিত »