Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 2)

শিল্প-সংস্কৃতি

‘স্বৈরাচার স্বপ্ন দেখাকে প্রতিহত করতে পারে না’- চিত্রনির্মাতা আব্বাস কিয়ারসতামি

খ্যাতিমান, বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্যক্তিত্ব আব্বাস কিয়ারসতামি গত ৪ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই চলচ্চিত্র নির্মাতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমাদের বুধবার-এর শ্রদ্ধা

ফ্লোরা সরকার ::

“সত্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে হলে মিথ্যের পথ ডিঙ্গিয়ে যেতে হবে”-বলেছিলেন আব্বাস কিয়ারসতামি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রনির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, চিত্রকর, এডিটর, ফটোগ্রাফার,  গ্রাফিক্স ডিজাইনার, এবং প্রযোজক আব্বাস কিয়ারসতামির জন্ম ১৯৪০ সালের ২২ জুন ইরানের তেহরানে। ইরানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন আর্টস-এ গ্র্যাজুয়েশান করার পর গ্র্যাফিক ডিজাইনার এবং কমার্শিয়াল নির্মাতা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। ততদিনে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ইতালির নিউ রিয়ালিজম এবং ফরাসি নিউ ওয়েভের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে গেছে সারা বিশ্বে। সেসব ধারার জনপ্রিয়তার কারণেই হোক বা কিয়ারসতামির নিজের শৈলীর কারণে- যে কারণেই হোক না কেনো, টিভির কমার্শিয়ালে ইস্তফা দিয়ে ১৯৭০ সালে “ব্রেড অ্যান্ড অ্যালি” দিয়ে তার চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হলো। এরপর একে একে এক্সপেরিয়েন্স, দ্য ট্র্যাভেলার, দ্য ওয়েডিং স্যুট, দ্য রিপোর্ট, ওয়ের ইজ দ্য ফ্রেন্স হোম,হোমওয়ার্ক, ক্লোজ আপ,এ্যান্ড লাইফ গোজ অন, থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ এবং তার অন্যতম অনবদ্য ছবি ‘টেস্ট অফ এ চেরি’সহ আরও অনেক ছবি নির্মাণ করেন। ১৯৮৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি মেম্বার হিসেবে তাকে নির্বাচিত করা হয়। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ১৯৯৫ সালে জুরি হিসেবে ছিলেন। টেস্ট অফ চেরি এবং দ্য উইন্ড উইল ক্যারি আস যথাক্রমে কান এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে আওয়ার্ড পাওয়া ছাড়াও লাইফ টাইম এ্যাচিভমেন্টের জন্যে তাকে ২০০৫ এ ইয়েরেভেন ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিলে অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। চিত্র নির্মাতা হিসেবে অবদানের জন্যে ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে ফেলো হিসেবে সম্মাননা প্রদান করে। ২০১০ এর ৯ মার্চ তেহরানের একটি পত্রিকায় সরকারের কাছে চিঠির মাধ্যমে ইরানের স্বতন্ত্র ধারার দুজন বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক জাফার পানাহি এবং মোহাম্মদ রোজুউলফ-এর কারাবন্দী মুক্তির জন্যে আবেদন করেন। সে আবেদনের সাড়ায় পরবর্তিতে তারা মুক্তিলাভ করেন। গত ৪ জুলাই বিরল এই প্রতিভাবান মানুষটি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার  বিরল একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার সংক্ষেপিত আকারে উপস্থাপন করা হলো। বিষয়ভিত্তিক অনুসারে তার কথা বলে গেছেন তিনি ওই সাক্ষাৎকারে।

সেন্সরশিপ প্রসঙ্গে : আমার ছবির ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি বিপ্ল¬বের আগে সেন্সরশিপ আমার ছবিতে খুব একটা প্রভাব ফেলতো না। কিন্তু এটা সবার ক্ষেত্রে এরকম ঘটতো তা বলা যায় না। আসলে ইরানে ছবির সেন্সরশীপ মূলত ধর্মীয় কারণে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিশেষ করে ছবিতে নারীর হিজাব পরিধানের ক্ষেত্রে ইরানে বেশ কড়াকড়ি নিয়ম বা আইন উল্লিখিত আছে। নারীরা হিজাব ছাড়া ছবিতে অভিনয় করতে পারবে না, এমনকি ঢিলেঢালা হিজাবও পরিত্যাজ্য। তাছাড়া নারীপুরুষের স্পর্শের ব্যপারেও বিধিনিষেধ আছে। আমাদের নিজেদের অর্থাৎ চিত্রপরিচালকদের মাঝে সেন্সরশীপ নেই তা বলবো না, কিন্তু এসব বিধিনিষেধ অবলম্বন করেই আমরা আমাদের ছবি নির্মাণ করি। আর তাই আমি শুধু সেসব ছবিই নির্মাণ করি যেগুলো নির্মাণ করতে চেয়েছি। আমি কখনো স্বামী-স্ত্রী একত্রে একটি এ্যাপার্টমেন্টে বসবাসরত কোন গল্প নির্বাচন করিনা। কারণ আপনি যখন একটি ছবি নির্মাণ করেন, তখন আপনাকে সেই ছবির গল্পের প্রতি বিশ্বাস থাকতে হবে। ছবিতে আমরা সাধারণত এক সারি-বাঁধা মিথ্যের মধ্যে দিয়ে সত্যে উপনিত হই। যেমন ছবিতে যখন একটি পরিবারের কাহিনী দেখানো হয়, তখন বাস্তব কোন পরিবার উপস্থাপিত হয় না। ভিন্ন ভিন্ন নারী, পুরুষ এবং শিশু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সমন্বয়ে পরিবার গঠন করা হয়। বাস্তব পরিবারে স্ত্রী তার স্বামীর সামনে হিজাব পরিহিত অবস্থায় থাকে না। কিন্তু ছবির প্রয়োজনে আমাকে তা দেখাতে হয়। আমার ছোটবেলায় আমি কখনো আমার মাকে বাবার সামনে হিজাব পরিহিত অবস্থায় দেখিনি। কাজেই আমি যা দেখিনি তা ছবিতে উপস্থাপন করতে চাই না বলেই আমার ছবিতে সাধারণত এই ধরণের কোন গল্প রাখি না। আর এই কারণেই হয়তো অবচেতন ভাবেই আমি আমার ছবির গল্পের জন্যে গ্রাম বেছে নেই।

আমি যখন ইরানের বাইরে যাই বিশেষত পাশ্চাত্যে, তখন আমাকে সেন্সরশিপ সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, যা আমাকে খুবই বিব্রত করে। পাশ্চত্যের লোকেরা মনে করে আমরা যারা তৃতীয় বিশ্বের নির্মাতা তারা কড়া বিধি-নিষেধের সেন্সরশীপের ঘেরাটপের মধ্যে থেকে ছবি নির্মাণ করি। এটা নিয়ে যখন ভাবি তখন আমি অনুধাবন করি যে, শুধু ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে নয়, আমাদের দেশে সাধারণ নাগরিক হিসেবেও সেন্সরশিপ আরোপিত হয়ে আছে। সেন্সরশীপের যাত্রা শুরু হয় পারিবারিক পরিমন্ডল থেকে। পরিবারিক বিধি নিষেধের কারণে আমার মন যা চায় তা বলতে বা করতে পারি না। কারণ আমার অভিভাবক কোনটা ঠিক আর কোনটা ঠিক না -তা আগে থেকেই  নির্ধারণ করে দেন। বিদ্যালয় অধিকতর সেন্সরশিপের একটি জায়গা- যেখানে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলতে হয়। এবং যা আমাদের কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত প্রসারিত হতে থাকে। কাজেই আমার মনে হয় না সেন্সরশীপ আমাদের খুব একটা বিব্রত করে বা অসুবিধায় ফেলে, কারণ আমরা আমাদের মতো করে তা সামাল দিতে পারি। বিশেষত নির্মাতা হিসেবে আমরা যত বেশি বিধি নিষেধের মধ্যে পরিবেষ্টিত হই তত বেশি নতুন নতুন পন্থা এবং সমাধানের পথ নিজেরা নিজেদের মতো করে খুঁজে নেই। আমার বাবা বলতেন তোমার মাথা যদি ভাঙ্গে তবে তা যেন তোমার টুপির ভেতরেই ভাঙ্গে। কাজেই সেন্সরশিপ নিয়ে দেশের বাইরে আমি যতই কথা বলি না কেনো তা কখনো কোন সমাধান এনে দেবে না। আর তাই এই বিষয় নিয়ে দেশের বাইরে আমি কখনো কথা বলি না বা বলতে চাই না বিশেষত সাংবাদিকদের সাথে। বরং উল্টো তাদের প্রশ্ন করি- ‘তোমাদের নিজেদেরও কী কোন সেন্সরশীপ নেই?’ তাছাড় আমাদের সরকার সেন্সর আরোপের সঙ্গে ছবি নির্মাণের জন্যে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করে থাকে। ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে সেনসারের ব্যপারে আমার খুব বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় না। এর অর্থ এই নয় যে, সেন্সরশিপের পৃষ্ঠপোষকতা করি, আমি তাদের বলি তোমরা তোমাদের কাজ করো, আমরা আমাদেরটা করি। কারণ আমি জানি শেষ পর্যন্ত আমাদের কাজগুলোই (সিনেমা) টিকে থাকবে।

পাশ্চাত্যে সমাদর : দেশের বাইরে বিশেষত পাশ্চাত্যে যখন আমাদের ছবি প্রদর্শিত হয় তখন সে সব বেশ সমাদৃত হয় যা আমাদের ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জাগায়। এবং যখনই আপনার ভেতর অনুপ্রেরণা জন্মাবে আপনি তখন আরও বেশি সাহসী হয়ে উঠবেন, নতুন নতুন ধারণায় উজ্জীবিত হবেন। দেশের ভেতরে আমাদের ছবি খুব বেশি সমাদৃত না হলেও বিদেশে আমাদের ছবি বেশ সমাদৃত। তবে সেই সঙ্গে এটাও ঠিক পাশ্চাত্যের এই পৃষ্ঠপোষকতা আমার ছবির স্টাইল এবং টেকনিকের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে পারেনি। অর্থাৎ যেভাবে পাশ্চাত্য সমালোচকরা যেভাবে আশা করেন সেভাবে ছবি নির্মাণ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। কারণ, আমি যখন ছবি নির্মাণ করি তখন গল্পের বিষয়বস্তুর ওপর প্রথমে গুরুত্ব আরোপ করি। আমি মনে করি ছবির বিষয় ছবির শৈলীকে নির্মাণ করে। শৈলী বিষয়কে নির্মাণ করে না। আরও বিশ্বাস করি ছবি নির্মাণের এটাই সঠিক পদ্ধতি। পাশ্চত্য সমালোকদের বা ফেস্টিভেলের দর্শকদের ইচ্ছানুযায়ী ছবি নির্মাণ করা তাই আমার পক্ষে সম্ভব না। প্রত্যেক ছবি তার নিজস্ব প্রয়োজনানুযায়ী নির্মিত হয়।

পরিচালকের শৈলী : আমার ছবির ভালো-মন্দ দিক নিয়ে কথা বলা একটু অসুবিধাজনক, কারণ সেটা আপনারাই  ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার যা ভালো লাগে না সে বিষয়ে আমার পক্ষে বলাটা তুলনামুলকভাবে সুবিধাজনক। আমার যা ভালো লাগে না তা আপনারা আমার ছবিতে দেখতে পাবেন না। ছবিতে গল্প বলা আমার পছন্দ নয়। কারণ আমি দর্শকদের কোন ধরনের আবেগে আপ্লুত করতে বা উপদেশ দিতে পছন্দ করি না। দর্শককে খাটো করা বা অপরাধবোধে যুক্ত করা আমার ভালো লাগে না। আমি মনে করি সেই ছবি ভালো যার দীর্ঘস্থায়িত্ব আছে। হল থেকে বের হয়ে আসার পর দর্শকরা সেই ছবির বিনির্মাণ করতে থাকবে। এমন অনেক ছবি আছে যা আপাতদৃষ্টিতে ক্লান্তিকর মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে পরিচ্ছন্ন ছবি। অন্যদিকে, এমন অনেক ছবি আছে যেসব ছবি দর্শককে তীব্র ভাবে ধরে রাখে এবং সবকিছু ভুলিয়ে রাখে। কিন্তু ছবি দেখা শেষ হলে পরে দর্শক বুঝতে সে ভীষণভাবে প্রতারিত হয়েছে। এসব ছবি দর্শককে পণবন্দি করে রাখে। এ ধরণের ছবি আমার একদম পছন্দ নয়। কিছু ছবি মনে এমন ভাবে দাগ কাটে যে, সেই ছবির অর্থদ্ধারের লক্ষ্যে মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। এমনকি সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেই ছবি নিয়ে ভাবতে থাকি। এই ধরণের ছবি আমার অত্যন্ত পছন্দীয়।

ছবির চরিত্রাবলী : অনেকে বলে থাকেন আমার ছবির চরিত্রগুলি অস্বাভাবিক। প্রচলিত প্রথার বাইরের চরিত্র। যেমন ‘দ্য ট্র্যাভেলার’ এর ছোট্ট শিশুটি, ‘দ্য রিপোর্ট’ ছবির মি.ফিরোজ কুহি, ‘ক্লোজ আপ’ এর হোসেইন সাবজাইন বা ‘থ্রু দ্য অলিভ ট্রিজ’ এর হোসেন চরিত্র। যেহেতু সমাজের সব চরিত্রকে একত্রে ক্যামেরা বন্দী করা সম্ভব নয়, তাই আমাকে সমাজের বিশেষ ধরণের মানুষটিকে খুঁজে নিতে হয় বা কোন ব্যতিক্রমী পরিবেশের খুব সাধারণ মানুষ। তাদের সেই বিশেষত্ত্বটা কি ? বিশেষত্ত্বটা হচ্ছে – ছবির ঐ বিশেষ চরিত্রের মানুষটি, ঠিক আমাদের মতোই এবং আমি মনে করি এই কারণেই একজন চিত্রপরিচালক সেসব খুঁজে ছবি নির্মাণ করেন।

বাস্তব এবং বিভ্রম : বাস্তব এবং বিভ্রমের মাঝে পার্থক্যের বিষয়টি এতো জটিল এবং বিশাল যে আমি ভেবে পাই না কোত্থেকে শুরু করবো। আমার কর্মক্ষেত্র এবং আমার জীবনের কতটুকু অংশ বাস্তব এবং কতটুকু অংশ কাল্পনিক, এই অভিজ্ঞতা কীভাবে আমি অর্জন করেছি তা বলতে পারবো না। শুধু চিত্রপরিচালক হিসেবে নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও এই খেলাটি অর্থাৎ একবার কল্পনা থেকে বাস্তব, আবার বাস্তব থেকে কল্পনা, আবার বাস্তবে ইতস্ততভাবে ঘোরাঘুরি করে। এই বিষয়টি শুধু চিত্রপরিচালক বা বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রেই নয় সাধারণ মানুষের মাঝেও একই ভাবে অনুভূতি হয়। মানব চরিত্রের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘স্বপ্ন দেখার যোগ্যতা অর্জন’ করা। যদিও প্রত্যেকেই আমরা কমবেশি স্বপ্ন দেখি কিন্তু খুব কম মানুষই স্বপ্নের কথা বলতে পারি অর্থাৎ বাস্তবায়ন করতে পারি। মানব জীবনের সব থেকে স্বতন্ত্র এবং বিশেষ অবদান হচ্ছে কল্পনা করার ক্ষমতা অর্জন করা। আমরা আমাদের অন্যান্য অনুভূতি যেমন – দেখা, শোনা এবং স্বাদ এসব ব্যপারে অত্যন্ত সচেতন এবং কৃতজ্ঞ। কিন্তু কল্পনার মাধ্যমে কত অমেয় পরিমাণ সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে তা কখনো অনুধাবন করি না। স্বপ্নের কাজ কী ? স্বপ্নের আগমন কোত্থেকে উদয় হয় ? আমরা স্বপ্ন দেখতে সক্ষম কেনো? এবং কেনো অবশ্যম্ভাবী ভাবে আমরা স্বপ্ন দেখবো? স্বপ্ন যদি আমাদের জীবনে কোন কাজেই না লাগে তবে স্বপ্ন দেখার কি কারণ থাকতে পারে?   তবে শেষ পর্যন্ত একটা কারণ আমি পেয়েছি। আর তা হচ্ছে -আমরা কখন স্বপ্নকে অবলম্বন করি? যখন আমরা আমাদের পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে অসুখী হয়ে পড়ি এবং কত বিস্ময়কর ভাবে সত্য হয় যে, পৃথিবীর কোন স্বৈরাচারও এই স্বপ্ন দেখাকে প্রতিহত করতে পারে না। পৃথিবীর কোন আইন দিয়ে মানুষের এই কাল্পনিক অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মানুষ তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে যায়। শুধুমাত্র ফ্যান্টাসি বা কল্পনা দিয়েই আপনি জীবনের অলংঘ দেয়াল পার করতে পারেন। সেই দেয়াল পার হবেন, আবার পেছন ফিরে চাইবেন। এই পেছন ফিরে চাওয়াটাই বাস্তবতা; অর্থাৎ আপনার স্বপ্নকে কতটুকু আপনি বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন আর কতটুকু পারেননি। প্রকৃত পক্ষে একমাত্র স্বপ্ন বা কল্পনাই আপনাকে আপনার কঠিন জীবন থেকে নিস্কৃতি দিতে পারে, আপনাকে নতুন ঔজ্জ্বল্যে উদ্দীপিত করতে পারে, সেই উদ্দীপনায় আপনাকে সেই স্বপের বাস্তবায়নের দিকে চালিত করে তা বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলতে পারে। আর এভাবেই বাস্তব আর কল্পনায় আমাদের যাওয়া আর আসা চলে। কল্পনা হচ্ছে বাস্তব একটি বদ্ধ ঘরের জানালার মতো। মাঝে মাঝে সেই জানালা খুলবেন পরিপূর্ণ নিশ্বাস নেয়ার জন্যে। আর সিনেমা হচ্ছে আমাদের বদ্ধ বাস্তবতার সেই জানালাটি।

নজরদারির নামে নাগরিক স্বাধীনতাহরণ : প্রামাণ্যছবি ‘সিটিজেন ফোর’

ফ্লোরা সরকার ::
২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধ ভিত্তিক ছবি “মাই কানট্রি মাই কানট্রি” নির্মিত হবার পর থেকেই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা লরা পোয়েট্রাস আমেরিকান সরকারের নজরে চলে আসেন। তার প্রতিটি কাজ-কর্ম, চলাফেরার উপর শুধু নজরদারিই করা হয়না সেই সঙ্গে ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্য ৫১ বছর বয়সি এই নির্মাতাকে ৫০ বারেরও বেশি বিভিন্ন সময়ে দেশের সীমানায় ঘন্টার পর ঘন্ট আটকে রাখা হয়। এমনকি তাকে “ নো ফ্লাই ” তালিকায়ও অন্তুর্ভূক্ত করা হয় এবং সর্বশেষ উকিলিক্সের জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের উপর যখন প্রামাণ্য ছবি নির্মাণ করছিলেন তখন তার কাছে রাখা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ৪১ দিন পর্যন্ত আটকে রাখা হয় এবং কোনো নোট নেয়া হলে তাকে সোজা হ্যান্ডকাফ পরানো হবে বলে শাসিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এতসব ঘটনার পরেও ২০১৪ সালে মুক্তি পায় লরা পোয়েট্রাসের প্রামাণ্যছবি “ সিটিজেন ফোর ”; ২০১৫ সালে যে ছবি অস্কারে ভূষিত হয়। যে ছবির নায়ক, আমেরিকা তথা পুরো বিশ্বের বিশেষ করে যেসব দেশ অগনতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারি শাসক দ্বার শাসিত তাদের জন্যে রীতিমতো এক আতঙ্কের নাম – তিনি আর কেউ নন প্রাক্তন এন.এস.এ. ( ন্যাশানাল সিকিউরিটি এজেন্সি ) কর্মকর্ত, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ এবং “হুইসেল ব্লোয়ার” বা কারো কারো ভাষায় কুখ্যাত- এডওয়ার্ড স্নোডেন।
ছবির শুরুতে ধারাভাষ্যের মধ্য দিয়ে আমরা জানতে পারি, ৯/১১-র পট পরিবর্তনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিচালক পোয়েট্রাস একের পর এক ধারাবাহিক আকারে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে গেছেন। ২০১৩র শুরুতে স্নোডেন “ সিটিজেন ফোর ” ছদ্ম নাম ব্যবহার করে পোয়েট্রাসকে ই-মেইল করেন। তার পরের দৃশ্যেই আমরা দেখি গার্ডিয়ানের জাদরেল সাংবাদিক ও লেখক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড তার ব্রাজিলের বাড়িতে ই-মেইলে যোগাযোগ করছে কারো সঙ্গে, পর্দায় লেখা ভেসে ওঠে- “এখন থেকে তুমি জানবে, যত সীমান্ত তুমি পার হও, যা কিছু কেনা-কাটা করো, যতগুলো টেলিফোন কল তুমি করো, যতগুলো সেলফোন টাওয়ার তুমি পার হও, যত বন্ধু তোমার আছে, যা কিছু তুমি লেখো প্রবন্ধ, নিবন্ধ ইত্যাদি, ইন্টারনেটের যেসব সাইটে তুমি চলাফেরা করো, যেসব বিষয়ের খোঁজ-খবর সেখানে তুমি রাখো- সব জায়গায় চলাফেরা করার দরজা তোমার অবারিত ভাবে খোলা, তবে সেসব জায়গার কোনোটারই পাহাদার তুমি নও। পাহাদার থাকেন আড়ালে।” আমরা বুঝে যাই, রাষ্ট্রের খবরদারি করার জায়গাগুলো কতটাই বিস্তারিত। রাষ্ট্রের এসব খবরদারি আগেও ছিলো। কিন্তু ইন্টানেটের আবিষ্কার নজরদারির এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। নেটের ফাঁক দিয়ে কোনো নাগরিকের পক্ষে রাষ্ট্রকে ফাঁকি দেয়াও আজ সম্ভব না।
এরপরেই পরিচালক আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন, এই যুগের সব থেকে আলোচিত-সমালোচিত “ রাষ্ট্রীয় নজরদারির” উদ্ভাবক, প্ররোচক বা উপযাচক যে নামেই অভিহিত করিনা কেনো, সে এন.এস.এ.র গুপ্ত-গণিতবীদ সেই উইলিয়াম বিনের সঙ্গে। ঠান্ডা লড়াইয়ের সময় যিনি নিউক্লিয়ার সন্ত্রাস আবিষ্কার করেছিলেন, ’৯০ এর দশকে সেই বিষয় থেকে সরে এসে ইন্টারনেটের উন্নয়নের পাশাপাশি ডাক বিশ্লেষণ, যা মূলত খবরদারির অপর নাম- সেই কাজে মনোনিবেশ করেন। বিন স্বীকার করেন, ৯/১১-র পর তাদের নজরদারির পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু কতটা বেড়েছে ছবির শুরুতে আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারিনা। ছবি যত এগিয়ে যায়, আমাদের চোখের সামনে থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে একের পর এক পর্দায় উন্মোচিত হতে থাকে। ইতিমধ্যে ভিডিও ফুটেজে প্রশ্ন-উত্তরের মধ্য দিয়ে আমরা দেখি, এন.এস.এ.র কর্মকর্তাদের একের পর এক মিথ্যাচার। যেমন-
প্রশ্ন : এন.এস.এ. কি নজরদারি করে ?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : এন.এস.এ. কি মেইল, সেলফোন এসব চেক করে ?
উত্তর : না।
প্রশ্ন : এন.এস.এ. কি গুগুলসহ অন্যান্য নেটওয়ার্ক নজরবন্দী করে ?
উত্তর : না।
অন্যদিকে বারাক ওবামা’র ভিডিও ফুটেজে আমরা দেখি, সংসদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সীমাবদ্ধ ক্ষমতার কথা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে নাগরিক ভাষণে ওবামা বলছেন। এমন ভাবে বলেন, যেন, দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের একক কোনো ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টেরও নেই (ঠিক তখন আমাদের অজান্তেই ইরাক আক্রমণের প্রাক্কালে জর্জ ডব্লিউ বুশের চেহারাটা ভেসে ওঠে)। এন.এস.এর.র মিথ্যাচার, ওবামা’র কথাবার্তা আমাদের কাছে ছবি কিছুদূর যাবার পরেই দিনের মতো পরিস্কার হয়ে যায়, যখন পোয়েট্রাস এবং গ্রিনওয়াল্ড, হংকং এ আশ্রয়রত স্নোডেনের হোটেলে গিয়ে উপস্থিত হন। অত্যন্ত সাদামাটা সাক্ষাতকারের মধ্য দিয়ে পোয়েট্রাস, স্নোডেনের ছোট্ট হোটেলের রুমে চার/পাঁচ দিনের শুটিং এর মধ্য দিয়ে তার প্রামাণ্যচিত্রের শুটিং পর্ব শেষ করেন। স্নোডেন তার সাক্ষাতকারে বলেন, “ এন.এস.এ. তে যোগদানের পর থেকেই ‘স্টেট পাওয়ার ’ বা ‘ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ’ নামক বিষয়টার গভীরে আমি যেতে থাকি; এবং যতই যেতে থাকি ততই সকিছু আমাকে বিস্ময়ে হতবাক করার পাশাপাশি ভাবিয়ে তোলে। ওবামার দেয়া ভাষণগুলো আমাকে ক্রমেই বিরক্ত করে তোলে —- একবার ভাবুন তো, দেশে এমন একটা সংস্থা আছে ( এখানে স্নোডেন এন.এস.এ.র কথাই বলছেন), যে সংস্থাটা আপনার ই-মেইল আইডি, ফোন নম্বর এমনকি পাসওয়ার্ডের খবর পর্যন্ত রাখে। আপনার বউ আপনাকে বা আপনি আপনার বউকে যেসব চিঠি লিখেন তা যদি অন্য কেউ পড়ে ফেলে, কেমন লাগবে? এই সমস্যাগুলো শুধু আমার একার না, পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের, সব নাগরিকের সমস্যা।”
নজরদারির বিষয়টা যে কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে, ছবির গতি আরেকটু এগিয়ে গেলেই আমরা বুঝতে পারি। ধারাভাষ্যে পরিচালক আমাদের জানান, চার-পাঁচদিন শুটিং এর পরেই, তারা সবাই বুঝতে পারেন, সেখানেও তাদের পেছনে লোক লাগানো হয়ে গেছে। তারা তখন তড়িঘড়ি শুটিং গুটিয়ে নেয়। স্নোডেনকে মস্কো পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন হংকং-এরই একজন মানবাধিকার কর্মী। অন্যদিকে, পোয়েট্রাস জার্মানিতে এবং গ্রিনওয়াল্ড ব্রাজিলে চলে যান। ছবিতে আমরা দেখি ব্রাজিলে গিয়ে গ্রিনওয়াল্ড সংবাদ সম্মেলন করে স্নোডেনের কাছ থেকে পাওয়া সব তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ ভয়াবহ এক ভাষণ দেন। সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে গ্রিনওয়াল্ড বুঝিয়ে দেন, রাষ্ট্র (আমেরিকা) কীভাবে দিনের পর দিন, প্রতিনিয়ত পৃথিবীর সব দেশের বিভিন্ন নাগরিকের উপর গভীর পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত সব তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেসব দেশের পুরো পরিস্থিতি ( রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি ) নিজের হাতের মুঠোর মধ্য নিয়ে আসে। প্রতিটা ওয়েবসাইটের গুগুল থেকে শুরু করে ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটার সহ সব ধরণের নেটযুক্ত যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উপর কড়া নজরদারি করে রাখে। তবে গ্রিনওয়াল্ড এই পর্যন্ত বলে আরেকটা মজার কথা আমাদের জানান; আর তা হলো-আমেরিকান কোনো নাগরিকের উপর এই নজরদারির জন্যে সেই দেশের কোর্টের অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু পৃথিবীর আর কোনো দেশের জন্যে কোনো ধরণের অনুমতির ধার ধারতে হয়না। গ্রিনওয়াল্ড এসব নজরদারির যৌক্তিক জায়গাটা খুব ভালো করে ধরতে পেরেছেন। তার মতে, একমাত্র গণতন্ত্রহীন শাসকই নাগরিকের সব তথ্য সংগ্রহে রাখে।
ছবির একেবারে শেষে দেখা যায়, গ্রিনওয়াল্ডের সাথে স্নোডেনের আবার দেখা হয় মস্কোতে। গ্রিন কতগুলো নাম কাগজে লেখার পর স্নোডেনকে দেখিয়ে আবার সেগুলো ছিড়ে ফেলে। সেই ছেড়া কাগজগুলোর উপর ক্যামেরার ক্লোজ জুমের মধ্য দিয়ে ছবির সমাপ্তি ঘটে। দর্শক বুঝে যান, বর্তমান তথ্য প্রবাহের এই অবাধগতির মালিকানা একমাত্র রাষ্ট্র; কাজেই গোপন কোনো কথা কোনো জায়গা এমনকি কাগজে লিখেও রাখাও বিপদজ্জনক। তবে ছবির আলোচনা প্রসঙ্গে চিত্রসমালোচক গডফ্রে চেশাইযার দৃষ্টি কাড়ার মতো একটা কথা বলেছেন, “ আমি বলছিনা স্নোডেন কোনো নায়কোচিত কোনো কাজ করেছেন, কিন্তু তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে আমেরিকান কংগ্রেসের কাউকে কিছু বলতে দেখলাম না, সহায়তা দূরে থাক। এমনকি খোদ ব্রাজিল বা জার্মানিও তাকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়ে কোনো ধরণের আগ্রহ দেখায়নি।” ছবিটা দেখার পর আমাদেরকে আধুনিক গণতন্ত্র নিয়ে আবার ভাবিয়ে তোলে। তাহলে গণতন্ত্র বলতে আমরা কি এটাই বুঝবো যে রাষ্ট্রের যথেচ্ছাচার ; তাও আবার নজরদারির? কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তার অবস্থা হয় স্নোডেন, জুলিয়ান অ্যাসেঞ্জ, পোয়েট্রাস এর মতো ? যদি তাও হয়ে থাকে, তারপরেও স্নোডেনের মতো মানুষদের তো দমিয়ে রাখা যাচ্ছেনা। একজন স্নোেডেনকে দমালে আরও দশটা স্নোডেন বিশ্বের কোথাও না কোথাও উঠে আসে। কাজেই নজরদারির নামে নাগরিকের স্বাধীনতা হরণ করা সম্ভব না কোনভাবেই; সম্ভব হয়না মুক্তচিন্তা, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা বন্ধ করা। অরাষ্ট্রীয় কোন সহিংস সংগঠনও এটা কখনই পারেনা, পারেনাই। কারণ, নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ হলে, খোদ স্বাধীনতাই হরণ হয়ে যায়।

জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (শেষ পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

Last-6এর আগের পর্বগুলোতে বেন ফোক সম্প্রতি যে তেইশটি (সর্বশেষ ছবিটি বাদ দিয়ে) বন্ড সিরিজের একটা তালিকা করে, নিকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট ছবির উপর আলোচনা করেছেন সেসব সিরিজের চৌদ্দটি ছবির উপর আমরা আলোচনা করেছি। আমরা দেখেছি মন্দ থেকে ভালোর ক্রমানুসারে সিরিজগুলো সাজানো হলেও, সময়ের ক্রমানুসারে সিরিজগুলো নিকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট হয়নি। অনেক আগে বানানো সিরিজগুলো দেখা গেছে পরবর্তী সময়ের সিরিজের চেয়ে বেশ জনপ্রিয় ছিলো। এর অন্যতম একটা কারণ হতে পারে, যেসব বন্ড সিরিজে যৌনতার উপর অত্যধিক প্রাধান্য দেয়া হয়েছে (বিশেষ করে রজার মুর অভিনীত ‘লিভ অ্যান্ড লেট ডাই’ ছাড়া অন্যান্য সিরিজগুলি) সেগুলো পছন্দের তালিকা থেকে আগে বাদ পড়েছে। তাছাড়া নির্মাণ শৈলী, নান্দনিকতা এবং সর্বোপরি প্রধান চরিত্র জেমস বন্ডের উপযুক্ত প্রতিফলন ইত্যাদি কারণে পছন্দের সিঁড়িতে ওঠানামা করেছে। বিস্তারিত »

জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (পর্ব – ৪)

শেন কনেরি’র প্রত্যাবর্তন

ফ্লোরা সরকার

বেন ফোক সম্প্রতি তেইশটি (সর্বশেষ ছবিটি বাদ দিয়ে) বন্ড সিরিজের একটা তালিকা করে, নিকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট ছবির উপর যে আলোচনা করেছেন তার উপর আমরা আলোকপাত করছিলাম। এর আগের পর্বে চৌদ্দটি সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ আরো সিরিজ নিয়ে আলোকপাত করা হলো।

১৯৭১ সালে নির্মিত ‘ডায়মন্ডস আর ফর এভার’ ছবিটি একটি অন্যতম সার্থক বন্ড সিরিজ। ইতিমধ্যে শেন কনেরি বন্ড সিরিজ থেকে চলে গেলেও এই ছবিতে আবার ফিরে আসেন এবং তার চমৎকার অভিনয় দর্শক চিত্তে বন্ডের জনপ্রিয়তা আবারও ফিরিয়ে আনে। বিস্তারিত »

জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (পর্ব – ৩)

দর্শকের পছন্দের আর অপছন্দের ছবিগুলো

ফ্লোরা সরকার

Last-6এই পর্যন্ত জেমস্ বন্ডের প্রায় চব্বিশটি সিরিজের চলচ্চিত্রয়ান হয়েছে। ১৯৬২ সালে ‘ড. নো’ দিয়ে যার যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০১৫ তে এসে ‘স্পেকটা’র দিয়ে আপাত শেষ হয়েছে। সিরিজগুলো নিয়ে বেশ কৌতুহলোদ্দীপক প্রশ্ন জমা হয়েছে, যেমন দর্শক কাকে বেশি পছন্দ করে, টিমোথি নাকি শেনকে? বন্ড সিরিজের কোন শুটিং সেট দর্শকদের বেশি পছন্দের, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় স্বর্গীয় পরিবেশ, নাকি বরফাচ্ছাদিত রিসোর্ট? দর্শকের কাছে কে বেশি পছন্দের, একজন রাজনৈতিক অনুসারি যে কিনা সেই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যে বিভিন্ন অন্যায় বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়, নাকি ছবির খলনায়ককে? ০০৭ সিরিজটি ধীরে ধীরে কিভাবে এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার অনুসন্ধান করতে গেলে এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। ইয়াহু মুভিজের বেন ফোক সম্প্রতি তেইশটি (সর্বশেষ ছবিটি বাদ দিয়ে) বন্ড সিরিজের একটা তালিকা করে, নিকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্ট ছবির উপর একটা চমৎকার আলোচনা করেছেন। আমরা আজ সেই আলোচনার উপর দৃষ্টিপাত করবো। বিস্তারিত »

জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (পর্ব – ২)

আলফ্রেড হিচকক কেন থাকলেন না

ফ্লোরা সরকার

Last-7গত সংখ্যায় আমরা জেমস্ বন্ড সিরিজের এই সিরিজ লেখায় এর জন্মলগ্নের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এবার আমরা দেখব “ড. নো” দিয়ে বন্ড সিরিজের যাত্রা শুরু হলেও শুরু হবার কথা ছিলো ‘থান্ডারবল’ দিয়ে। এবং সেটা পরিচালনার কথা ছিলো, বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলফ্রেড হিচককের। কিন্তু সেটা হয়নি। গত ২৬ অক্টোবর ২০১৫, ভেরাইটি ম্যাগাজিনে, ‘কেনো আলফ্রেড হিচককের বন্ড সহ ০০৭এর তিন ছবির মূল গল্প থেকে কেন সরে গিয়েছিলেন?’ – এই শিরনামে ম্যাথিউ চারনভ চমকার একটি প্রতিবেদন লেখেন। লেখাটিতে প্রশ্ন রাখা হয়, বন্ডের প্রথম সিরিজ ‘থান্ডারবল’ হিচকককে দিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিচালনা করা কেনো সম্ভব হলোনা? হিচকক কি তাহলে অনিচ্ছুক ছিলেন? বিস্তারিত »

জেমস বন্ড-এর সেকাল-একাল (পর্ব – ১)

ফ্লোরা সরকার

Last-6১৯৫৩ সালে প্রথম যখন জেমস্ বন্ড নিয়ে লেখা শুরু করি, তখন বন্ডকে আমি প্রচণ্ড রকমের একজন বোকাসোকা, অগভীর বা আকর্ষনহীন একজন নায়কের চরিত্র হিসেবে দাঁড় করাতে চেয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম একজন ভোঁতা বা স্থুল বুদ্ধিসম্পন্ন নায়কের চরিত্র দাঁড় করাতে। যখন এই প্রধান চরিত্রের (জেমস্ বন্ড) নাম খুঁজছিলাম, সত্যি বলছি, এই নামটা (জেমস্ বন্ড) আমার কাছে সব থেকে স্থুলতম নাম মনে হয়েছিলো’ ইয়ান ফ্লেমিং, দ্য নিউ ইয়র্কার, ২১ এপ্রিল, ১৯৬৩। জেমস্ বন্ড সিরিজের আদি এবং মূল লেখক ইয়ান ফ্লেমিং, দ্য নিউ ইয়র্কারকে ঠিক এভাবেই কথাগুলো বলেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি চেয়েছিলেন, তার নায়ক হবে সরকারে নিয়োজিত এমনই এক চরিত্রের মানুষ, সরকারি কর্মকাণ্ডের চারপাশে নানা অঘটন ঘটলেও তিনি থাকবেন নির্বিকার চিত্ত হয়ে, একজন ছদ্মনামা বা নামহীন হয়ে। বিস্তারিত »