Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 3)

শিল্প-সংস্কৃতি

নবতরঙ্গের সার্থক রূপকার ফ্রাঁসোয়া ত্রুঁফো

ফ্লোরা সরকার

Last-6এই মাত্র রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে গেলো যে মেয়েটি, অযথা দীর্ঘ নয় কিন্তু কী সুগঠিত তার শরীর আর ঘন কালো চুল, নিখুঁত নিভাঁজ তার পোশাক, চলার ছন্দের সঙ্গে দুলে উঠছে স্কার্টের ঝুলন্ত ঝালর, মুখে আলদা হাসি নেই তবু সহাস্য মুখ, সামান্য নির্বিকল্প, কিছুটা উদাসীন। নারীত্বের প্রতীক হয়ে এই যে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে গেলো নারীটি, কামনার চেয়ে যে বেশি কিছু এর জন্যে, এই মুহূর্ত্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটি হলাম আমি’ নিজের কথা বলতে গিয়ে ফ্রাঁসোয়া ত্রুঁফো ঠিক এভাবেই দেখেছিলেন মেয়েটির সৌন্দর্য, যা কেবল একজন শিল্পীর পক্ষেই দেখা সম্ভব। শুধু দেখেই ক্ষান্ত হননি, দীর্ঘ চার মাস ধরে ভেবেছেন অজানা সেই মেয়েটিকে নিয়ে তারপর চিত্রায়ন করেছেন তার ছবিতে। কীভাবে? বিস্তারিত »

গৃহযুদ্ধে শরণার্থী হওয়ার কাহিনী ‘ওয়েস্ট বৈরুত’ (শেষ পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

Last 6আমরা আলোচনা করছি জিয়াদ দোয়েরি পরিচালিত ‘ওয়েস্ট বৈরুত’ চলচ্চিত্রটি নিয়ে যাতে বৈরুতের গৃহযুদ্ধ, এ কারণে অসহায় মানুষদের যে সীমাহীন দুঃখ, কষ্ট, বেদনার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। গৃহযুদ্ধ সাধারণ মানুষের সৃষ্টি নয়, এটি সৃষ্টি করা হয়েছে, চাপিয়ে দেয়া হয়েছে ভিন্ন কূটকৌশলে সাধারণ মানুষদের উপরে। গৃহযুদ্ধ অসংখ্য মানুষকে যেমন বিপন্ন, বিপর্যস্ত করে ফেলে তেমনি অনিবার্য ফলাফল হিসেবে মানুষ হয়ে পরে রিফিউজি বা শরণার্থী। ওয়েস্ট বৈরুত নিয়ে আলোচনার শেষ পর্বে শরণার্থী হওয়া মানুষদের কান্না, দুঃখ, বেদনা নিয়ে আলোচনা করবো।

মূলত এক কিশোরের চোখ দিয়ে দেখা তার দেশের গৃহযুদ্ধের কাহিনী। বিস্তারিত »

গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি আর অসহায় ভিকটিমদের কাহিনী :: ওয়েস্ট বৈরুত

ফ্লোরা সরকার

Last-6হোটেল রুয়ান্ডা’ ছবিতে, রুয়ান্ডার প্রচন্ড গৃহযুদ্ধের সময়, জাতিসংঘ থেকে আগত একজন সাংবাদিক যখন হোটেল রুয়ান্ডার লবিতে পাশাপাশি দুজন রুয়ান্ডান তরুণীকে দেখেন, বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান, তার কাছে মনে হয়, যমজ দুই বোন যেন বসে আছে। কিন্তু পরক্ষনেই যখন জানতে পারেন, তরুণী দু’জনের একজন হুতু এবং আরেকজন তুতসি, তখন রুয়ান্ডান সাংবাদিক বেনেডিক্টের কাছে জানতে চান, হুতুতুতসির সমস্যাটা কোথায়। একই রকম দেখতে অথচ কি বৈরি সম্পর্ক এই দুই জাতির মধ্যে। বেনেডিক্ট চমৎকার করে, মাত্র দুই এক লাইনের সংলাপে, পুরো রুয়ান্ডার ইতিহাসটা যেন বলে দিলেন – ‘বেলজিয়ান কলোনির মতে, তুতসিরা লম্বা এবং সুরুচিপূর্ণ। এই বেলজিয়ানরাই মূলত পার্থক্য তৈরি করেছে আমাদের এই হুতুতুতসির মাঝে। (রুয়ান্ডায় বেলজিয়ান উপনিবেশ কালে) আমাদের ভেতর থেকে তারা সেসব মানুষদের তুলে নিতো, যাদের নাক সরু, গায়ের রং কিছুটা উজ্জ্বল। সেই সরু নাকের অধিকারী তুতসিদের দিয়ে তারা প্রশাসনের কাজ চালাতো। কিন্তু দেশ ছেড়ে যাবার সময় হুতুদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে গেলে, তুতসিদের উপর দীর্ঘদিনের শোষণের প্রতিশোধ নিতে হুতুরা ব্যস্ত হয়ে পড়লো।’ বিস্তারিত »

ভেনিস ও টরোন্টো চলচ্চিত্র উৎসব :: জঙ্গীবাদ আর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নানা ছবি

ফ্লোরা সরকার

Last 6গত ২ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব এবং টরোন্টো চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হলো গত ১০ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর। কিছু কিছু ছবি দুটো উৎসবেই প্রদর্শিত হয়েছে। যেমন হিউমান, বিস্ট অফ নো নেশন, আনোমালিসা সহ আরো বেশ কিছু ছবি। তবে, এ্যওয়ার্ডের বেলায় দুই উৎসবে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। এ লিটল প্রিন্সেস, হ্যারি পটার, গ্র্যাভেটি ইত্যাদি ছবি খ্যাত মেক্সিকান প্রযোজক, পরিচালক, চিত্র নাট্যকার এবং সম্পাদক আলফনসো কুয়ারন ওরোজোকে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের জুরি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়। ফেদ্রিকো ফেলিনির সম্মানে তার নির্মিত ‘অ্যামাকর্ড (১৯৭৩)’ ছবিটি আবারও প্রদর্শন করা হয়। তাছাড়াও ফ্রাঁসোয়া ত্রুফোর’ ফোর হানড্রেড বেলাজ’ ছবিটিও দেখানো হয় বিশেষ সম্মাননার জন্যে। অন্যদিকে, টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি বিভাগে ছিলেন ক্ল্যার ডেনিস, জিয়া হ্যাংক এবং আগনিস্কা হল্যান্ডের মতো চিত্রনির্মাতারা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ফ্রম আফার’ ছবিটি গোল্ডেন লায়ন এবং ‘দ্য ক্ল্যান’ ছবিটি সিলভার লায়নে ভূষিত হয়। টরোন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে ‘রুম’ ছবিটি দর্শক প্রিয়তার তালিকায় সর্বোচ্চ স্থান পায়। এবারের দুই চলচ্চিত্র উৎসবে সন্ত্রাসবাদ এবং স্বৈরাচারভিত্তিক ছবির সংখ্যাই প্রাধান্য পায়। উৎসবের সেসব ছবির উপর প্রাধান্য দিয়ে আমাদের আজকের চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা। বিস্তারিত »

দেশহীন উদ্বাস্তুদের ছবি ‘আম্রিকা’

ফ্লোরা সরকার

Last-6/১১ এর ঠিক পরেই এডওয়ার্ড সাঈদ তার মার্কিন মুলুকে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যশীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছিলেন, আমি এমন একজন আরব বা মুসলমানকে চিনি না, যিনি এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেকে শত্রু শিবিরের সদস্য হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন না …. শত শত আরব তরুণকে আটক করা হচ্ছে এবং ফেডারেল গোয়েন্দা বুরো (এফবিআই) ও পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মুসলিম বা আরবীয় নাম হলে তো রক্ষাই নেই। এমন নামের লোক বিমানবন্দরে উপস্থিত হলেই তার প্রতি সন্দেহের দৃষ্টি নিক্ষেপ করা হয় এবং তাকে তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামাকাপড় খুলেও খানাতল্লাস করা হয়। মিরা নায়ারের দ্য রিলাকট্যান্ট ফান্ডমেন্টলিস্টছবির নায়ক চ্যানগেজ খানকে, ম্যানিলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর বিমান বন্দরে ঠিক এভাবেই উপরে বর্ণিত জামাকাপড় খুলে তল্লাসী করতে দেখা যায়। অথচ চ্যানগেজ তখন ফিন্যানশিয়াল অ্যানালিস্ট হিসেবে আন্ডারউড স্যামসাননামে বিখ্যাত একটা ফার্মে কর্মরত। অফিসের কাজে তাকে ম্যানিলায় যেতে হয়েছিলো। শুধু তাই না, সেই অফিসে সে এতোটাই কর্মসফল একজন কর্মকর্তা ছিলেন যে, তার সুপারভাার জিম ক্রস তাকে যখন একদিন জিজ্ঞেস করেন, দশ বছর পর আমেরিকার সেই ফার্মের কোন পদে সে থাকতে চায়, উত্তরে চ্যানগেজ যখন এমডি হবার বাসনা প্রকাশ করেন, জিম তাকে বলেন, দশ বছর পর কেনো, এখন নয় কেনো? বিস্তারিত »

চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী ওরসন ওয়েলস (শেষ পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

Last 6হলিউডের সিনেমা জগতে ওরসন ওয়েলস একজন কিংবদন্তীর নাম। যাত্রার শুরুতেই যিনি কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন হলিউড এবং বিশ্ব সিনেমা জগতকে। শুধু ছবি নয়, একাধারে, মঞ্চ এবং রেডিওতেও তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় শিল্পকর্মী। অনেকের তোপের মুখে পড়েছেন তার বামপন্থী এবং কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আগ্রহের কারণে। হলিউড ঘারানার বিপরীতে গিয়ে সিনেমা নির্মাণ তার জন্যে ছিলো একটি চ্যালেঞ্জেলের মতো। সবকিছু অতিক্রম করে, শেষ পর্যন্ত তিনি একজন সার্থক অভিনেতা এবং নির্মাতা হয়ে রইলেন। গত ৬ মে ছিলো তার জন্মশতবার্ষিকী। এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডেভিড ওয়েলস এবং জোয়ান লরিয়ের তার চলচ্চিত্র কর্মের উপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হলো। এটি শেষ পর্ব। বিস্তারিত »

ওরসন ওয়েলস :: স্বৈরাচার বিরোধী এক কিংবদন্তী (দ্বিতীয় পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

Last 6হলিউডের সিনেমা জগতে ওরসন ওয়েলস একজন কিংবদন্তীর নাম। যাত্রার শুরুতেই যিনি কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন হলিউড এবং বিশ্ব সিনেমা জগতকে। শুধু ছবি নয়, একাধারে, মঞ্চ এবং রেডিওতেও তিনি ছিলেন একজন সক্রিয় শিল্পকর্মী। অনেকের তোপের মুখে পড়েছেন তার বামপন্থী এবং কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আগ্রহের কারণে। হলিউড ঘারানার বিপরীতে গিয়ে সিনেমা নির্মাণ তার জন্যে ছিলো একটি চ্যালেঞ্জেলের মতো। সবকিছু অতিক্রম করে, শেষ পর্যন্ত তিনি একজন সার্থক অভিনেতা এবং নির্মাতা হয়ে রইলেন। গত ৬ মে ছিলো তার জন্মশতবার্ষিকী। এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ডেভিড ওয়েলস এবং জোয়ান লরিয়ের তার চলচ্চিত্র কর্মের উপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হলো।

ওয়েলসের চলচ্চিত্র কর্মের উপর বস্তুনিষ্ঠ যে সমালোচনাটা কখনোই করা হয়নি আর তা হলো, আমেরিকার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সমস্যাসঙ্কুল প্রশ্ন, লিবারেলিজম বা উদারতাবাদ এবং ডেমোক্রেট বা গণতন্ত্রবাদী দলের ক্রমবিকাশের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে। বিস্তারিত »