Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 7)

শিল্প-সংস্কৃতি

পয়লা বৈশাখও কর্পোরেটের পকেটে

ফ্লোরা সরকার

last 2পয়লা বৈশাখের দিন যখন পান্তাইলিশ খাওয়া হয়, গ্রামবাংলার মানুষ নিশ্চয়ই দেখে আর বিস্ময়ের সাথে ভাবে, শহরের মানুষগুলো প্রতি বছর বিশেষ এই দিনে বিশেষ এই খাবারটার প্রতি এতো আকর্ষণ বোধ করে কেনো? সারা বছর যারা মাছমাংস আর পিজ্জাবার্গারে অভ্যস্থ হঠাৎ এই দিনে কি এমন অমোঘ টান তারা অনুভব করে বিশেষ এই খাবারে? বিস্ময়ের সাথে ভাবে, তাদের নিত্যদিনের যে খাবার এবং বলাই বাহুল্য ইলিশ মাছ ছাড়া শুধু পান্তা তারা অর্থিক অনটনের জন্যে খেতে বাধ্য হয়, সেই খাবার শহরের মানুষেরা পয়লা বৈশাখের উৎসবে প্রবল উৎসাহউদ্দীপনার সাথে খাওয়ায় মেতে উঠে। যদিও সেই ইলিশও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এখন, তবু পয়লা বৈশাখে ইলিশ খাওয়া চাই চাই।

শুধু ইলিশ না, সেই সাথে আছে, পয়লা বৈশাখের লালসাদা রঙের নানা বাহারি ডিজাইনের শালোয়ার কামিজ থেকে শুরু করে শাড়ি, পায়জামাপাঞ্জাবি। বিস্তারিত »

অধিকার আদায়ের চলচ্চিত্র ‘সেলমা’

ফ্লোরা সরকার

last 5এবারের অস্কার নির্বাচিত ছবিগুলোর মধ্যে খুব স্বাভাবিক ভাবে আগেই ধারণা করা হয়েছিলো যে ‘সেলমা’ অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হবেনা। কারণ ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার আদায়ের এক আন্দোলনের ছবি। শ্বেতাঙ্গ শাসক সংগঠিত দীর্ঘ একশ বছরের নির্যাতন, নিপীড়ন আর নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ষাটের দশকে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকেরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। পুরো ষাটের দশক জুড়ে বিশেষ করে ১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ সময়কালীন সময়ে তাদের এই প্রতিবাদ তীব্রভাবে দানা বাঁধতে দেখা যায়। এর যেমন একটি বিশাল ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আছে, তেমনি আছে তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ অংশের কৃষ্ণাঙ্গ জনগণ তাদের নাগরিক অধিকার এবং ভোটাধিকার আদায়ের জন্যে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। বিস্তারিত »

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের উপর নির্মিত চলচ্চিত্র (শেষ পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

LAST 6২০০৪ সালের ১৯ নভেম্বর। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণে অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পূর্ণ ছোট্ট দ্বীপ পাম। সেই দ্বীপের অস্ট্রেলিয়ান এক আদিবাসী নাম ক্যামেরন দুমেগি। অন্যান্য দিনের মতো মাছ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার পথে ক্যামেরন দেখেন এক আদিবাসীকে দুজন পুলিশ (দুজনের মধ্যে একজন আদিবাসী পুলিশ ছিলেন) গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। এটা দেখে ক্যামেরন নিজেকে সংযত রাখতে পারলেন না। কর্তব্যরত সিনিয়ার পুলিশ সার্জেন্ট ক্রিস হার্লির সামনে সেই আদিবাসী পুলিশকে অভিসম্পাত দিতে থাকেন। সার্জেন্ট তখন তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বিস্তারিত »

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের উপরে নির্মিত চলচ্চিত্র (প্রথম পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

last 7যেকোনো নাগরিকের খোজখবর রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব তা যদি কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছা নির্বাসনেও গিয়ে থাকেন। অন্তত খোজখবর রাষ্ট্রটি রাখবে এবং ওই ব্যক্তিটি কোথায় আছে তা জানাও ওই দায়িত্বের মধ্যে পরে। কিন্তু এই নিখোঁজ বা গুম যখন কোনো রাজনৈতিক কারণে সংঘঠিত হয় তখন তা আর সাধারণ হারানো বিজ্ঞপ্তি বলে চালিয়ে দেয়া যায়না। সে ক্ষেত্রে সেই নিখোঁজ ব্যক্তিটিকে খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য। যেকোনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীল দেশে ‘গুম’ অথবা ‘নিখোঁজ’ শব্দটি তাই সেসব দেশের সকল নাগরিকদের জন্যে একটি আতংকজনক শব্দ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক এসব গুম অথবা নিখোঁজ আর দশটা সাধারণ নিখোঁজের সাথে গুলিয়ে ফেললে চলবেনা। এই ধরণের গুম তাই রাষ্ট্রীয় হত্যারই সামিল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো খোঁজ আর পরর্বীতে পাওয়া যায়না। আগেই বলা হয়েছে, এসব নিখোঁজের ঘটনাগুলো সেসব রাষ্ট্রেই সংঘঠিত হয় যেখানে রাজনৈতিক মতবিরোধ, অস্থিরতা, বিদ্বেষ, ক্ষমতার লড়াই, গৃহযুদ্ধ ইত্যাদি চরম আকার ধারণ করে। এমনকি শুধু রাজনৈতিক বিরোধবিদ্বেষই নয়, তথ্য জেনে ফেলাটাও যে কোনো রাষ্ট্রের জন্যে একটা অপরাধমূলক কাজ। কারণ তথ্য গোপন করাটাই গণতন্ত্রহীন রাষ্ট্রের কাজ। বিস্তারিত »

প্রামাণ্যচিত্র ইন্ডিয়া’স ডটার যে কারণে ভারতে নিষিদ্ধ হলো (শেষ পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

last 7দিল্লীর একটা ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ইন্ডিয়াস ডটার’ নির্মাণ করেছি। পুরুষের এমন নৃশংসতা আমাকে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। এই ছবি নির্মাণের জন্যে, দুটো বছর আমার স্বামী, সংসার আর সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। শুধু সেই নৃশংস ঘটনা তুলে ধরার জন্যে নয়, সেদিন রাস্তায় সাধারণ মানুষের যে প্রতিবাদমিছিল দেখেছিলাম, এমন প্রতিবাদ আমার জীবনে আমি কখনো দেখিনি। টিয়ার গ্যাস, লাঠি চার্জ এবং জল কামানের মাঝেও সেসব মানুষ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন প্রতিবাদ করে গেছে। এই প্রতিবাদ করার অধিকার আমার এবং বিশ্বের সকল নারী সমাজের’ গত ১ মার্চ, ২০১৫ ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় এভাবেই কথাগুলো বললেন ছবির পরিচালক লেসলি উডউইন। বিস্তারিত »

মেধা পাচার এবং অর্থবিত্তের রাজনীতি

ফারুক আহমেদ

dis 5রাজনীতি যখন অর্থবিত্ত অর্জনের প্রধান উপায়ে পরিণত হয় তখন অর্থবিত্ত অর্জনই সমাজের সকল পেশা, শিক্ষাসংষ্কৃতিসহ সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রীয় লক্ষ্যে পরিণত হয়। রাজনীতি কোন না কোন শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের রাজনীতি চলছে না। এ কারণেই স্বাধীনতার পর ৪৪ বছরে হাজার হাজার কোটিপতির সৃষ্টি হলেও এখানে উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত ধনিক শ্রেণী তৈরী হয়নি, বিদেশী ঋণ নির্ভর আর কর্পোরেটদের উচ্ছিষ্টভোগী ফাটকা ধনিক শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে এবং জন্ম নিয়েছে নির্ভরশীল একটি পুঁজিপতি শ্রেণীর। ফলে শাসকদলগুলোর রাজনীতিই কোটিপতি তৈরীর কারখানায় পরিণত হয়েছে। বিস্তারিত »

প্রামাণ্যচিত্র ইন্ডিয়া’স ডটার যে কারণে ভারতে নিষিদ্ধ হলো (প্রথম পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

LAST 7বাবা, আমার বিয়ের জন্যে টাকাপয়সা না জমিয়ে, আমার লেখাপড়ার জন্যে টাকা জমিয়ে রাখো। সেটা বরং বেশি কাজে দেবে’ এভাবেই বলেছিলো জয়তী সিং তার বাবা বদরি সিংকে। জয়তী আরো বলতো, ‘মেয়েরা সব পারে’। কিন্তু তখন কি জয়তী নামের মেয়েটি ভুল করেও ভেবেছিলো, সব থেকে সুখী জীবন শুরুর অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ডাক্তার হবার মাত্র ছয় মাস আগে এমন একটা বিভৎস ঘটনা তার জীবনে ঘটবে এবং তার মৃত্যু হবে? না। অবশ্যই জানতো না। কেননা, তার জন্মের সময়, তার বাবামা’য়ের সেই আনন্দ হয়েছিলো, ঠিক যেমন আনন্দ হয়েছিলো তার অন্যান্য ভাইদের জন্মের সময়। জয়তীর মা আশা সিং বলেন, ‘ওর জন্মের সময় জয়তীকে আমরা ছেলের মতো বরণ করেছিলাম’ ( গার্ডিয়ান, ৫ মার্চ, ২০১৫ )বিস্তারিত »