Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 8)

শিল্প-সংস্কৃতি

চলচ্চিত্রে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং স্বৈরশাসন

ফ্লোরা সরকার

last 8স্ট্যন্ডলি কুব্রিকের বিতর্কিত ছবি ‘এ ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জ’ এর অ্যালেক্স একজন বিষন্ন নায়ক এবং সারা ছবি জুড়ে সে বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে বেড়ায়। রাষ্ট্র তাকে সেজন্যে শাস্তি দেয়। কিন্তু যে প্রশ্নটি থেকে যায় তা হলো, রাষ্ট্রের স্বৈরতান্ত্রিক চরিত্রের সন্ত্রাস অ্যালেক্সের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের থেকেও ভয়াবহ। কেননা কুইনাইন সারবার মতো রাষ্ট্র একজন সন্ত্রাসীকে শাস্তি দিতে সক্ষম হলেও রাষ্ট্রের শাস্তির কোনো বিধান নেই। অন্যের সমস্যা সণাক্ত করতে পারলেও, রাষ্ট্র নিজের কোনো সমাধান দিতে পারেনা। তাই অ্যালেক্সের এতোসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে দর্শক তার সঙ্গে একাত্মা হয়ে যায়। আর এভাবেই কুব্রিক তার ছবিতে দুই সন্ত্রাসের ভীতিকর এক দ্বন্দ্বের মধ্যে দর্শককে ছুড়ে দেন। ব্যক্তি সন্ত্রাসের জন্ম হয় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস থেকেই। ব্যক্তি সন্ত্রাসের চেয়েও ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। বিস্তারিত »

বইয়ের বিকল্প ফেসবুক টুইটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়

ফ্লোরা সরকার

last 6রোলা বার্ত যখন বলেন, ‘পড়া একটি বিশিষ্ট কাজ’ তখন আমাদের বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না যে, কথাটা শুধু আক্ষরিক অর্থেই বলা হয়না, সেই সঙ্গে ‘বিশিষ্ট’ নামক বিশেষণ জুড়ে দিয়ে তার গুরুত্ব অন্যান্য কাজ থেকে পৃথক করা হয়। অর্থাৎ বই পড়া শুধু সাধারণ একটা কাজ নয়, বিশেষ কাজ। বিশেষ এই কাজটি কোথায়, কীভাবে, কেনো উপস্থিত থাকে বা উদিত হয় সে প্রসঙ্গে আমরা পরে যাবো। তার আগে, বই কেনা নিয়ে কিছু কথা বলা যাক। কেননা, বই কেনার পরেই বই পড়া হয়, তার আগে নয়।

বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাস মানেই ভাষার মাস এবং বই মেলার মাস। সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র এ দেশেই বিশাল সময়ের ব্যপ্তি নিয়ে এই মেলার আয়োজন করা হয়। বিস্তারিত »

কেন ঋত্বিক ঘটকের ছবি বার বার দেখা দরকার

যতোই দিন যাচ্ছে ততোই ঋত্বিক ঘটক আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর নাম আরও ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হবে। শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, সংস্কৃতির অন্যান্য শাখায়ও ছিল তাঁর অবাধ বিস্তার। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক ১৯৭৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন। তাঁর প্রতি আমাদের বুধবারএর গভীর শ্রদ্ধা।

বিধান রিবেরু

last 7মেঘে ঢাকা তারা, কোমল গান্ধার, সুবর্ণরেখা, যুক্তিতক্কোগপ্পোএর প্রত্যেকটি ছবিতেই ঋত্বিক ঘটক দেশভাগ থেকে উৎসারিত যন্ত্রণার কথা বলেছেন। নানা প্রতীক উপমায় বলার চেষ্টা করেছেন ছিন্নমূল, উদ্বাস্ত্ত মানুষের বেদনার কথা, নতুন জায়গাকে আপন করতে না পারার যন্ত্রণাগাথা। এই ছবিগুলোতে হিন্দু বাঙালির ডায়াস্পোরিক সিচুয়েশনকেই দেখানো হয়েছে নানারকম হিন্দু পুরাণের সূচক কিংবা চিহ্ন দিয়ে। সেটা করতে গিয়ে ঋত্বিক ভাবশিষ্য হয়েছেন সুইস দার্শনিক কার্ল গুস্তাফ ইয়ুঙের। এ দুটো জিনিসের মেলবন্ধন ঘটিয়ে ঋত্বিক যে বক্তব্যের ওপর নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন তা আদপে মুসলমান বাঙালির কাছে তেমন কোনো আবেদন রাখে না বলে মত জারি রাখেন হালের চলচ্চিত্র চিন্তুক সুগত সিংহ। ‘যুক্তি তক্কো ঋত্বিক’ বইয়ে সিংহ অনেকটা গর্জন করেই বলেন, ইয়ুঙের প্রদর্শিত পথে ঋত্বিক তাঁর বিভিন্ন ছবিতে আমদানি করেন আর্কিটাইপ। হিন্দু পুরাণের একটি রূপ যেমন মাতৃরূপ, সেই মাতৃরূপকেই ঋত্বিক কখনো হাজির করেন নীতা হিসেবে, যে তারার আলো মেঘে ঢাকা পড়ে যায় প্রিয়জনদের স্বার্থপরতায়, তারপরও নীতা বিলিয়ে চলে আলো। বিস্তারিত »

জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ – স্বৈরশাসকের মুখোশ উন্মোচন

ফ্লোরা সরকার

last 6৩০ জানুয়ারী, ১৯৭২, আমাদের বরেণ্য এই চিত্রনির্মাতা জহির রায়হান রহস্যময়ভাবে অন্তর্ধান হন। আমাদের বুধবার বিনম্রচিত্তে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।

জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ যখন আমরা দেখি, তখন দুটো ছবির কথা আমাদের বার বার স্মরণে আসে। একটি হলো চার্লি চ্যাপলিনের ‘দ্য গ্রেট ডিক্টেটর’, অপরটি ল্যারি চার্লস নির্মিত ‘দ্য ডিক্টেটর’। দুটি ছবিতেই সরাসরি স্বৈরশাসককে দেখানো হয়, জহির রায়হানের স্বৈরশাসক প্রতিকী ভাবে উপস্থাপিত হয়। তবে চ্যাপলিনে আমরা দুই ধরণের শাসক পাই একজন প্রকৃত শাসক, অপরজন স্বৈরশাসক। চ্যাপলিনের স্বৈরশাসক স্থ’ূল বুদ্ধিসম্পন্ন, ফলে প্রতি পদে পদে হোঁচট খান, অস্থিরমতি, হুংকার দিয়ে জনসভায় ভাষণ দেন, কল্পনার স্বর্গরাজ্যে বসবাস করেন ইত্যাদি। ল্যারি চার্লস এর স্বৈরশাসক আরো স্থূল বুদ্ধিসম্পন্ন, সে বহুগামী, সমকামী, দেশের প্রয়োজনীয় কাজ রেখে সে ভিডিও গেমে মত্ত থাকে, এই স্বৈরশাসক তার পারিষদ দ্বারা পরিচালিত হন, মানুষের পছন্দের বিপরীত রাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেন, মিডিয়ার মাধ্যমে দেশের জনগণকে আতঙ্কগ্রস্ত করে রাখেন। বিস্তারিত »

রুচিহীন ভারতীয় সিনেমা আমদানীতে এতো আগ্রহ কেন

ফ্লোরা সরকার

last 6২০১৪ সালের একাডেমিক অ্যাওয়ার্ডের তালিকায় যেসব ছবি ছিলো, যেমন আমেরিকান হাসল, ফিলোমেনা, গ্র্যাভেটি, হার, নেবারাস্কা, টুয়েলভ ইয়ার্স এ স্লেভ, দ্য উলফ অফ দ্য ওয়ালস্ট্রিট ইত্যাদি, এসব ছবির মধ্যে সব থেকে আলোচিত হয়েছিলো টুয়েলভ ইয়ার্স এ স্লেভ (ছবিটি অস্কার জিতে নেয়), গ্র্যাভেটি, হার, নেবারাস্কা, ফিলোমেনা ইত্যাদি। সবচেয়ে কম আলোচিত ছিলো, দ্য উলফ অফ দা ওয়ালস্ট্রিট। আলোচনা কম হবার কারণ, ছবিটি পুঁজিবাদের নিন্দা করতে গিয়ে নিজেই নিন্দিত হয়ে ওঠে। ছবির অনেক অংশ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া অত্যন্ত আপত্তিকর ভাবে দৃশ্যায়ন করা হয়। যা সাধারণ যেকোনো রুচিশীল দর্শকের কাছে অবশম্ভাবী ভাবে দৃষ্টিকটু। অথচ ঐ একই বছর, আমাদের প্রেক্ষাগৃহে বিশেষ করে স্টার সিনে কম্পেক্সে ছবিটি শুধু প্রদর্শিতই হয়নি, বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে অবস্থান করে। ভাবতে অবাক লাগে, টুয়েলভ ইয়ার্সএর মতো এমন ভালো একটি চলচ্চিত্র থাকতে কেনো এই দেশে দা উলফ অফ দ্য ওয়ালস্টিটের মতো আপত্তিকর ছবির আমদানি করা হয়। আমদানি যখন করাই হবে, ব্যয় যখন হবেই তখন ভালো ছবি কেনো না? বিস্তারিত »

রাজনীতির হিংস্রতা আর নৃশংসতার ভিন্ন দুই মাত্রার চলচ্চিত্র

ফ্লোরা সরকার

last 6হোটেল রুয়ান্ডাযদি জাতি বিদ্বেষের চরম পরাকাষ্ঠার ছবি হয়ে থাকে তাহলে কিনিয়ারওয়ান্ডানৃশংসতা, ক্ষমা ও স্বাধীনতার কোলাজের চিত্র। দুটি ছবিই ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় সংঘটিত গৃহযুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। হোটেল রুয়ান্ডা মুক্তি পায় ২২ ডিসেম্বর, ২০০৪ সালে এবং কিনিয়ারওয়ান্ডা, ২৭ তম সানডেন্স ফিল্ম ফেস্টিভালে, জানুয়ারি, ২০১১ সালে। রুয়ান্ডার গৃহযুদ্ধের কারণ শত শত বছর ধরে সেখানে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি জাতি হুতু এবং তুতসির মাঝে জাতিগত বিরোধ। জাতিগত বিদ্বেষের ইতিহাসের শিকড়ের গভীরে থাকে ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের রাজনীতিকূটনীতি। অন্তত রুয়ান্ডার ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। জাতিগত বিদ্বেষ কতটা হিংস্র এবং নৃশংসতার জন্ম দিতে পারে ছবি দুটি আমাদের সেই উপলদ্ধিই এনে দেয়। বিস্তারিত »

আমাদের জাতীয় চরিত্র এবং ১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন

ফ্লোরা সরকার

last 6১৯৬৬ সালে নির্মিত ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ অনেকদিনের পুরনো হলেও, আমাদের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নানা দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চলচ্চিত্র। ছবিটি শুধু পুরনো ঢাকার একটি আইকন হয়ে থাকার জন্যে নয়, এদেশের একমাত্র কমেডি ছবি এবং আমাদের জাতীয় চরিত্র তুলে ধরার জন্যেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বানিজ্যিক ছবিগুলোর মধ্যে এমন বাস্তব ধারার ছবি আমরা খুব কম পেয়েছি। আমাদের বানিজ্যিক ধারার ছবিগুলি বিশেষ করে আশির দশকের পর থেকে প্রধানত নায়কনায়িকা নির্ভর ছবি হয়ে উঠছিলো। ফলে সেখানে কৃত্রিম প্রেম আর যৌনতার খামোখা কিছু সুরসুরি ছাড়া আমরা বিশেষ কিছু দেখতে পাইনা। এটা ভাবার কোনো যৌক্তিকতা নেই যে, দর্শক এসব পছন্দ করেন বলেই নির্মাতার এই ধরণের সিনেমা নির্মাণ করতে বাধ্য হন। বিস্তারিত »