Home » অডিও

অডিও

রাজনৈতিক গণতন্ত্রের সংকট প্রলম্বিত, দ্রুত সমাধান হবে বলে মনে হয়না : ড. তোফায়েল আহমেদ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘাত সহিংসতার কারণে ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজমান এবং ক্রমাগতভাবে এটি বাড়ছে। সামগ্রিক বিবেচনায়  সর্বগ্রাসী অবিশ্বাসের পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে। এই পরিবেশ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করযে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং বিট্রানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. তোফায়েল আহমেদ। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আমীর খসরু

দলীয় বিবেচনায় ‘বসন্তের কোকিল’ও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হয়ে যায় : ড. বদিউল আলম মজুমদার

নির্ধারিত সময়ে ভিসা না দেয়াসহ ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এবং অন্যান্য কারণে এই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা ২০০৮ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের চাইতে অনেক কম হবে। ২০০৮ সালে বিদেশ থেকে আগত এবং বিদেশী সংস্থার ৫৯৩ জন; ২০০১ সালে ২২৫ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষন করেছিলেন। এই বছরে এ সংখ্যা শতাধিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশী পর্যবেক্ষকদের সংখ্যাও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক কম হবে। এনজিওব্যুরোর প্রক্রিয়াগত ধীরগতি এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কম সংখ্যক দেশী পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেয়ায় এ নির্বাচনে ২৫ হাজার ৯২০ জন দেশী পর্যবেক্ষক অনুমতি পেয়েছেন। সাড়ে আট হাজার পর্যবেক্ষনে ইচ্ছুককে অনুমতি দেয়া হয়নি। অনুমতি দেয়া হয়নি কিছু কিছু দেশী সংগঠনকেও। ২৫ হাজারের মধ্যে দেশী পর্যবেক্ষকদের সংগঠন ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৫ হাজার জনকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। ২০০১ সালে দেশী পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার এবং ২০০৮ সালে ছিল ১ লাখ ৫৯ হাজার। অর্থাৎ নির্বাচনে কম সংখ্যায় বিদেশী ও দেশী পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ইতোমধ্যে দীর্ঘদিনের নির্বাচন পর্যবেক্ষককে সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ বলেছেন, এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের তালিকাভুক্ত করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন অভিজ্ঞ বেশ কছু পর্যবেক্ষকদের বাদ দিয়েছে। অন্যদিকে বেশ কিছু নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সংযুক্ত হয়েছে যাদেরকে সত্যি বলতে আমরা চিনি না।  দেশী ও বিদেশী পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা কম হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপরে এর কোনো প্রভাব পড়বে কিনাসহ সে সব বিষয়ে আলোচনা করেছেন নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন আমীর খসরু।

সরকার নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে : ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন নির্বাচনী মাঠে একটি একপেশে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শুধু একপক্ষই মাঠে রয়েছে, বাকিরা নামতে চাইলেও নানাবিধ বাধা-বিঘ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন। আমাদের বুধবার-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরীক্ষায় অবতীর্ণ। কিন্তু  যে পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে তাতে পরীক্ষায় পাস না করার সম্ভাবনা প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে। নির্বাচন অর্থবহ না হলে আগামী সরকারটি বড় নৈতিক বৈধতা ও দেশী-বিদেশী গ্রহণযোগ্যতার সংকটে পড়বে। এছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং অর্থনীতির উপরে দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে বলেও কতনি মনে করেন। আমাদের বুধবার-এর পক্ষে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আমীর খসরু

নির্বাচন কমিশন নিজেই পাথরের মূর্তির ভূমিকা গ্রহণ করেছে : ড. ইফতেখারুজ্জামান

একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব দলের সমান সুযোগ প্রাপ্তির পরিবেশ সৃষ্টি এবং সামগ্রিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আমাদের বুধবার-কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিতর্কিত। তিনি প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর যথাযথ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, ক্ষমতাসীনদের বাইরের রাজনৈতিক দল এবং পক্ষগুলো নির্বাচনের মাঠে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে যে প্রত্যাশা ছিল -তা পূরণ নিয়ে সংশয়-সন্দেহ দেখা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। আমাদের বুধবার-এর পক্ষ থেকে সাক্ষাতকার নিয়েছেন আমীর খসরু

সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের ভোট না দেয়ার ইচ্ছা রয়েছে : রানা দাশগুপ্ত

বাংলাদেশের ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওই নির্বাচনের আগে-পরে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ এবং শংকা প্রকাশ করছে। ইতোমধ্যে সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের মনোনয়ন না দেয়ার জন্যও ঐক্য পরিষদ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছিল। কিন্তু ঐক্য পরিষদ বলছে, তাদের ওই আহবানে তেমন একটা সাড়া মেলেনি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মহাসচিব এ্যডভোকেট রানা দাশগুপ্ত আমাদের বুধবার-এর সাথে এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন যে, সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের ভোট না দেয়ার ব্যাপারে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইচ্ছা তাদের রয়েছে। সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আমরা কারো ভোট ব্যাংক নই।’ আমাদের বুধবার-এর পক্ষ থেকে সাক্ষাতকার নিয়েছেন আমীর খসরু

রাজনীতি এবং নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের উত্থান প্রশ্নে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমদ

যতোই দিন যাচ্ছে রাজনীতি এবং নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ ততোই বাড়ছে। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে কিংবা নিয়ন্ত্রণে এখন আর কার্যত নেই। না থেকে তা ক্রমাগতভাবে ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে । রাজনীতি এখন ব্যবসায়ী নির্ভর হয়ে পড়েছে। এমনটা জানিয়ে বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার  প্রতিবেদনগুলো জানাচ্ছে, ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ছিল মাত্র দশমিক ৫৪ শতাংশ যা এখন ৮০-৮৫ শতাংশের বেশি। এটি সুস্থ ধারার রাজনীতির প্রতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।  নির্বাচন এবং রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের সরাসরি অংশগ্রহণ প্রশ্নে সাক্ষাতকারভিত্তিক বিশ্লেষণ করেছেন বিশিষ্ট নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং বর্তমানে ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. তোফায়েল আহমদ। তিনি মনে করেন, রাজনীতি ব্যবসায়ী নির্ভর হয়ে গেলে সৎ, যোগ্য, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিবর্গ রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন- যার স্পষ্ট আলামত ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন- আমীর খসরু