Home » অর্থনীতি (page 8)

অর্থনীতি

মাথাপিছু আয় আর জিডিপি বৃদ্ধির সরকারি প্যাচগোচ

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন ::

সরকারি হিসাব বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে এক হাজার ৪৬৬ ডলার-যা বিগত বছরের তুলনায় ১৫০ ডলার বেশি। তা ছাড়া এই অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশেরও বেশি হবে বলেও বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রাক্কলনে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ বলা হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক প্রাক্কলনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই অর্থ বছরে প্রথমবারের মতো জিডিপি সাত শতাংশ হয়েছে । প্রশ্ন হলো, জিডিপি প্রবৃদ্ধি আর মাথাপিছু আয় বাড়লেই কি দেশের সব মানুষ ভালোভাবে খেতে, পড়তে পারছে। ভাত-কাপড়ের নিশ্চয়তাসহ আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত জীবন-যাপন ও মানসম্পন্ন বাসস্থানের সুযোগ কি পাচ্ছে? মোটেই না। বাংলাদেশে মাথাপিছু আয়ের বৈষম্যের দিকে তাকালেই দেখা যাবে যে, একদিকে বহু মানুষ দিনে ১৫০ থেকে টাকা আয় করে অথবা কখনো সারাদিন উপোস করে সংসার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, কোন মানুষের দিনে এক লাখ টাকা আয় করে সংসার চালাচ্ছে। এভাবে কোন দেশের মাথাপিছু আয়ের প্রকট বৈষম্য রেখে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে না, পেছনে পড়ে রয়েছে। সংশি¬ষ্টরা বলছেন, এ ধরনের বৈষম্য রেখে দেশের মাথাপিছু আয়ের হিসাবে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হলেও সাধারন মানুষের কোনো লাভ নেই। একজনের আয় যদি হয় ১০০ টাকা এবং আরেকজনের হয় ২ টাকা, তাহলে গড় করলে দেখা যাবে দুই জনের গড় আয় ৫১ টাকা। তাহলে দুজনের প্রকৃত আয় কি সমান হলো? এ প্ররিপ্রেক্ষিতে যদি ধরে নেয়া হয়, যার বার্ষিক আয় ৪ থেকে ৫ লাখ ডলার এবং একজন দিনমজুরের আয় যদি হয় চার-পাঁচশ ডলার। তবে বলতে হবে দিনমজুরের আয়ের সাথে কোটিপতির আয় যুক্ত হয়ে হয়েছে ১৪৬৬ ডলার। আবার কোটিপতির আয় বছরে যে হারে বৃদ্ধি পায়, দিনমজুরের বৃদ্ধি তার থেকে যোজন যোজন ব্যবধানে থাকে। কাজেই মাথাপিছু গড় আয়ের হিসাবে প্রকৃত চিত্র ফুটে ওঠে না। এর মধ্যে বেকার তরুণ শ্রেণীও রয়েছে। তাহলে কি বেকারের আয়ও ১৪৬৬ ডলার? সরকারের তরফ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে জোর দিয়ে বলা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, গড় আয় বৃদ্ধির যে হিসাব দেয়া হচ্ছে, তা সেদিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি ইঙ্গিত সরকার দিতে চাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী বছর হয়তো এই আয় আরও বাড়বে। প্রশ্ন আসতে পারে, সরকার যেভাবে আয় ও জিডিপি বৃদ্ধির হিসাব দিচ্ছে এবং অর্থনীতির যে গতি দেখাচ্ছে, আসলে কি এ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে?

মাথাপিছু আয় পুরো সত্যটি তুলে ধরে না। কারণ এটি একটি গড় হিসাব। হাতি এবং পিঁপড়ার ওজনের গড় হিসাব করলে যে  গড়ের হিসাব পাওয়া ছাড়া আর কি? বাংলাদেশে দারিদ্র্য  হ্রাস পেলেও ধনবৈষম্য, আয়বৈষম্য প্রকট। সরকারি গিনি কোফিশিয়েন্টের হিসাবে সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ ধনাঢ্যদের ধনসম্পদ ও আয়ের পরিমাণ লুক্কায়িত থেকে যায়। জিডিপি শুধুমাত্র ‘খারাপগুলো’ যেমন- স্বাস্থ্যগত সমস্যা, দুর্ঘটনা, পরিবারের ভাঙ্গন, অপরাধ এবং দূষণ এগুলোর দায় অন্তর্ভুক্ত করে তাই নয়,  বরং এটা ‘ভালোগুলোকেও’ বাদ দেয়, যেমন- বাচ্চা মানুষ করার মত বিনা-বেতনের কাজ, সংসার চালানো, বন্ধু এবং প্রতিবেশীকে সাহায্য করা, দাতব্যসেবা ও স্থানীয় সামাজিক রাজনীতির মত কর্মকান্ড।

এসবই বাজারের বাইরে ঘটা কর্মকান্ড। কিন্তু এগুলোই আমাদের অর্থনীতির মূল মূল অংশ। আমাদের অর্থনৈতিক জীবনের যেসব দিকগুলোর মূল্য পরিমাপ সবচেয়ে বেশি, যথারীতি এড়িয়ে গিয়ে জিডিপি অর্থনৈতিক উন্নয়নের সামাজিক এবং পরিবেশগত মুল্যকে হিসাবের মধ্যে ধরে না। উদাহরণ হিসেবে, যা সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী ফলে প্রভাব রাখে সেই জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলা যায়; অর্থনীতিবিদ নিকোলাস স্টার্নস এটাকে আখ্যা দিয়েছেন, ‘বাজার ব্যবস্থায় এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং সীমাহীন ব্যর্থতা।’ বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল সুফলভোগী ধনীরা। ধনীরা দ্রুতগতিতে সম্পদ বাড়াচ্ছে, ফলে আয় বৈষম্য বেড়েই চলেছে। আর দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠি কোনো রকমে বেঁচে রয়েছে। চলতি (২০১৪-১৫) অর্থবছরে দেশের উচ্চবিত্তদের একটি হিসাব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেখানেও দেখা যায়, দেশের মোট সম্পদের বেশির ভাগের মালিক মাত্র দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ মানুষ। তাদের বার্ষিক আয় ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকার উপর। এসব ব্যক্তির সম্পদ আছে কোটি টাকার বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই আবার শত কোটি থেকে হাজার কোটি টাকারও বেশী অর্থ-বিত্তের মালিক। হিসাবটি করা হয়েছে আয়কর জমার বিবরণী থেকে। ধারণা করা যায় -এতে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। কেউ সম্পদের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করতে চায় না। সবাই রেখে ঢেকে তারপর সম্পদ বিবরণী জমা দেয়। অনেকে আয়কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতা থেকে সম্পদ কম করে দেখায়। তারপরও দেশের অধিকাংশ সম্পদ ধনী শ্রেণীর হাতেই। প্রকৃত অর্থে সম্পদের পরিমাণ আরো বেশি হবে। এরাই দেশের অর্থনীতির মূল সুবিধাভোগী। অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে সম্পদ সৃষ্টি করছে ধনী শ্রেণী। কারণ সরকারের সুবিধা ভোগ করার মতো সব ধরনের ক্ষমতা তাদেরই রয়েছে। এটাই তাদের সম্পদ বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে একটি শ্রেণী দ্রুত অর্থ তৈরি করেছে। ফলে বাধাগ্রস্ত হয়েছে সম্পদের বন্টন ব্যবস্থা। দারিদ্রের সম্পদ লুটে ধনী হয়েছে অনেকে। ফলে সমাজে ব্যাপক আয়-বৈষম্য বিরাজ করছে। কিন্তু এ সম্পর্কিত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা বাস্তবের তুলনায় কম। কারণ অতি ধনীরা তথ্য দেয় না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে উচ্চবিত্তরা ও ধনীরা বেশি লাভবান হচ্ছে।

টমাস পিকেটি’র ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি বইটিতে বলেছেন, রাষ্ট্র যদি অত্যন্ত কঠোরভাবে আয় ও সম্পদ পুনর্বণ্টনকারীর ভূমিকা পালন না করে, তাহলে উন্নত-অনুন্নত নির্বিশেষে বিশ্বের সব দেশে আয় ও সম্পদ বণ্টনের বৈষম্য বাড়তে বাড়তে দ্রুত বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে যাবে। সাইমন কুজনেৎস যে একপর্যায়ে উন্নত দেশগুলোতে বৈষম্য আর বাড়বে না বলে তত্ত্ব দিয়েছিলেন, সেই ‘ট্রিকল ডাউন তত্ত্বকে’ পুরোপুরি বাতিল করেছেন পিকেটি। পিকেটি মনে করেন, প্রগতিশীল আয়কর ব্যবস্থা, সম্পত্তি কর ব্যবস্থা ও বিশ্বব্যাপী পুঁজির ওপর ‘গ্লোবাল ট্যাক্স বসানোর মাধ্যমে এই আসন্ন মহাবিপদ ঠেকানোর প্রয়োজনকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের সরকার কি সেদিকে নজর দেবেন?

বাংলাদেশ কি আদৌ রিজার্ভের অর্থ ফেরত পাবে?

মোহাম্মদ হাসান শরীফ::

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি অংশ ফেরত পাওয়া যাচ্ছে বলে বদ্ধমুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল। ফিলিপাইনের যে ক্যাসিনো থেকে ওই টাকা হস্তান্তর হয়েছিল, তার পরিচালক কিম অং কিছু অংশ এর মধ্যেই ফিলিপিনো সিনেট অনুসন্ধান কমিটির কাছে ফেরত দিয়েছেন। আরো একটি অংশ হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সে আশা কতটা বাসস্তবায়িত হয় সে নিয়েই এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ এর মধ্যেই আইনের ফাঁদ পাতা হয়ে গেছে। আর সেই ফাঁদ থেকে বের হয়ে বাংলাদেশ ওই টাকা ফেরত পাবে কি না তা নিয়ে গভীর সন্দেহেরও সৃষ্টি হয়েছে।

ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং প্রথম দফায় দিয়েছিলেন ৮৬ হাজার ডলার। এরপর দ্বিতীয় দফায় দিয়েছেন ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এছাড়া মঙ্গলবার সিনেটের শুনানিকালে ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আরো ৯৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে করে বাংলাদেশের আশাবাদী হওয়ার ভালো সম্ভাবনাই ছিল। কিন্তু মঙ্গলবারই বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এ দিন সিনেট কমিটির চতুর্থ দফা শুনানি হয়। বাংলাদেশকে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দেয়া নিয়ে সিনেট কমিটিতে বিতর্কও শুরু হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে।

ফিলিপাইনের সংবাদপত্র ইনক্যুইয়ারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং সাক্ষ্য দিতে আসেন। তখনই বলা হয়, বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং নিরাপদ হেফাজতে রাখার জন্য সিনেট কমিটিকে ওই টাকা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কমিটিকে জানান, এএমএলসি’র নির্বাহী পরিচালক জুলিয়া ব্যাকে-আবাদ।

এই প্রশ্ন ওঠায় কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর তেওফিস্তো গুইনগোনা ওং এবং তার আইনজীবী ইনোসেনসিও ফেরারের কাছে জানতে চান, তাদের হস্তান্তরিত অর্থ বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তরে কোনো আপত্তি আছে কি না। এই প্রশ্নে ভ্যাবাচেকা খেয়ে যান অং। তিনি মিনমিন করে কিছু বলে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি তার আইনজীবীর কাছে ছেড়ে দেন। আর আইনজীবী জানান, বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য নয়, ওই টাকা এএমএলসি’কে দেওয়া হয়েছে নিরাপদে রাখার জন্য।

আইনজীবী আইনের মারপ্যাঁচই কষেছেন। তিনি ফিলিপিনো আইনের দোহাই দিয়ে বলেন, কেউ দাবি করলেই তা পরিশোধ করা যায় না, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই হবে। তিনি জানান, বিশেষ তদন্ত কমিটির সম্মান রক্ষা করে তাদের অনুরোধেই ওই টাকা হেফাজতে রাখার জন্য তাদের কাছে তারা সমর্পণ করেছেন।

কিন্তু সিনেট কি এ ধরনের কোনো অনুরোধ করেছিল? এক সিনেটরই কিন্তু এই প্রশ্নটি করেছেন। টেমপোরে রালফ রেকটো জানান, কমিটি নিরাপদ হেফাজত করার জন্য অর্থ তাদের কাছে রাখার কোনো অনুরোধ তারা করেছিলেন কিনা তা তিনি মনে করতে পারছেন না। পত্রিকাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটা রাজনৈতিক বিষয়েও পরিণত হয়ে গেছে।

সিনেটের সংখ্যালঘু গ্রুপের নেতা জুয়ান পঞ্চ এনরিল দৃশ্যত ওই টাকা বাংলাদেশে হস্তান্তর বিলম্বিত করার অবস্থানই গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সম্মানিত চেয়ারম্যান, আমি মনে করি, আমরা বাংলাদেশকে এ কারণে সহায়তা করতে চেয়েছি, যাতে আমরাও যদি কখনো একই ধরনের সমস্যায় পড়ি, তবে যাতে সহায়তা পেতে পারি। এখন কথা ওঠছে, আমাদেরকে আমাদের আইন দেখতে হবে, যেভাবে তারা তাদের আইন বিবেচনা করবে। আর আমি মনে করি না যে, সিনেট কমিটি বা এমনকি খোদ সিনেট কোনো ব্যক্তিকে কারো কাছে কিছু সমর্পণ করতে বাধ্য করতে পারে না, যতক্ষণ না এই প্রজাতন্ত্রের আদালত সেটা তাকে করতে বলে।’ এই বক্তব্যের পর গুইনগোনাও তার আগের অবস্থান থেকে দৃশ্যত সরে আসেন। তিনি নরম সুরে বলেন, কমিটি অংকে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করতে চায় না, কেবল তাকে সম্মত করানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে এনরিল সন্তুষ্ট হননি। তিনি বলেছেন, কমিটি যদি কাউকে সম্মত করানোর চেষ্টা করে, তবে সেটা আসলে হয়ে যায় জরবদস্তি।

কাজেই অং যদি নিজ থেকে বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত দিতে রাজি না হন, তবে ফিলিপাইনের সিনেট কমিটি তাকে বাধ্য করতে পারবে না, ওই পথে যাবেই না। বরং তাদেরকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। আর আইনি-প্রক্রিয়া সব দেশেই কমবেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। তাছাড়া অং কিন্তু ইতোমধ্যেই সে দেশের বিরোধী দলের কিছু সমর্থন পেয়ে গেছেন। কাজেই অং এখন সহজে অর্থটা দিয়ে দেবেন, এমনটা মনে হচ্ছে না।

সবাই জানে, ওই টাকার মালিক বাংলাদেশ। কিন্তু এনরিল জানিয়েছেন, ওই টাকা এখন ফিলিপাইনের এখতিয়ারভুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে অবশ্যই বাংলাদেশের আইন মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশকে এই টাকা ফেরত দেওয়ার আগে সরকারকে অবশ্যই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আমরা বিচারক হতে পারি না, আমরা কেবলই আইন প্রণয়ন করতে পারি।’

ফলে বেশ জটিলতার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর অবশ্য বলেছেন, বেশির ভাগ অর্থই ফেরত পাওয়া যাবে।

 

রিজার্ভ চুরির অজানা কাহিনী

 

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন::

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা বাংলাদেশ সরকার জানতে পারে অনেক পরে। কিন্তু এর আগের ঘটনা অনেকের কাছে অজানা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ বিষয়ে একটি চিত্র তুলে ধরে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, এর আয়োজন চলে ২০১৫ সালের মে মাস থেকে। এই মাসে ফিলিপাইনের রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের একটি শাখায় সন্দেহভাজন চারজনের নামে চারটি আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। এর প্রায় আট মাস পর আসল ঘটনার সূত্রপাত।

অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং এর জন্য ব্যাংকটির গভর্নর ও দুই ডেপুটি গভর্নরের অপসারণের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। আর ‘ব্যাপক মাত্রায় অযোগ্য’ আখ্যা লাভের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তার উল্লেখ অবান্তর। এরই মধ্যে ‘সবচেয়ে বড় সাইবার চুরি’ হিসেবে অভিধা পাওয়া ঘটনাটি এমন এক গোলকধাঁধা সামনে হাজির করেছে, যার উৎসানুসন্ধানের চেষ্টা করছেন ব্যাংকার, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

গত ৫ ফেব্রুয়ারির পর ব্যাংক, ক্যাসিনো, কম্পিউটার আর কোটি ডলারের সমন্বয়ে এমন এক নাটকীয়তায় ঘটনাগুলো উন্মোচিত হয়েছে, যা হলিউডি সিনেমা থেকে কোনো অংশে কম নয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তাবেষ্টিত লেনদেন ঘরের প্রিন্টারটি নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে কর্মকর্তারা আগের দিনের লেনদেনের তালিকা সংগ্রহে ব্যর্থ হন। পরদিন কর্মকর্তারা ব্যর্থ হন সুইফট সিস্টেমে ঢুকতে, যেখানে বারবার এ বার্তা দেয়া হচ্ছিল যে, ‘একটি ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা পরিবর্তিত হয়েছে।’ এর পর ৭ ফেব্রুয়ারি ছিল রোববার, যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির দিন। আর বাংলাদেশের জন্য সপ্তাহের শুরুর দিন। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গড়িয়ে যায় সোমবার পর্যন্ত। পুরো ঘটনাটিতে সময়ের ব্যবহার ছিল সুক্ষতা ও নৌপুন্যে ভরপুর। কারণ চীনা নববর্ষ উদযাপনের জন্য সোমবার ছিল ফিলিপাইনের সরকারি ছুটির দিন। আর এ সময়ের মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ও শ্রীলংকার এনজিওতে টাকা স্থানান্তর করা হয় মোট ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। সেতু, বিদ্যুকেন্দ্র ও ঢাকা মেট্রোসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের নামে এ অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বেরিয়ে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করেছে। ফেডারেল রিজার্ভ লেনদেনটি করেছে, কারণ তাদের তা করতে বলা হয়েছে। এভাবেই সুইফটের মতো স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিগুলো কাজ করে থাকে। আর যেহেতু ওই অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনোয়  গেছে, সেহেতু দেশটির কর্তৃপক্ষ হারিয়ে যাওয়া ওই অর্থ শনাক্ত করতে পারেনি, আইনী জটিলতার জন্যে। কারণ ফিলিপাইনে ক্যাসিনোর ওপর অর্থ পাচাররোধী (অ্যান্টি মানি লন্ডারিং) আইন প্রযোজ্য নয়। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, যে ব্যাংকের (আরসিবিসি) শাখা থেকে ওই অর্থের সিংহভাগ উত্তোলন করা হয়েছে সেখানকার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা ছিল নষ্ট।

এ সাইবার চুরির ঘটনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দায়িত্বের বিষয়টি নির্ধারণ করা। লেনদেনের পুরো চক্রটিতে হতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কেউ জড়িত। অথবা একটি ম্যালওয়্যার, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিরাপত্তা বিষয়ে চরম অবহেলা কিংবা হতে পারে গোটা নিরাপত্তা কাঠামোরই ত্রুটি। দ্বিতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, ব্যাংকিং খাতের লেনদেনের জন্য স্বয়ংক্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের নিরাপত্তা-বিষয়ক প্রশ্নটি। এ ঘটনা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিংয়ের পদ্ধতি সম্পর্কেও প্রশ্ন হাজির করেছে, যা মূলত তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্যের নিরাপত্তার মূলনীতির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর অনুমোদনের জন্য সুইফটের ওপর নির্ভর করে। আলোচ্য ঘটনায় স্বত্বভোগী অ্যাকাউন্টগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকলের মাধ্যমে সুইফটই অনুমোদন দিয়েছে। যদিও সুইফট বার্তা পাঠানোর কোড চুরির তত্ত্বটি পুরো নিরাপত্তা কাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।

ওই অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলোয় গেছে। আর এটি বিস্ময়ের কিছু নয় যে, ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলো অ্যান্টি মানি লন্ডারিং আইনের অধীন নয়। এ আইনী অস্ত্রের অনুপস্থিতিই হচ্ছে তৃতীয় চ্যালেঞ্জ। এটি তদন্তকে অনেক জটিল করে তুলেছে। কারণ ক্যাসিনোগুলো তদন্তে অংশ নিতে বা সহায়তা করতে বাধ্য নয়। নীতিগতভাবে তদন্ত সেখানেই বন্ধ হয়ে যাবে, যেখান থেকে ওই অর্থ আর্থিক খাত থেকে বেরিয়ে গেছে, আর তা হারিয়ে যাবে অবৈধ অর্থ পাচার নেটওয়ার্কের অন্ধকারে।

১২টি সংস্থার তদন্তে কোনো ক্লু বের হয়নি। উদঘাটন হয়নি কোনো রহস্যও। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনা তদন্ত এখনও সন্দেহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তদন্তে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি তদন্ত সংস্থা, ফিলিপাইন সরকার, ফিলিপাইনের জড়িত ব্যাংক আরসিবিসি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থার সন্দেহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরটিজিএস প্রকল্পকে ঘিরে। গোয়েন্দাদের ধারণা, অক্টোবরে এ সিস্টেমে কাজ করতে গিয়ে সুইফট শাখার তথ্য খোয়া গেছে। সেই তথ্য কাজে লাগিয়েছে অপরাধীরা। প্রথম দিকে ভারতীয় আইটি বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্থানাকে নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও পরে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি পরামর্শক হিসেবে দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ। এদিকে, নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর আইটি বিশেষজ্ঞ তানভির হাসান জোহাকে ফেরত পাওয়া গেছে। চুরির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এ সম্পর্কে বক্তব্য রাখায় রহস্যজনকভাবে তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনার পর তার পরিবার থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ তাও নেয়নি। এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন গভর্নর ফজলে কবির।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে একটি তিন সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গত ১৫ মার্চ গঠন করা হলেও ৮ দিন পর কমিটি গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছেন। এর আগে তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এই কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে অর্ন্তবর্তীকালীন রিপোর্ট এবং ৭৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে বলা হলেও এখনো তদন্ত কাজে কোন অগ্রগতি নেই বললেই চলে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. কায়কোবাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস। জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মার্কিন ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে মামলা চালানো হবে কিনা সে প্রশ্নে আইনজীবীদের সাথে সলা-পরামর্শ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনাকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চরম গাফিলতি বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুরি যাওয়া অর্থ ফেরাতে আইনী লড়াইয়ের ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের এক  প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আলোচিত এই অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে সাইবার বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের প্রায় আটশ কোটি টাকা নিউইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব টাকা ফেডারেল ব্যাংক থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায়। তবে হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে একই অ্যাকাউন্ট থেকে আরও  প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার লেনদেন বানচাল হয়ে গেছে। জেরুজালেম-ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি সাইবারআর্কের একজন উর্ধ্বতন পরিচালক আন্দ্রে ডালকিন এক ইমেইলে ব্লুমবার্গকে বলেছে, ‘বানান ভুলের ওপর নির্ভরতা কোনো নিরাপত্তা নীতি হতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অ্যাকাউন্টের গতিবিধি যদি পর্যবেক্ষণ করত, তারা দ্রুতই অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত করতে পারত। আর এসব সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্তের জন্য তাদের তৃতীয় পক্ষের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরও করতে হতো না।’ টাকা খোয়া যাওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিউইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের জন্য ফেডারেল ব্যাংকের বিরুদ্ধে এনেছেন অনিয়মের অভিযোগ। এ বিষয়ে আইনি লড়াইয়ের কথাও বলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এই পরিস্থিতিকে যোগ্যতার সঙ্গে সামাল দিতে পারেনি বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

ব্লুমবার্গের  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এমন একটি ব্যাংক ডাকাতি ঠেকানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও তৎপর হওয়া  প্রয়োজন ছিল। এমন ঘটনা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্যও একটি সতর্কবার্তা। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো যেসব অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশের  প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশীক রিজার্ভের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে, তাদের জন্য এই ঘটনাটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অর্জুনা মাহেন্দ্রন সিঙ্গাপুরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকই এই ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে খতিয়ে দেখছে। ফেডারেল ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মেসেজিং সিস্টেমকেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মূল চালিকাশক্তি হলো জনবল। তারা অলস হয়ে পড়ে এবং তারা বাজে অভ্যাস গড়ে তোলে।’

একই ধরনের আরও ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের ‘গভীর উদ্বেগ’ থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেছে সিঙ্গাপুরের ডিলয়িট্টে টুশে থমাতসু কনসালট্যান্টের পার্টনার ভিক্টর কিয়ং। তিনি বলেছেন, ‘এটা ভয়াবহ। নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই যদি এমন ভুল থাকে, তাহলে তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোও হয়তো খুব বেশি সুরক্ষিত নয়।’ ক্যানবেরা-ভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)  প্রকাশিত ২০১৫ সালের ‘সাইবার ম্যাচিউরিটি’ র্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো নিজেদের  প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে সুসঙ্গত সাইবার নীতিমালা চালু করেছে। তবে থাইল্যান্ড বা ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর  প্রতিরক্ষা আরও উন্নত হওয়া  প্রয়োজন বলে জানিয়েছে এএসপিআই। এই রাংকিং-এ বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে তাদের পরবর্তী রাংকিং-এ বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এএসপিআইয়ের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক টোবিয়াস ফিকিন বলেছে, এটা কৌত‚হলোদ্দীপক যে বাংলাদেশ সরকার তাদের নিজেদের ব্যাংকের থেকে মনোযোগ সরাতে ফেডারেল ব্যাংকের দিকে আঙুল তুলেছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনার এক তদন্তকারীকে উদ্বৃত করে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনফরমেশন সিস্টেম কর্মীদের অগোচরেই জানুয়ারি মাসে ব্যাংকের সিস্টেমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার কোড। এ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার নেই জানিয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে হ্যাকাররা হানা দেয় ব্যাংকের সিস্টেমে। এএসপিআইয়ের টোবিয়াস ফিকিন বলেছে, ‘আমরা জানি না কীভাবে ওই ম্যালওয়্যার সিস্টেমে  প্রবেশ করানো হয়েছিল। তবে ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, ব্যাংকের পরিচালন পদ্ধতি ও ব্যাংকের কর্মীদের ব্যাংকে আসা-যাওয়ার সব তথ্যই জানা ছিল হ্যাকারদের। সাইবার সিকিউরিটির  প্রসঙ্গে সবসময়ই সব থেকে দুর্বল স্থানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতি, লুকোচুরি : অনেক প্রশ্ন

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন : বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনিয়ম ও জনগণের অর্থের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব যাদের সেই বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভের অর্থ খোয়া গেছে। প্রশ্ন উঠছে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও। প্রকৃত ঘটনা হলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব সুইফট কোডের মাধ্যমেই অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সুইফট কোড নিয়ন্ত্রণ করা হয় ভারত থেকে। অর্থ লুটের পর নিয়ন্ত্রণে জড়িতদের বাংলাদেশে আসতে বলা হলেও তারা আসছে না। সুইফট তথা সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন হলো বেলজিয়ামভিত্তিক আন্তব্যাংক আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে আন্তব্যাংক লেনদেনের পরিচিতি শনাক্ত করা হয়- যা মূলত সংকেতলিপি তথা কোডের মাধ্যমে করা হয়। এক্ষেত্রে লেনদেনের তারবার্তা (ওয়ার) এই কোডের মাধ্যমে আদান প্রদান করা হয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইফট কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যে বার্তা (ওয়ার) বিনিময় হয়েছে, সেটি ছিল বিশ্বাসযোগ্য (অথেনটিক)। এখন পর্যন্ত আমাদের নেটওয়ার্ক অপব্যবহার হয়েছে, এ রকম কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। যার মানে দাঁড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো সুইফট কোড দিয়েই অর্থ সরানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সহজেই প্রশ্ন করা সম্ভব যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কী এই কোড পাঠানোর সঙ্গে জড়িত? তাহলে প্রশ্ন কে বা কারা হলো কে জড়িত?
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা দাবি করেছেন, ‘সার্ভার বাংলাদেশ থেকে হ্যাকড হয়নি। এটি দেশের বাইরে থেকে হয়েছে, যা আমাদের আওতার বাইরে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না’। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সার্ভার এরিয়া খুবই সুরক্ষিত। আইডি প্যানেলে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ও এন্টি-ভাইরাস প্রুফ। এতে সুইফট কোড হ্যাকড হওয়া তো দূরের কথা, এর আইডি প্যানেলে তৃতীয় কোনো পক্ষের প্রবেশ করার সুযোগও নেই। সঙ্গত কারণে হ্যাকারদের মিশন এখানে কোনোভাবেই সফল হবে না। ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষও সাফ জানিয়ে দিয়েছে – তাদের দফতর থেকেও হ্যাকড হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাহলে প্রশ্ন হল- কথিত হ্যাকাররা কীভাবে হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি করে নিয়ে গেল।
এ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া ৮৭ কোটি ডলার ফিলিপাইনের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাচার হওয়ার চেষ্টা গত মাসে নস্যাৎ হয়ে যায়। যদিও তার কিছুদিন আগেই একই উৎস থেকে আসা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশটির ব্যাংকিং চ্যানেলে ঢুকে পড়ে এবং পরে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) স্থানীয় গ্রাহকদের নামে ছাড় করা হয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে অনুপ্রবেশকৃত মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক নির্ভরশীল সূত্রে জানা গেছে, শ্রীলঙ্কা থেকে উদ্ধার করা দুই কোটি ডলার গিয়েছিল সে দেশের একটি ব্যাংকে নতুন খোলা এনজিও-র (বেসরকারি সংস্থা) হিসাবে। কনসালট্যান্সি বা পরামর্শক ফি হিসেবে ওই অর্থ স্থানান্তরের ‘পরামর্শ’ গিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকেতলিপি থেকে। কিন্তু শ্রীলঙ্কায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন শক্তিশালী হওয়ায় নতুন একটি হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সন্দেহের চোখে দেখেছে। তখন ওই ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিষয়টি শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আনা হলে সেই অর্থ আটকে দেয়া হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, ফিলিপাইনেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তর হয়ে জমা হয়। পরে সেখান থেকে অন্য হিসাবে সে সব অর্থ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফিলিপাইনের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের দুর্বলতা এবং ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকায় বড় অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেন সত্ত্বেও তা অনায়াসে এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে চলে যায়। ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চুরি করা অর্থের বড় অংশই কয়েকটি ক্যাসিনোর হাত ঘুরে ফিলিপাইন থেকে বেরিয়ে হংকংয়ে চলে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের লুকোচুরি: গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে মজুদ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে মোট ১০ কোটি ১০ লাখা ডলার শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে পাচার করা হয়। অর্থ পাচারের পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংককে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘটনা জানায় এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত দেয়। কিন্তু ফিলিপাইনে পাচার হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ লাখ ডলার লুটেরা নিয়ে যেতে পেরেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হলো ৫ ফেব্রুয়ারির এ ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংক এক মাসেরও বেশি সময় ধামাচাপা দিয়ে রাখে। এমনকি গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের সংবাদপত্র ‘দি ফিলিপিন্স ডেইলি ইনকোয়ারার’ অর্থ পাচারের প্রতিবেদন ছাপলেও ৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিত এক বিবৃতির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে আলোচিত এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। একই দিন অর্থমন্ত্রী জানান, তিনি সংবাদপত্র থেকে অর্থ পাচারের কথা জেনেছেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে কিছুই জানায়নি। প্রশ্ন হলো- এতবড় ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংক কেন এতদিন চেপে রেখেছিল এবং এক মাসেরও বেশি সময় খোদ অর্থমন্ত্রীকেও তারা ঘটনা অবহিত করেনি কেন?
খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ নিয়েও সংশয় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো স্পষ্টভাবে খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করেনি। এখনো তারা বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করছে। প্রশ্ন হলো, জনগণের অর্থ নিয়ে এত লুকোচুরি কেন? কেন্দ্রীয় সার্ভারের কম্পিউটারগুলো যাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয় তারা খুবই প্রযুক্তি দক্ষ। এই সার্ভারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েকজন উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞও রয়েছেন। যারা সুপার অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করেন। আবার তাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করেন আরও বেশকিছু অ্যাডমিন। তারা ফাস্টলাইনে থেকে আইডিগুলো পরিচালনা করেন। এদের প্রত্যেকে পৃথক আইডি ও আইপি ব্যবহার করে থাকেন। আবার কাউন্টার চেকিংয়ে তারা সার্ভারে কী করছেন তা প্রধান অ্যাডমিন পর্যবেক্ষণ করেন। কিন্তু সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে হ্যাকারদের এমন আক্রমণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেই হ্যাকারদের লোক থাকতে পারে। আর এজন্য স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রযুক্তি জানা গোয়েন্দাদের এ অনুসন্ধান ও তদন্তে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সার্ভারের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বোঝা যাবে আসলে কী হয়েছিল। যদিও ম্যালওয়ার ভাইরাস আক্রমণের কথা বলা হচ্ছে। আদৌ কোনো ভাইরাস আক্রমণ করেছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুরো বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো ধোঁয়াশা তৈরি করে রেখেছে। সবচেয়ে আশ্চার্যের বিষয় হলো, দেশে সাইবার বিশেষজ্ঞ দল, র‌্যাবের আইটি বিশেষজ্ঞ, আইসিটি মন্ত্রণালয় থাকা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক ভারতীয় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞকে এ কাজে নিয়োজিত করেছে।
সবই জানতেন আরসিবিসি শাখার কর্মকর্তারা: ইনকোয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিটে অবস্থিত ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন বা আরসিবিসি শাখায় মূল লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল। শাখাটির প্রধান এ নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিষদ বরাবর দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইয়ুচেংকো পরিবার পরিচালিত ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তারা লেনদেনের একেবারে আদি-অন্ত জানতেন। কয়েক মাস আগে সৃষ্ট ৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তহবিলগুলো জমা করা হয়েছিল এবং তা পেসোতে রূপান্তরিত করতে ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্রোকার ফিলরেমে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এরপর তা আরসিবিসি বরাবর স্থানান্তর করা হয় এবং তা চীনা বংশোদ্ভূত এক ফিলিপিনো ব্যবসায়ীর নামে রাখা হয়। আর সেখান থেকেই সেগুলো ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। ফিলিপাইনের এক সরকারি সূত্রের বরাতে ইনকোয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় ক্যাসিনো হয়ে অর্থগুলো হংকংয়ে জমা করতেন চীনা বংশোদ্ভূত ওই ফিলিপিনো ব্যবসায়ী।
ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের প্রতিনিধির দাবি, ২০১৫ সালের মে মাসে ম্যানেজারকে ৫টি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারাই এ আদেশ দেন। এ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খুলতে গিয়ে আরসিবিসি ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে ৫টি আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়। তবে কার্ডগুলোতে যেসব পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে তার সবগুলোই কাল্পনিক। ঘটনা প্রকাশের পর এখন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এ ব্যাপারে মুখ খোলার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইনকোয়ারার। কারণ তার আশঙ্কা, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সব দায় তার গায়ে দিয়ে দিতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে যে ৮০০ কোটি টাকা চুরি হয়েছে তা বিভিন্ন হাত হয়ে ক্যাসিনোতে চলে যায়। এসব টাকা জুয়ার আসর থেকে আবার নগদ টাকায় রূপান্তরের পর চলে যায় হংকংয়ের একটি অ্যাকাউন্টে। এদিকে আরও ৮৭০ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ। এই অর্থ দেশটির ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে পাচারের চেষ্টা চলছিল। যদিও ঘটনাটি গত মাসের। কিন্তু ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনকোয়ারার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আর এর আগে ১০১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) হ্যাকাররা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখান থেকে শ্রীলংকার ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবেশ করা ২০ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ঘটনাও অনেক আগের কিন্তু জানা গেল মাত্র ৭ মার্চ।
পত্রিকাটি বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, ওই ঘটনার মাত্র ক’দিন আগে ৮১ মিলিয়ন ডলার একই উৎস থেকে ফিলিপাইনের স্থানীয় ব্যাংকিং সিস্টেমে ঢুকেছিল এবং তা রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) এক স্থানীয় ক্লায়েন্টের কাছে আসে। যে ঘটনায় এখনো তদন্ত চলছে। যেখান থেকে গ্রাহকের হাতে চলে যাওয়া টাকা একটি ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারের কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে তা সিটি অব ড্রিমস ও মিদাসের সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সে অর্থগুলো জুয়ার আসরে নিয়ে বাজি ধরার উপযোগী করা হয়। আর শেষ পর্যন্ত আবার সেগুলোকে নগদ অর্থে পরিবর্তন করে হংকংয়ের একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
৮৭০ মিলিয়ন ডলার চুরি বানচাল করার পর নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিলিপাইনের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনা। তবে এ ঘটনা নাকি আরসিবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তারা আগে থেকেই জানতেন। ফিলিপাইনের এক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে ইনকোয়ারারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের নেয়া টাকাগুলো স্থানীয় ক্যাসিনো হয়ে হংকংয়ে জমা করেছেন চীনা বংশোদ্ভূত ফিলিপাইনের ওই ব্যবসায়ী। ব্যাংকটির ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের দাবি, ২০১৫ সালের মে মাসে ম্যানেজারকে ৫টি অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই এ আদেশ দেন। এ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো খুলতে গিয়ে আরসিবিসি ব্রাঞ্চের ম্যানেজারকে ৫টি আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়। যে কার্ডগুলোতে ব্যবহৃত পরিচয় ছিল কাল্পনিক। ঘটনা প্রকাশের পর এখন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তৈরি রয়েছেন বলে পত্রিকাটি তাদের খবরে প্রকাশ করেছে।
আরও প্রশ্ন: একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশের পুরো আর্থিক খাতকে ভঙ্গুর করে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক থেকে দলীয় পরিচয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনারও সমাধান হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। কারসাজি করে এখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি, যাদের সাথে ক্ষমতাসীনদের কারো কারো সাথে সখ্যতা আছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি সরকার। হলমার্ক, ডেসটিনির মতো নামসর্বস্ব কোম্পানিও সাধারণ জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও তা উদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার। সর্বশেষ এটিএম কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে দুষ্কুতিরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বহু উদাহরণ তো রয়েছেই। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হলো, কারসজি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ নেয়ার ঘটনা। কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, কোনো বিচার শেষ হয়নি, এমনকি কাউকে শাস্তি বা জবাবদিহি করতে হয়নি। এ কারণে দুবৃর্ত্তরা শতগুণ উৎসাহিত হয়ে এ ধরনের কাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও কর্তৃপক্ষ নানা কথা তৈরি করছে, লুকোচুরি করছে বিষয়টি নিয়ে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হলেও এত বড় ঘটনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর এবং সরকার প্রধান কোনো বক্তব্যই দেয়নি। কাজেই প্রশ্ন উত্থাপন জরুরি, যে বাংলাদেশ ব্যাংক হরহামেশা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কথা বলে, তারা এখন কি বলবেন?

সুন্দরবন – আগ্রাসী উন্নয়নের নতুন শিকার

Sundarbanদেওয়ান মওদুদুর রহমান : প্রাণ ও প্রকৃতির অনন্য এক জাদুঘর আমাদের সুন্দরবন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, স্বাদুপানির ডলফিন, নোনাজলের কুমির, দুরন্ত হরিণ, সুন্দরী, গেওয়া, গরানএসব কিছু মিলিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন হয়ে উঠেছে আশ্বর্য এক বিস্ময়। অথচ এই সুন্দরবনেরই একেবারে নিকটে হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প।

প্রায় দু’বছর ধরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, যৌথ কোম্পানী গঠন, সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ সহ নানা কর্মযজ্ঞ চলতে থাকলেও প্রকৃতিপ্রেমী সচেতন মহলের ধারণা ছিল হয়তোবা কোন এক পর্যায়ে সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে বিধ্বংসী এ প্রকল্প হতে সরকার সরে আসবে। কিন্তু সর্বশেষ গত এপ্রিলে ভারতের সাথে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট তিনটি আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তিকে অনেকেই দেখছেন কফিনের শেষ পেরেক হিসেবে।

উন্নয়নের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে বিদ্যুৎ। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট মানুষগুলোর কাছে গত নির্বাচনে এ সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রতি ছিল বিদ্যুৎ সমস্যা দূরীকরণ। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকট উত্তরণে ১৩২০ মেগাওয়াটের এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে যে সুন্দরবন এলাকাকেই বেছে করা হবে সেটি কেউ ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করেনি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জ্বালানী হচ্ছে কয়লা। কয়লা খনি ব্যবসার প্রসারে পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় হিসেবে আধুনিককালে সিসিএস (পধৎনড়হ পধঢ়ঃঁৎব ধহফ ংঃড়ৎধমব) নামে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় সেটি আদতে কোন কাজে আসে না। তাই রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মারাত্মক দূষণ যে বাতাসমাটিপানির মাধ্যমে সুন্দরবনে প্রাণপ্রকৃতিতে চরমতম আঘাত হানবে তা বলাই যায়। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বছরে প্রয়োজন হবে ৪৭ লক্ষ টন কয়লা যা জাহাজযোগে নিয়ে আসা হবে ইন্দোনেশিয়া, অষ্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। সুন্দরবনের বুকের উপর দিয়ে বয়ে চলা পশুর নদীর উপর দিয়ে দূষিত কয়লা বোঝাই জাহাজগুলো চলাচল করবে বছরের প্রায় ২৩৬ দিন। এতে পরিবহনকালে কয়লার ভাঙ্গা টুকরা, তেল, ময়লা আবর্জনা দিয়ে সুন্দরবনের পানি দূষিত হবে। সৃষ্ট ঢেউয়ে পাড় ভাঙবে। উন্মুক্ত চলাচলের সুযোগে সুন্দরবনে চোরাই শিকারী বাড়বে। এই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পোড়ানোয় তৈরী হবে বিষাক্ত ধোয়া। যাতে থাকবে সালফার ডাই অক্সাইড, নাইট্রজেন অক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড। এছাড়া আর্সেনিক, পারদ, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, ক্রোমিয়াম, রেডিয়াম এগুলোর মারাত্মক দূষণ তো রয়েছেই। এতে এসিড বৃষ্টি হবে, যা কিনা উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর জন্য মারাতœক হুমকি।

থাইল্যান্ডের মাই মোহ’তে ২৬২৫ মেগাওয়াটের অনুরূপ একটি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে বৃষ্টির পানিতে সালফেটের পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। সালফার দূষণে জমির ফলন কমে গেছে। এসিড বৃষ্টির ফলে ওই অঞ্চলের গাছপালা মরে যাচ্ছে। চীনের সানঝি নগরী এক সময় পরিচিত ছিল ফুল ও ফলের নগরী হিসেবে। অথচ মাত্র ৩০ বছরের ব্যবধানে কয়লা দূষণে এখন তা ধূসর পাহাড় আর কালো পানির শহরে পরিণত হয়েছে। ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট ইয়ুগ্যাং গ্রোট্টি’র হাজার বছরের ঐতিহ্য হালের কয়লা দূষণে এতটাই ভঙ্গুর হয়ে গেছে যে, সামান্য স্পর্শেই পাথর খসে পড়ে। তাই যতই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হোক না কেন অনূরূপ ঘটনা সুন্দরবনের ক্ষেত্রেও ঘটবে।

আধুনিককালে কার্বন দূষণের ভয়াবহতা বিবেচনায় শুন্য নির্গমণ নীতি ব্যবহার করা হয়। অথচ এ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে ৯১৫০ ঘনমিটার হারে পানি উত্তোলন করে পরিশোধনের পর ঘন্টায় ৫১৫০ ঘনমিটার হারে পশুর নদীতে ফেলা হবে। গ্রীষ্মে এ পানির তাপমাত্রা থাকবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর শীতে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক্ষেত্রে একদিকে কার্বন দূষনে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর অন্যদিকে, তাপীয় দূষণে মাছের বৈচিত্র আশংকাজনকভাবে কমে যাবে। ঠিক এমনিভাবে ইন্দোনেশিয়ার সিলাসাপ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তাপীয় দূষণে মাছের সংখ্যা কমে গেছে প্রায় ৫০ ভাগ।

এ প্রকল্পে শুরু থেকেই নানা অনিয়ম একেবারে স্পষ্ট। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশাল পরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণে স্থানীয় মানুষের দাবিদাওয়া আমলে নেয়া হয়নি। ৫ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপারে কোন চিন্তা করা হয়নি। শত শত কোটি টাকার ফসল, গবাদি পশু, হাসমুরগীমাছের খামার আর স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের কোন বিকল্প চিন্তা করা হয়নি। কাজ শুরুর পূর্বে কোন পরিপূর্ণ পরিবেশগত সমীক্ষা রিপোর্ট (ইআইএ) করা হয়নি। আর সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে বাস্তব সত্য ফুটিয়ে তোলা হয়নি।

প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে সুন্দরবন ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব বিষয়ক একটি গবেষণা করা হয়েছে। এই গবেষণায় পরিবেশগত প্রভাবের দিকগুলো ৩৪টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই প্রভাব কতটা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক হবে সেটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এই ৩৪টি ক্যাটাগরির ২৭ টিতেই পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। ৭টি ইতিবাচক প্রভাবের মধ্যে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নই একমাত্র বাস্তবিক ইতিবাচক পরিবর্তন। বাকি ৬ টিকে ইতিবাচক হিসেবে বলা হলেও সুন্দরবন ধ্বংসে সে প্রভাবগুলো ‘টনিকে’র মত কাজ করবে। ইতিবাচক পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে রামপাল ও তদঃসংশ্লিষ্ট এলাকায় নগরায়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসার প্রসার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও হাট বাজার সৃষ্টি। কিন্তু বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যাংগ্রোভ বনকে ঘিরে যদি শিল্পের প্রসার হয় কিংবা জনবসতি গড়ে ওঠে তবে সে বন আর কতদিন তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে তা ভেবে দেখবার বিষয়।

আধুনিককালে এ ধরণের বড় কোন প্রকল্পে পরিবেশগত প্রভাব মোকাবেলা করা হয় দুই উপায়ে। প্রথমটি হচ্ছে, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর অবস্থান, যার মাধ্যমে পরিবেশ আইন ভঙ্গের কঠোর শাস্তি দ্রুত সময়ে নিশ্চিত করা যায়। আমাদের দেশে এ দুটি জিনিসেরই বড় অভাব। আর তাইতো বুড়িগঙ্গায় আশ্রয় পায় নর্দমার পানি, গয়নাঘাট খাল ভরাট করে তৈরী হয় বিশাল বিপণী বিতান আর তিতাসের বুক চিরে তৈরি হয় চলাচলের রাস্তা।

যেই উন্নয়নের সিড়ি প্রকৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয় সেই উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। পরিবেশ ধ্বংসের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় সেই উন্নয়ন অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়ে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হতে যাচ্ছে সেই উন্নয়নের বাহন যেখান থেকে পাওয়া যাবে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আর বিলীন হয়ে যাওয়া সুন্দরবনের বিস্তৃত ন্যাড়া ভূমি।।

মাত্র ২১ লাখের বেতন বৃদ্ধি :: সাধারণের উপরে কতোটা চাপ বাড়বে

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

নতুন পেস্কেল বাস্তবায়নে বর্ধিত বেতনভাতার জন্য সরকারের বাড়তি খরচ হবে ২৩ হাজার ৮২৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা। তবে এ বছরই শুধু বর্ধিত বেতন দিতে হবে ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর বাজেটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতনভাতা খাতে অর্থ বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি রাখা হয়। চলতি বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ কর্মকর্তাকর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য ২৮ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আগামী বাজেটে ৫ শতাংশ বাড়লে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ হাজার ১৪৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বরাদ্দের পরিমাণ থাকছে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৪০ শতাংশ। বিস্তারিত »

পদ্মা সেতু এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয় উল্লম্ফন

এম. জাকির হোসেন খান

দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পদ্মা বহুমুখী সেতু বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের আহবানে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাইকা, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বহুপাক্ষিক অর্থ লগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাড়া দিয়েছিল। প্রত্যাশা ছিলো ২০১১ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের মূল সেতুর কাজ ২০১৩ সালে কাজ শুরু হয়ে সার্বিকভাবে প্রকল্পের সকল কাজ ২০১৫ সালেই সমাপ্ত হবে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে প্রাধমিকভাবে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার, যার মধ্যে মূলদাতা বিশ্ব ব্যাংক সহজ শর্তে (মাত্র ০.৭৫ শতাংশ হারে ১০ বছরে পরিশোধের ব্যবস্থায়) .২ বিলিয়ন ডলার ঋণ মঞ্জুর করে। ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রাকযোগ্যতা যাচাইয়ে জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে। বিস্তারিত »