Home » আন্তর্জাতিক (page 2)

আন্তর্জাতিক

রূপপুরের এপিঠ ওপিঠ- ৩ :: প্রকল্পে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহন !

অরুন কর্মকার ::

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারতের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বেশি করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে কিছু সহায়তা নিচ্ছে। এর একটা বড় অংশ জাতীয় পরমাণু কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাঠামো তৈরি। পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পের জন্যও জনবল প্রশিক্ষণসহ কিছু সহায়তার বিষয় আছে। এর বাইরে রাশিয়াও রূপপুর প্রকল্পের মৌলিক কাজে রাশিয়াকে যুক্ত করেছে। ফলে ভারতের অংশগ্রহণ হয়ে উঠছে সার্বিক।

এ ধরণের একটি পরিকল্পনা ভারতের ছিল। রাশিয়ার ছিল আগ্রহ। গত ১ মার্চ (২০১৮) মস্কোতে বাংলাদেশ, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে যে সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) সই হয়েছে তা এই দুয়েরই ফল। এর মাধ্যমে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যেকার সহযোগিতার সম্পর্ক যেমন নুতন মাত্রা পেল তেমনি ভূ-রাজনীতির মঞ্চে ও আন্তর্জাতিক পরমাণু ক্লাবে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হলো। এর মাধ্যমে ভারত চীনকেও বাগে রাখতে রাশিয়াকে পাশে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছে। তবে এই সমঝোতার অংশ হয়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করেছে বা করতে চাচ্ছে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলা হয়নি।

ওই সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ভারত শুধু যে তাঁদের অভিজ্ঞতা দিয়ে, রূপপুর প্রকল্পের জন্য জনবল প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং প্রকল্পের জন্য পরামর্শ সেবা দিয়ে সহায়তা করবে তা নয়। প্রকল্পের স্বার্থে ভারতীয় কোম্পানিগুলো প্রকল্পের নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন, এমনকি ভারতে উৎপাদিত কিছু সামগ্রী (ম্যাটেরিয়াল) এবং কিছু কিছু যন্ত্রপাতিও (নন-ক্রিটিক্যাল ক্যাটাগরি) সরবরাহ করবে।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর রোসাতোমের উপ মহাপরিচালক (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) নিকোলাই স্পাস্কি এক বিবৃতিতে এ সব কথা বলেছেন। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ এবং ভারতের কিছু কিছু গণমাধ্যম এই খবর প্রকাশ করেছে। ওই সমঝোতা স্মারকে নিজ নিজ দেশের পক্ষে সই করেন মস্কোতে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. সাইফুল হক, মস্কোতে ভারতের রাষ্ট্রদূত পংকজ শরণ এবং রোসাতোম তথা রাশিয়ার পক্ষে নিকোলাই স্পাস্কি।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় (আইএইএ) কাজ করেছেন এধরনের কয়েকজন পেশাজীবী  বলেছেন, ভারত পৃথিবীর পরমাণু বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপ (এনএসজি)-এর সদস্য নয়। এই গ্রুপের সদস্য ছাড়া কোনো দেশ পরমাণু চুল্লি (রিঅ্যাক্টর) নির্মাণে সরাসরি অংশ নিতে পারে না।

অন্যদিকে, রূপপুর প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সই হওয়া সাধারণ চুক্তি (জেনারেল কন্ট্রাক্ট) অনুযায়ী, প্রকল্পের পূর্ণ (এ টু জেড) বাস্তবায়নের দায়িত্ব রোসাতোম তথা রাশিয়ার। অর্থাৎ এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতির নকশা প্রণয়ন, উৎপাদন, সরবরাহ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ তাঁদেরই করার কথা। তাই এ সব কাজে অন্য কোনো দেশ বা তৃতীয় পক্ষকে যুক্ত করা বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সাধারণ চুক্তির বরখেলাপ কিনা এনিয়ে আইনগত প্রশ্ন আছে। এ ছাড়া, তৃতীয় পক্ষের সরবরাহ করা সামগ্রীর মান ওই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী নিশ্চিত হবে কিনা, এ সব সামগ্রির দাম ওই চুক্তিতে ধরা দামের সমান হবে কিনা- এ সব প্রশ্নও সংশ্লিষ্ট মহলে দেখা দিয়েছে।

তবে ত্রিদেশীয় সমঝোতা স্মারক হওয়ায় বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সাধারণ চুক্তির বরখেলাপ হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী, কোম্পানি ও চুক্তি আইনে অভিজ্ঞ তানজীব-উল আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, ক্রেতার (বাংলাদেশ) যদি কোনো আপত্তি না থাকে, প্রকল্পের ক্রেতা যদি তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ মেনে নেয়, সে ক্ষেত্রে চুক্তির বরখেলাপ বা আইনের ব্যত্যয় হবে না।

আর তৃতীয় পক্ষের সরবরাহ করা জিনিসপত্রের মান ও দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশিষ্ট পরমাণু প্রকৌশলী, যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৩০ বছর কর্মকাল শেষে অবসর নেওয়া মো. নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সই হওয়া সাধারণ চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাধারণ চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পের ‘এ টু জেড’ করার কথা রাশিয়ার। ভারতের সরবরাহ করা সামগ্রী ও যন্ত্রপাতির কারণে, তা যতই মাইনর হোক না কেন, যদি কোনো সমস্যা দেখা দেয় তার দায় কে নেবে? বাংলাদেশ, রাশিয়া নাকি ভারত?’

মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও এর কিছু সামগ্রি তৈরিতে ভারত অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। প্রয়োজন হলে আমরা আলাদাভাবে ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে সে সব বিষয়ে সহায়তা নিতে পারি। জনবল প্রশিক্ষনসহ কিছু কিছু বিষয়ে তা নেওয়াও হবে বলে দুই দেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে সমঝোতা হয়ে আছে। এর বাইরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের কোনো চুক্তির আওতায় আমরা ভারতের সহায়তা নেব কেন? তাহলে তো রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের চুক্তি সংশোধন করে নেওয়া উচিৎ।’

রূপপুর প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে বলেন রোসাতোমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্সি লিখাচেভ। গত বছর জুন মাসে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামে রূপপুর সংক্রান্ত এক আলোচনায় লিখাচেভ বলেন, ২০১৬ সালে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ব্রিকস’ শীর্ষ সম্মেলনের সময় ভারতের পক্ষ থেকে তাঁদের দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়োগের ধারণাটি উপস্থাপন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ এ ব্যাপারে কোনো আপত্তি করেনি।

এরপর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আইএইএর সাধারণ সম্মেলনে ভারতের অংশগ্রহণকারী উর্ধতন কর্মকর্তারা রূপপুর প্রকল্পের জন্য ভারত থেকে কিছু যন্ত্রপাতি ও নির্মাণ সামগ্রি (ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস) সরবরাহের প্রস্তাব দেন। ‘রোসাতোম নিউজলেটার বাংলাদেশ’-এর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের সংখ্যায় (ইস্যু ০০৮) এই খবর প্রকাশিতও হয়েছে।

ওই সময় ভারতের ‘ইকোনমিক টাইমস’-এর এক খবরে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কিভাবে একটি অর্থপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে রাশিয়া ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছে ভারত। বিদেশের মাটিতে রূপপুরই হবে ভারতের প্রথম কোনো পারমাণবিক প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশগ্রহন।

২০১৪ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যেকার ‘স্ট্রাটেজিক ভিশন ফর স্ট্রেনদেনিং কো-অপারেশন ইন পিসফুল ইউসেজ অফ অ্যাটমিক এনার্জি’-তে বলা হয়েছে, তৃতীয় কোনো দেশে রাশিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে সেখানে ভারতের নির্মাণ সামগ্রি, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সেবা প্রদান করা যায় কিনা দুই দেশ তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবে। গত ১ মর্চের এমওইউ এই স্ট্রাটেজি (কৌশল) বাস্তবায়নের মাধ্যম হতে যাচ্ছে।

গত বছর (২০১৭) এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার লক্ষ্যে যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে তার আওতায় ভারতের কাছ থেকে রূপপুর প্রকল্পের জন্য পরামর্শক সেবা নেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য জনবল প্রশিক্ষণে ভারতের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। রূপপুর প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশী পেশাজীবীরা তামিলনাড়ুর কুদনকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিতে শুরুও করেছেন।

এ ছাড়া, রূপপুর প্রকল্পের জন্য সরকার ভারতের ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপ (জিসিএনইপি)’-এর কাছ থেকে পরামর্শক সেবাও নিতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জিসিএনইপির সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি সই হওয়ার কথা। এগুলো সবই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে রাশিয়া রূপপুর প্রকল্পে তাঁদের কাজের সঙ্গে ভারতকে যুক্ত করার জন্য ১ মার্চের এমওইউ করেছে যার অংশ হয়েছে বাংলাদেশ।

রূপপুর প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ সম্পর্কে ‘ইউরেশিয়ারিভিউ ডট কম’ নামের একটি ইন্টারনেটভিত্তিক পত্রিকায় বলা হয়েছে, ভারতের জন্য এই সমঝোতা স্মারক অনেক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, রূপপুর প্রকল্পে অংশগ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারমাণবিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ভারত এক্সপোজার পাবে। রুশ বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে প্রকল্পের সকল পর্যায়ের নির্মাণকাজে অংশ নিতে পারবে যা ভবিষ্যতে ভারতকে রুশ প্রকৌশলী ও বাংলাদেশের পেশাজীবীদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যাবতীয় তথ্য সম্পর্কে জানা এবং সে সব তথ্য ব্যবহারের সামর্থ্য অর্জিত হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে। এই অভিজ্ঞতা তাঁরা অন্য দেশেও কাজে লাগাতে পারবে। মোট কথা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘নলেজ পার্টনার’ হিসেবে ভারত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হবে।

তাছাড়া, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অঙ্গনে ভারত একটি দায়িত্ব সম্পন্ন দেশ হিসেবে বিবেচিত হবে। এখানকার অভিজ্ঞতা নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপের সদস্যপদ পেতে সহায়ক হবে। সব জেনে-বুঝেই ভারত সুপরিকল্পিতভাবে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার সঙ্গী হয়েছে।

ঢাকা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর পাড়ে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত বছর অক্টোবরে প্রকল্পটির মূল নির্মাণপর্ব (ফাস্ট কংক্রিট পোরিং) শুরু হয়েছে। প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট বিশিষ্ট এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৩ সালে। এর পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিটে। রাশিয়ার উদ্ভাবিত সর্বাধুনিক (থ্রি প্লাস জেনারেশন) ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির চুল্লি এই কেন্দ্রে বসানো হচ্ছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ১২৬৮ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে বাংলাদেশ-রাশিয়ার মধ্যে সই হওয়া সাধারণ চুক্তিতে। এই ব্যয়ের ৯০ শতাংশ রাশিয়া ঋণ হিসেবে দিচ্ছে। তবে এর বাইরেও, এই প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের জন্য আরও প্রায় ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় হবে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা।

বিশ্বজুড়ে চাপের মুখে গণতন্ত্র : বাড়ছে বৈষম্য দমনপীড়ন, কমছে স্বাধীনতা

আসিফ হাসান ::

ক্ষমতার জন্য স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ, পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন ও লোকরঞ্জক ক্ষুধার প্রয়োগ অর্থাৎ দমনপীড়ন আরো কঠোর করার জন্য স্বৈরশাসকেরা সব হাতিয়ারই ব্যবহার করছে। এমনকি গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সরকারও ক্রমবর্ধমান হারে কঠোর হাতে শাসনকাজ চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আর সামাজিক বিভাজন অনেক অনেক আগে যতটুকু ছিল, তার চেয়েও গভীর হয়েছে। জার্মানভিত্তিক গবেষনা সংস্থা  বার্টেলসম্যান স্টেফটাঙের (বিটিআই) ‘দি কারেন্ট ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স’ এসব ঘটনার নেপথ্য কারণ এবং কোন কোন দেশ বিশেষভাবে এসবে আক্রান্ত, তা-ই তুলে ধরেছে।

গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি ও শাসনকাজের মান গত ১২ বছরে বৈশ্বিক গড়ে সর্বনিম্ন স্থানে নেমে গেছে। জার্মানীর গবেষনা সংস্থা বার্টেলসম্যান স্টেফটাঙের (বিটিআই) ‘দি কারেন্ট ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স’-এর প্রধান তথ্য হিসেবে এটিই ওঠে এসেছে। ২০০৬ সাল থেকে সংস্থাটি  ১২৯টি উন্নয়নশীল ও রূপান্তরশীল দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়মিতভাবে বিশ্লেষণ করেছে। তাদের সিদ্ধান্ত হলো : অধিকতর উন্নত গণতান্ত্রিক কয়েকটি দেশসহ ৪০টি সরকার গত দুই বছরে আইনের শাসন খর্ব করেছে, ৫০টি দেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ দেখা গেছে। অনেক দেশের শাসকই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুরোপুরি অথর্বতার পরিচয় দিয়ে গরিব ও প্রান্তিক লোকজনের ওপরই পুরো দায় চাপিয়ে দিয়েছে। অনেক সরকার ক্রমবর্ধমান সামাজিক, জাতিগত ও ধর্মীয় সংঘাতে যথাযথভাবে সাড়া দিতে পারেনি কিংবা অনেক ক্ষেত্রেই এমনকি এসব উত্তেজনায় ইন্ধনও দিয়েছে।

বার্টেলসম্যান স্টেফটাঙের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, এই তালিকায় থাকা অনেক সরকারের নিম্নমানের বা বাজে দক্ষতার প্রধান কারণ হলো- তারা সংলাপ ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক সংঘাতে সাড়া দিতে আগ্রহী নয় কিংবা সক্ষম নয়। সূচক অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে ৫৮টি দেশের চেপে থাকা সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। নির্বাচিত হওয়ামাত্র অনেক শাসকই নিজেদের রাজনেতিক ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অধিকার খর্ব করেছে। এ ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক লোকরঞ্জকদের মধ্যে রয়েছে হাঙ্গেরি ও তুরস্ক। অথচ এসব দেশের সরকার তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল। বার্টেলসম্যান স্টেফটাঙের আর্ট ডি গস গবেষণার তথ্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, অনেক শাসকই দমনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নেতৃত্বে তাদের অবস্থান পোক্ত করেছে। অবশ্য দীর্ঘ মেয়াদে কঠোর হাতে শাসনকাজ চালানো ও সংলাপে না বসার পরিণতি হয় খারাপ।’

বাড়ছে বৈষম্য, কমছে স্বাধীনতা :

গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের দিকে উন্নয়নের পথে অন্যতম বাধা হলো অসন্তোষজনক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭২টি উন্নয়নশীল ও রূপান্তরশীল দেশে ব্যাপক দারিদ্র্য ও উচ্চ মাত্রার সামাজিক বৈষম্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২২টি দেশে- এদের মধ্যে রয়েছে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভেনেজুয়েলা- আর এইসব দেশগুলোর গত ১০ বছরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাত্রার অবনতি ঘটেছে। একই মেয়াদে দেশগুলোর মাঝারি থেকে ভালো মানের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এক তৃতীয়াংশ থেকে এক চতুর্থাংশে নেমে গেছে।

আগের চেয়ে অনেক বেশি লোক কেবল কম বৈষম্যের মধ্যেই দিন গুজরান করছে না, তারা আরো বেশি দমনমূলক পরিবেশেও বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমান সময়ে ৩শ ৩০ কোটি লোক স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে রয়েছে (৪শ ২০ কোাটি  লোক রয়েছে গণতান্ত্রিক শাসনে)। সমীক্ষা শুরুর পর থেকে এত বেশি লোক কোনোকালেই স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে থাকতে দেখা যায়নি। যে ১২৯টি দেশে সমীক্ষা চালানো হয়েছে, তার মধ্যে বিটিআই ৫৮টিকে স্বৈরতান্ত্রিক  এবং ৭১টিকে গণতান্ত্রিক  হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। স্বৈরতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা সামান্য বৃদ্ধিতে উদ্বেগের কিছু নেই – এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। সবচেয়ে বেশি সমস্যার বিষয় হলো নাগরিক অধিকার খর্ব ও গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে পর্যন্ত আইনের শাসনের অবনতির বিষয়টি। ব্রাজিল, পোল্যান্ড ও তুরস্কের মতো সাবেক গণতান্ত্রিক বাতিঘর বিবেচিত দেশগুলোই এখন রূপান্তরশীল সূচকে পড়েছে সবচেয়ে বেশি করে।

আলোচ্য সময়সীমার মধ্যে কেবল বারকিনা ফাসো ও শ্রীলঙ্কাই গণতন্ত্রের পথে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হাসিল করেছে। বিপরীতে মোজাম্বিক, তুরস্ক ও ইয়েমেনসহ মোট ১৩টি দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। এসব দেশের পাঁচটি এখন আর গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদÐও পূরণ করতে পারছে না। এই পাঁচটি দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডা। স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোর অধীনে বছরের পর বছর ধীরে ধীরে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারসাম্য বজায় রাখার যে ব্যবস্থা নির্বাচন, সেটির মানে ঘাটতির কারণেই অনেক ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে।

স্বৈরতন্ত্রের চেয়ে গণতান্ত্রিক শাসন অনেক ভালো :

এসব ঘটনা অনেক দেশের নাগরিকের জন্যই উদ্বেগজনক। কারণ দুর্নীতি, সামাজিক বর্জন ও সুষ্ঠু অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিবন্ধকতা স্বৈরতান্ত্রিক সময়ে অনেক বেশি আধিপত্য বিস্তার করে। বিটিআইয়ের মতে, ১২টি গণতান্ত্রিক দেশ সফলভাবে দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছে, আর স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে পেরেছে মাত্র একটি। মাত্র দুটি স্বৈরতান্ত্রিক দেশ সমান সুযোগ যথাযথভাবে অর্জন করতে পেরেছে। গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে এই সফলতা পেয়েছে ১১টি। ২৭টি গণতান্ত্রিক ও মাত্র দুটি স্বৈরতান্ত্রিক দেশ বাজার ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা ভালোভাবে সক্রিয় রাখতে পেরেছে। বিটিআই সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, গণতান্ত্রিক দেশগুলোর চেয়ে গণতন্ত্রবিরোধী ব্যবস্থাগুলো কোনোভাবেই অধিকতর স্থিতিশীল ও কার্যকরব্যবস্থা নয়।

অবশ্য চীনের ক্ষেত্রে সত্যি যে – গত ১০ বছরেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশটি সবচেয়ে বিকশিত হয়েছে – অনেকের ধারণা স্বাধীনতার অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি অর্জনের প্রধান উদাহরণ। অবশ্য যারা চীনের অর্থনৈতিক সফলতার অবদান এর রাজনৈতিকব্যবস্থার ওপর আরোপ করতে চান, তারা সার্বিকভাবে স্বৈরতান্ত্রিক দেশগুলোর বাজে অর্থনৈতিক ফলাফলের বিষয়টি বুঝতে অক্ষম। রাশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলার মতো অন্যান্য স্বৈরতান্ত্রিকব্যবস্থায় বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়। ‘ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্সের’ বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে অর্থনীতি ও গণতান্ত্রিক – উভয়টির বিকাশই বছরের পর বছর স্থবির হয়ে আছে।

(প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ২২ মার্চ, ২০১৮)

ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন : রাজি নয় বিদেশী দাতারা

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন ::

প্রত্যন্ত একটি দ্বীপে এক লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে সরিয়ে নেওয়ার একটি পরিকল্পনায় দাতা ও সাহায্য সংস্থা এবং দেশগুলোকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন স্থানটিতে রোহিঙ্গারা সাইক্লোন, বন্যা ও মানব পাচারকারীদের সহজ শিকারে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দাতা ও সাহায্য সংস্থা এবং দেশগুলো। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এমন খবরই দিয়েছে।

কক্সবাজারের জনাকীর্ণ উদ্বাস্তু শিবিরগুলোতে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ উদ্বাস্তু বাস করছেন। তারা আসন্ন বর্ষা মওসুমে বন্যা, ভূমিধস ও নানা রোগের হুমকির মুখে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বিকল্প স্থান হিসেবে কয়েক মাস ধরে গড়ে তুলছে ভাসান চরকে। তবে চরটির অবস্থা দেখার জন্য সাহায্য সংস্থাগুলোকে অনুমতি দেয়নি সরকার। তবে ৪ এপ্রিল ব্রিফিংয়ের সময় তাদেরকে চরটি নিরাপদ- এমনটি বোঝাতে ব্যর্থ হন কর্মকর্তারা।

মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ‘স্ট্র্যাটেজিক এক্সিকিউটিভ গ্রুপের’ (এসইজি) নেতৃত্বে কক্সবাজার ক্যাম্পগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা ইন্টার-সেক্টর কো-অর্ডিনেশন গ্রুপ (আইএসসিজি) ওই পরিকল্পনার ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তাদের বক্তব্যে আইএসসিজি জানায়, দ্বীপটিতে বসবাস করার উপযোগী পরিবেশ নিয়ে মৌলিক প্রশ্নগুলোর জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। তারা জানায়, সরকার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় তাদের পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে দ্বীপটি অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী বিদ্রোহীদের দমনের নামে শুদ্ধি অভিযান শুরু করার পর থেকে প্রায় সাত লাখ উদ্বাস্তু বাংলাদশে প্রবেশ করে। মিয়ানমারের সৈন্যরা বেসামরিক লোকজনকে টার্গেট করেছে বলে যে অভিযোগ রয়েছে তা ওই দেশের সরকার অস্বীকার করে আসছে।

সাহায্য সংস্থাগুলো উদ্বাস্তুদের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ইউএনএইচসিআর গত মার্চে এক বিবৃতিতে জানায়, দুই লাখ তিন হাজার লোক বন্যা ও ভূমিধসের শঙ্কায় রয়েছে। বৃহত্তম ক্যাম্পটি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানায়, জায়গা খুবই দুর্লভ। বিদ্যমান ক্যাম্পটির আশপাশে উপযুক্ত কোনো স্থান পাওয়া যায়নি।

মেঘনা নদীর মোহনায় পলি জমে জমে ভাসান চরের (অর্থাৎ ভাসমান দ্বীপ) উদয় হয়েছে। সরকার এটিকে স্থায়ী ভূখন্ড ও উদ্বাস্তুদের সাময়িক আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করার জন্য ২৮০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘোষণা করেছে।

সরকারি স্লাইড প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে ১২০টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বন্যা মোকাবিলার জন্য ১৩ কিলোমিটার বাধও নির্মাণ করা হবে।

গত এপ্রিলে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডা মিশনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বলা হয়, মে মাসের মধ্যে কাজের বড় অংশ সমাপ্ত হবে, জুনে এক লাখ উদ্বাস্তুকে সেখানে নেওয়া যাবে।

কিন্তু জাতিসংঘ উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইসিআরের একটি নিজস্ব প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য ঝুঁকি ছাড়াও সাইক্লোন ও বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়ে গেছে। তাছাড়া অরক্ষিত লোকজনকে একটি এলাকায় আবদ্ধ করে রাখা হলে তারা মানব পাচারকারী ও চরমপন্থীদের খপ্পরে পড়ে যেতে পারে।

দাতাদের সামনে উপস্থাপিত স্লাইডে দেখা যায়, সরকার উদ্বাস্তু ও নিরাপত্তা কর্মীদের থাকার ব্যবস্থার পাশাপাশি সাহায্য সংস্থাগুলোর জন্যও স্থাপনা নির্মাণ করছে।

ভাসান চর প্রকল্পকে সমর্থন করার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএমের মুখপাত্র ফিওনা ম্যাকগ্রেগর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি একটি ইমেইলে বলেন, আমরা এখন কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি, পরিস্থিতি আরো ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করছি।

বিশ্বকাপের রাজনীতি আর অর্থনীতি

আসিফ হাসান ::

খেলা কেবল খেলাই নয়, এর সাথে জড়িয়ে থাকে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি। ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি যত বড় হবে, তাকে ঘিরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মারপ্যাচ ততো বেশি থাকে। রাশিয়ায় যে বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট হচ্ছে, সেটিও এর বাইরে নয়। মার্কিন-নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য বিশ্ব যখন বিভিন্ন ইস্যুতে রাশিয়াকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে; আবার রাশিয়া যখন তার হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে- ওই সন্ধিক্ষণেই ওই দেশটিতেই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় একক বৃহত্তম ক্রীড়ানুষ্ঠানটি। অলিম্পিক গেমসে এর চেয়ে বেশি দেশ অংশ নেয়, কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে যে উন্মাদনার সৃষ্টি হয়, তা অন্য কোনো ইভেন্টে দেখা যায় না।বিশ্বকাপে শিরোপার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে যেমন ৩২টি দলকে বিপুল প্রয়াস চালাতে দেখা যায়, তেমন এই আসর আয়োজন করার দাবিদার হতেও কম কাঠখড় পোড়াতে হয় না। বরং বিশ্ব-রাজনীতির কলকাঠিগুলো তীব্র বেগে নড়াচড়া করতে থাকে আয়োজক দেশ হওয়ার লড়াইয়ে। নানা সমীকরণ কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও সবচেয়ে জনপ্রিয় আসরটির আয়োজক হওয়ার দৌড়ে জয়ী হওয়া সম্ভব হয়।বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে এটিও কম সম্মানের ব্যাপার নয়। এখানে লড়াইটি কম জমজমাট নয়।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক হতে চেয়েছিল রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্ধী অনেক দেশই। খোদ যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়াও ছিল। কিন্তু তারা বাদ পড়েছে কিংবা রুশ সমীকরণের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কিন্তু রাশিয়া একদফা জিতে আছে।  রাশিয়া যে আবার সোভিয়েত আমলের  প্রভাব সৃষ্টি করতে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে, বিশ্বকাপ আয়োজনের কৃতিত্ব লাভ তারই একটি আলামত। মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপে তারা যে এখনো মার্কিন প্রভাবিত বিশ্বের সাথে লড়াই করতে পারে, সেটিই তারা দেখিয়েছে এই আসর আয়োজনের মাধ্যমে। আর ভ্লাদিমির পুতিন এর মাধ্যমে দেশে ও সেইসাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে ও তার দেশকে তুলে ধরার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

কয়েক মাস ধরেই পুরো বিশ্বের নজর রাশিয়ার দিকে। আর বিশ্বকাপ চলাকালে রাশিয়াই থাকছে বিশ্বের প্রতিটি সংবাদমাধ্যমের প্রধান খবর। দুনিয়াজুড়ে এই মাতামাতির প্রত্যক্ষ প্রভাব যেমন আছে, তেমনি আছে পরোক্ষ এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব। একে পুঁজি করে অনেক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। রাশিয়া তাই হিসাব কষেই এই পথে নেমেছিল।

অনেক সময়ই দেখা গেছে, নিজেরা না পারলেও প্রতিদ্বন্দ্ধী কোনো দেশ যাতে এই সম্মান লাভ করতে না পারে, সেই চেষ্টা দেখা যায়। রাশিয়ার ক্ষেত্রেও তা হয়েছে। রাশিয়ায় যাতে বিশ্বকাপ না হতে পারে, সেই চেষ্টা একেবারে শেষ সময় পর্যন্ত ছিল। কিন্তু রাশিয়া শেষ পর্যন্ত তার অবস্থানে টিকে থাকতে পেরেছে। যে দেশটিকে বয়কট করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইন করেছে, এমনকি তৃতীয় দেশ বড় ধরনের ব্যবসা করলে তাদেরও অবরোধের মুখে পড়তে হবে বলে হুমকি দিচ্ছে, সেই দেশের দিকেই সবার নজর পড়াটা কম কৃতিত্বের বিষয় নয়।

রাশিয়া অবশ্য কেবল রাজনীতিতেই লাভ খুঁজছে না, অর্থনীতিতেও এর মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বিশ্বকাপ আয়োজন করতে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ লাগে। নতুন নতুন স্টেডিয়াম বানাতে হয়, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে দেদারসে ব্যয় করতে হয়। কিন্তু তারপরও আয়োজক দেশ অর্থনৈতিকভাবে বিপুল লাভবান হয়। সংগঠকরা আশা করছেন, বিশ্বকাপের মাধ্যমে রুশ অর্থনীতিতে ৩১ বিলিয়ন ডলারের প্রভাব ফেলবে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে দেশটির জিডিপি ১.৬২ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ১.৯২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই রুশ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এক হিসাবে দেখা গেছে, বিশ্বকাপ আয়োজনে মোট ব্যয় হচ্ছে ১১ বিলিয়ন ডলার (৬৮৩ বিলিয়ন রুবল)। এতে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার চাকরি সৃষ্টি হয়েছে।

জাঁকজমক আয়োজন করে লাভবান হওয়ার ইতিহাস রাশিয়ার সাম্প্রতিক অতীতেও আছে। এই ২০১৪ সালের সোচিতে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিক গেমসে রাশিয়া ৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে চমক দেখিয়েছিল। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শীতকালীন গেমসে পরিণত হয়েছিল।

বিপুল ব্যয়ের পরিণামে সোচি এখন সারা বছর পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ওঠে এসেছে। বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে এর চেয়েও বেশি লাভবান হবে বলে অনেকে মনে করছে।

তবে চূড়ান্ত লাভ-লোকসানের হিসাব মেলে অনেক পরে। সেই হিসাব মেলানোর কাজটির জন্য আমাদের আরো কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

 

চীন : পরাশক্তির বিবর্তন-৬১ : সামরিক হুমকির মুখে চীন

আনু মুহাম্মদ ::

চীনের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি শুধুবিশ্ব  বাণিজ্য নয় বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্যেও চাপ সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক সংকটে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে চীন নিয়ে বিপরীতমুখি প্রবণতা। একদিকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ঋণদাতা, প্রধান বিনিয়োগকারী, প্রধান পণ্য যোগানদাতা হিসেবে বড় ভরসাস্থল অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তার আধিপত্য সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। মার্কিন প্রশাসন থেকে তাই চীন সম্পর্কে দ্বিমুখি  ভূমিকা দেখা যায়।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের অধিকার দাবি নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় পৃষ্ঠপোষকতা আছে। দক্ষিণ চীন সাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়েই মার্কিন বন্দর অভিমুখে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের পণ্য পরিবহণ করা হয়। পূর্ব এশিয়া অভিমুখে বিশাল খনিজ-জ্বালানী সম্পদও এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়। মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই সমুদ্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মৎস্যসম্পদ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ খনিজসম্পদ আছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন। মার্কিন জ্বালানী বিষয়ক দফতরের হিসাব অনুযায়ী এই সাগর এলাকায় কমপক্ষে ১১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং ১৯০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত আছে।[1]  এই অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যখন চীন চেষ্টা করছে তখন একই দাবি নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনেই, তাইওয়ানসহ অন্যরা। এই বিবাদ ও উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই সুবিধাজনক।

[1]http://www.cnbc.com/2015/10/12/chinas-military-and-naval-buildup-in-south-china-sea-threatens-the-us.html

২০১৫ সালে খুবই গোপনীয়তার সাথে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে সামরিক মহড়া পরিচালনা করে। মহড়ার মূল বিষয় ছিলো মালাক্কা প্রণালীতে চীনের প্রবেশাধিকার বন্ধ করা এবং মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে তেল, গ্যাস ও কাঁচামাল প্রাপ্তির পথ বন্ধ করা। এসব পরিকল্পনা সফল করতে ফিলিপাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সক্রিয় করা, জাপানকে যুদ্ধমুখি করা, দক্ষিণ কোরিয়াকে যুদ্ধ উত্তেজনার মধ্যে নিয়ে যাওয়াসহ সবধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটা নিছক ট্রাম্প প্রশাসনের বিষয় নয়, ওবামা প্রশাসনের প্রথম দফাতেই হিলারী ক্লিনটন এবিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। হিলারী ২০১০ সালেই বলেছিলেন, চীন যে দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্রাটলি দ্বীপের ওপর স্বত্তাধিকার দাবি করছে তা যুক্তরাষ্ট্রের নৌচলাচল ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এই দ্বীপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব ১২ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।

২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে যুদ্ধখাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। শুধু ইরাকেই দশ লক্ষাধিক মানুষ নিহত এবং ১২ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছেন। অন্যদিকে তার তুলনায় অনেক কম বাজেট হলেও চীনের প্রতিরক্ষা ব্যয়বৃদ্ধি, নিত্য নতুন সামরিক সরঞ্জামে সজ্জিত হবার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে যতোটা উদ্বেগ তার চাইতে বেশি প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। কংগ্রসে উত্থাপিত পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীন সামরিক খাতে ব্যয় এখন ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ তা ২৬০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেট এখন ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। ২০১৫ সালে পেন্টাগন তার সর্বশেষ ‘যুদ্ধ বিধি’ (Law of War Manual) প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, যেহেতু ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কোনো চুক্তিতে সই করেনি। সুতরাং পারমাণবিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈধ অস্ত্র।’

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা এবং অবরোধ জারির জবাবে তা ব্যবহারের হুমকি ঐ অঞ্চলে যুদ্ধ উত্তেজনা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ভর করে বিপুল যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। তবে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি অনেক দিন থেকেই ক্রমে ক্রমে বাড়ানো হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, মার্কিন এই প্রস্তুতিতে উত্তর কোরিয়া নিছক উপলক্ষ, চীনই প্রধান লক্ষ।

বিশ্ব বিখ্যাত তথ্যচিত্র নির্মাতা জন পিলজার সর্বশেষ যে তথ্যচিত্র বানিয়েছেন তার নাম ‘চীনের বিরুদ্ধে অত্যাসন্ন যুদ্ধ (The Coming War on China)।’ তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেনও। [2] তিনি জানিয়েছেন, এই তথ্যচিত্রের তথ্য উপাত্ত সন্ধান ও প্রয়োজনীয় গবেষণা করতে তিনি দুইবছর সময় নিয়েছেন। তিনি দেখেছেন, দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র সবচাইতে ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন ঘিরে। সর্বশেষ হিসাবে চীন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এখন ৪০০টি সামরিক ঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে মিসাইল, যুদ্ধজাহাজ এবং পারমাণবিক অস্ত্রসহ বিপুল অস্ত্রশস্ত্র মজুত আছে। বর্তমান মার্কিন সেক্রেটারি অফ ডিফেন্স (প্রতিরক্ষা মন্ত্রী) বলেছেন, ‘মার্কিন নীতি হলো তাদেরকে দমন করা- যারা মার্কিন আধিপত্য কেড়ে নিতে চায়।’

2https://newint.org/features/2016/12/01/the-coming-war-on-china/

 

 

 

 

 

মাহাথির কী পারবেন প্রতিশ্রুতিপূরণ করতে?

মোহাম্মদ হাসান শরীফ::

মালয়েশিয়ায় নির্বাচনের ফলাফল সাধারণভাবে অনুমান করা যেতো। সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগে পর্যন্ত ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গ্যানাইজেশন (আমনো) ও কয়েকটি দল নিয়ে গঠিত জোটটি সেই ১৯৫৫ সাল থেকে জিতে আসছিল। ক্ষমতায় থাকার জন্য বছরের পর বছর ধরে আমনো সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করেছে। কখনো তারা দেশটির জাতিগত গ্রুপগুলোর মধ্যকার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উস্কে দিয়েছে, কখনো সমালোচকদের জেলে ঢুকিয়েছে, কখনো নির্বাচনে কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে, কখনো ভোটারদের ঘুষ দিয়েছে, লোকরঞ্জক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কিংবা হেরে গেলে অশান্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত ৯ মে অনুষ্ঠিত নির্বচানের সময়ও তারা এই কৌশলগুলোর সবই প্রয়োগ করেছে। কিন্তু তারপরও নাজিব রাজাকের সরকার বিরোধী দলের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগে ছিল। মালয়েশিয়ার ভোটারদের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদায় ঘটে, বিরোধী জোট খুব সহজেই জয়ী হয়। আর এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়ায় সরকার পরিবর্তন ঘটল।

যে দেশে রাজনীতি সবসময় সাম্প্রদায়িক নীতিতে পরিচালিত হয়, সেই দেশে জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার পরিবর্তন বিশাল একটি ঘটনা। যে অঞ্চলের সহজাত স্বৈরতান্ত্রিক শাসকেরা অব্যাহতভাবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করে থাকেন, সেখানে গণতন্ত্রের বিজয় বিরাট কিছু। আর যে নাজিব মালয়েশিয়ার সরকারি সংস্থা থেকে ব্যক্তিগতভাবে ৬৮১ মিলিয়ন ডলার লুট করেছেন বলে মার্কিন বিচার দফতর অভিযোগ করেছে, তার জন্য এই ফলাফল একটি বেশ বড় ধরনের চপেটাঘাতই ছিল।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে সহিষ্ণুতা ও গণতন্ত্রের বিরল উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই মালয়েশিয়ার নামটি উচ্চারিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ক্রমাগতভাবে অন্যায় কৌশলের আশ্রয় নেওয়ায় এবং দেশটির মালয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠদের ক্ষমতায় বহাল রাখার জন্য প্রবল উন্মাদনা সৃষ্টি করায় এই উভয় কৃতিত্বই ম্লান হয়ে পড়েছিল। এখন নতুন সরকারের বিশ্বস্ততা ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে সত্যিকারের পরিবর্তন কতটা ঘটে।

সংশয়বাদীরা বলছেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য নাজিব যেসব নোংরা কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, সে সবের উদ্ভাবক ছিলেন আমনো থেকে পাঁচবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এই মাহাথির মোহাম্মদই। এই ডা. মাহাথিরই মালয়েশিয়ায় ঘৃণ্য বর্ণবাদী বিভেদনীতির প্রচার করেছিলেন, যাতে মালয় ভোটাররা আমনোর প্রতি অনুগত থাকে। আরো বড় বিষয় হলো, পাকাতান হারাপান নাম দিয়ে গঠিত যে জোটটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে, তারাও কিন্তু আমনোর নির্বাচনী-জালিয়াতি ঠেকাতে লোকরঞ্জক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারা অজনপ্রিয় কিন্তু অপ্রয়োজনীয় পণ্য-পরিষেবা কর প্রত্যাহার এবং নাজিবের প্রত্যাহার করা পেট্রোলে ভর্তুকি পুনর্বহাল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

নতুন সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের নেপথ্যে আরেকটি বিষয় কাজ করেছিল তা হলো আমনোর দলছুট ও সরকার পরিচালনায় তুলনামূলক সামান্য অভিজ্ঞতা থাকা বর্ষীয়ান বিরোধী রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিশালাকারের জোট গঠন। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে বলা যায় মাহাথির মোহাম্মদের সাথে আনোয়ার ইব্রাহিমের আঁতাতের কথা। একসময় আনোয়ার ইব্রাহিম ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী। তিনি তখন ছিলেন মাহাথিরের স্নেহধন্য। কিন্তু পরে তার বিরাগভাজনে পরিণত হন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা পায়ুকামের অভিযোগ এনে জেল ঘাটিয়েছিলেন মাহাথির। যে দলগুলো নিয়ে পাকাতান হারাপান গঠিত, তার নেতা হলেন এই আনোয়ার ইব্রাহিম। নাজিব যদি তাকে আবারো জেলে না পুরতেন, তবে ৯২ বছর বয়স্ক মাহাথিরের বদলে তিনিই হতেন এখন প্রধানমন্ত্রী। ডা. মাহাথির ও আনোয়ার ইব্রাহিম যদিও দাবি করেছেন, তারা তাদের আগের বিবাদ মিটিয়ে ফেলেছেন, কিন্তু তবুও পরিষ্কার নয়, কারামুক্ত আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে মাহাথির কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন।

এতসব সংশয়, সন্দেহের পরও কল্পনা করা কঠিন, আমনোর পরাজয়ের পরও মালয়েশিয়া আরো ভালো পথে এগিয়ে যাবে কি না। নতুন ক্ষমতাসীনদের জন্যই প্রয়োজন নির্বাচনীব্যবস্থাকে আরো সুষ্ঠু করা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এ ব্যাপারে একটি ইতিবাচক দিক হলো, ভোটাররা মধ্যপন্থা অবলম্বন করে আমনোর মালয় উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং কট্টর ইসলামপন্থী পাসের, তারা পাকাতান হারাপানে যোগ দেয়নি, আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। আমনোর ক্ষমতায় থাকার সময় নতুন এমপিদের অনেকেরই নানা ধরনের সরকারি পক্ষপাতিত্বের শিকার হতে হয়েছে। ওই অভিজ্ঞতার আলোকে তারা আমলাতন্ত্রকে আরো নিরপেক্ষ করতে চাইবেন। মালয় ভোটারদের বিপুল ভোটারের কারণে তাদেরকে এড়িয়ে যাওয়া খুবই কঠিন কাজ। তবে পাকাতান হারাপান সম্ভবত তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কিছু অংশ হলেও পূরণ করে আমনোর দোসরদের দুর্নীতি উদঘাটন করবে। জোটটি ওয়াদা করেছিল, তারা নাজিবের বিরুদ্ধে থাকা কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে রাজনীতিকে কুলুষতামুক্ত করতে সহায়তা করবে।

সম্ভবত নতুন সরকার অর্ন্তদ্বন্দ্ধ সামাল দিতে পারবে না, খুব বেশি কিছুও করতে পারবে না। কিন্তু তবুও তারা যদি কেবল টিকেও থাকে, তবুও মালয়েশিয়ার জনসাধারণ ও তাদের প্রতিবেশীদের মনে করিয়ে দেবে যে মাঝে মাঝেই শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পরিবর্তন হওয়া দরকার। কম্বোডিয়ান, সিঙ্গাপুরিয়ান, থাই ও ভিয়েতনামিরাও হয়তো চিন্তা করবে, ভাগ্য সহায় হলে একই ধরনের ঘটনা তাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। (ইকোনমিস্ট অবলম্বনে)

মোদি’তে ইসরাইলের এত আগ্রহ কেন?

মোহাম্মদ হাসান শরীফ ::

ভারতের প্রথম সরকার প্রধান হিসেবে ইসরাইল সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একে খুবই সফল সফর হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে যখন পোল্যান্ডে যাচ্ছিলেন, সেদিনই শেষ হলো মোদির ইসরাইল সফর।

অস্তিত্বের শুরু থেকেই ইসরাইলের বেশির ভাগ মিত্র পাওয়া গিয়েছিল পাশ্চাত্যে। জনসংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় দুই দেশ চীন ও ভারত আরবদের সমর্থন দিয়েছিল; ইসরাইলের সাথে দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্কও ছিল না।

অনেক বছর ধরেই ভারত ছিল বিশেষভাবে ইসরাইলের প্রতি বৈরী। ভারতের নেতৃত্বে থাকা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন অনেকবারই ইসরাইল বিরোধী ঘোষণা দিয়েছে।

অতীতে ইসরাইলী-ফিলিস্তিনী সংঘাতে ভারত ভারসাম্যপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে আসছিল। মোদিই এই ঐতিহ্যের পুরোপুরি ও বেপরোয়া লংঘন ঘটালেন। তিনি ফিলিস্তিনীদের সাথে সাক্ষাত করার গরজই অনুভব করেননি। এমন অবস্থায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটা বৈশ্বিক-ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ধরনের জোটগত পুনর্গঠন হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন অনেক।

চীন ও ভারতের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে ১৯৯২ সালে। একদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, অন্যদিকে ওসলো শান্তি-প্রক্রিয়া নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তখন থেকেই চীন, ভারত এবং আরো অনেক দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে ফেলল ইসরাইল।

শুরুতে চীন ও ইসরাইল উভয়ের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে ধীরে ধীরে। কিন্তু গত কয়েক বছরে উভয় দেশের সাথে বাণিজ্য বেড়েছে দ্রুত। ১৯৯২ সালে ইসরাইলের সাথে ভারতের বাণিজ্য ছিল ২০ কোটি ডলার। গত বছর তা দাঁড়িয়েছে ৪২০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, চীনের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো নাটকীয়ভাবে বড়েছে। ১৯৯২ সালে যেখানে ছিল মাত্র ২ কোটি ডলার, সেখানে গত বছর দাঁড়িয়েছে ৭৭০ কোটি ডলারে।

শুরুতে বেশির ভাগ বাণিজ্যই ছিল সামরিক সরঞ্জাম খাতে। আমেরিকার আপত্তির কারণে চীনের সাথে অস্ত্র বাণিজ্য সীমিত হলেও ভারতের সাথে সেটা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তবে চীন ব্যাপকভাবে ইসরাইলী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ করে। নতুন প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠা কোম্পানি- উভয় দিকেই নজর ছিল চীনাদের।

বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ের আগে পর্যন্ত চীন ও ভারত উভয় দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল অনেকটাই নিম্ন পর্যায়ের। তবে চলতি বছর এই অবস্থা বদলে গেছে। গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর উদযাপন উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে চীন সফর করেন। আর অতি সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী সফর করলেন ইসরাইল, যেটাকে কেবল পারস্পরিক ‘ভালোবাসা প্রকাশের প্রতিযোগিতা’ হিসেবেই কেবল বর্ণনা করা যায়।

এমন পরিবর্তন কেন ?

এর তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, ‘স্টার্ট-আপ ন্যাশন’ হিসেবে ইসরাইলের খ্যাতির কারণে চীন বা ভারতের পক্ষে দেশটিকে অগ্রাহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে দেশটি। ইসরাইলে এমন সব বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন ঘটিয়েছে, যেদিকে চীন বা ভারত আগে নজর দেয়নি। উভয় দেশের সাথে সরাসরি বাণিজ্য এখন বিপুল হলেও, পরোক্ষ বাণিজ্য আরো বিশাল। উভয় দেশই ইসরাইলের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, চীন ও ভারত উভয় দেশেরই বিপুল সংখ্যায় মুসলিম সংখ্যালঘুর আছে এবং তারা উভয়েই সন্ত্রাসবাদের ননানাদিক নিয়ে ভীত। পশ্চিম তীরে ইসরাইলী নীতিতে তারা একমত না হলেও ইসরাইলের সাথে উভয় দেশই ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সহযোগিতায় আগ্রহী।

তৃতীয়ত, আরব দেশগুলোর দুর্বলতা। উপসাগরের অনেক দেশই এখন ইসরাইলের সাথে সহযোগিতা করছে। ফলে ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই এখন ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক উন্নতি ঝুঁকিমুক্ত হয়ে পড়েছে।

আরেকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, নেতানিয়াহুর সফরের আগে মোদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে কোলাকুলি সেরে আসেন। আবার গত মাসে পুতিনের সাথে সাক্ষাত করে মোদি তাকে ‘সহজাত মিত্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। ব্যাখ্যা করলে কী দাঁড়ায়? পশ্চিম ইউরোপ ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের প্রতি বৈরী হয়ে ওঠেছে। জার্মানি তো ট্রাম্পকে চোখের বালি মনে করছে। ইউরোপের দৃষ্টিতে ইউরোপের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ট্রাম্পকে তাদের প্রতিরোধ করতেই হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন অবস্থা আর দেখা যায়নি। ৩০ বছর আগে বিশ্ব মোটামুটিভাবে উদার গণতন্ত্র এবং কমিউনিস্ট ব্যবস্থায় বিভক্ত ছিল। এখন উদার গণতন্ত্রের সাথে লড়াই হচ্ছে স্বৈরতান্ত্রিক প্রতাপশালীদের মধ্যে। মোদি, ট্রাম্প, নেতানিয়াহু, পুতিন- কি এক কাতারে পড়ছেন না?

মোদিকে ইসরাইলে স্বাগত জানানোর জন্য নেতানিয়াহু তার মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করেন। এই সফরটি যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমপর্যায়ের হয়, তার সব আয়োজন নিশ্চিত করেন নেতানিয়াহু। মোদির ইসরাইলে অবস্থানের পুরোটা সময় নেতানিয়াহু তার সাথে ছিলেন।

রাস্তায় লোকজনও মোদিকে বিপুল আগ্রহভরে গ্রহণ করেছিল। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী না বলে থাকতে পারেননি এবং তিনি বারবার বলছিলেন, ‘আমেরিকা যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তখন মোদির উষ্ণ সফরটি অবশ্যই দারুণ বিষয়’।

এই সফরকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বড় ধরনের প্রশ্ন এখন ঘুরপাঁক খাচ্ছে। চীন ও ভারতের সাথে সম্পর্ক গভীর করার মাধ্যমে ইসরাইল কি এখন নতুন মিত্রদের সন্ধান করছে? যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিম ইউরোপে তার ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ফেলতে যাচ্ছে?

ট্রাম্পের আমলে বিষয়টা বিশেষভাবে সত্য। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলে আসছেন, তিনি ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, অন্যদিকে মনে হচ্ছে, আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি এলোমেলো হয়ে পড়েছে। এ কথাটাই জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত গর্বভরে বলেছেন, আমেরিকার নীতি এখনো পুরোপুরি অনিশ্চয়তাপূর্ণ।

অনেকেই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বেশ আগ্রহ নিয়ে গ্রহণ করছে। তারা মনে করছেন, চীন ও ভারতের সাথেই তাদের ভবিষ্যত। অবশ্য অনেকে এখনো ততটা উৎসাহী নয়। তাদের মতে, ইসরাইল প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। অভিন্ন মূল্যবোধ পোষণ করে দুই দেশ। তাছাড়া আমেরিকান ইহুদি সম্প্রদায়ের সমর্থনের কথাটা কিভাবে ভোলা যায়?

ইসরাইলের নতুন মিত্রদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহে থাকা লোকজন আরেকটি কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেটা হলো যুক্তরাষ্ট্র সবসময় ইসরাইলের পক্ষে ভোট দিয়ে আসছে আর চীন তাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। আর ভারত কিছু দিন ধরে কৌশলগত ভোট দানে বিরত থাকছে।

নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ইসরাইল দুটির একটি বেছে নেওয়ার মতো কোনো সমস্যায় পড়েনি;  অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের কথাটা বাদ দিলে। এই মুহূর্তে প্রাচ্যে তার নতুন জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে উপভোগ করছে। আবার ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের সাথেও সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

তবে ইসরাইল যখন বিডিএসের (বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং অবরোধ) যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখন পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশের সাথে বিপুল সম্পর্ক ইসরাইলকে নিঃসঙ্গ করার তাদের প্রয়াসকে বিদ্রুপে পরিণত করছে। কারন ভারত আর ইসরাইল এখন প্রকাশ্যের ঘনিষ্ট বন্ধু ও মিত্র।

(নিউজ উইক ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট অবলম্বনে)