Home » সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার

‘মাদকের মূল হোতারা চিহিৃত হচ্ছে না, তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে’ : সুলতানা কামাল

এ্যডভোকেট সুলতানা কামাল, বিশিষ্ট মানবাধিকার সক্রিয়বাদী এবং দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দুর্নীতিবিরোধী নজরদারী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর চেয়ারপারসন এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। মাদক বিরোধী অভিযান সম্পর্কে সুলতানা কামাল বিস্তারিত মূল্যয়ন করেছেন আমাদের বুধবারের সাথে এক সাক্ষাতকারে।

আমাদের বুধবার : মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যে যুদ্ধ আইন-শৃংখলাবাহিনী চালাচ্ছে সেটিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ণ করেন?

সুলতানা কামাল : মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে কথা আইন-শৃংখলাবাহিনী থেকে বলা হচ্ছে, সেটি যদি সত্যি সত্যিই ওয়ার অন ড্রাগস হয়ে থাকে, তবে সে ব্যাপারে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। মাদক যে কত ক্ষতিকর হতে পারে এবং একটি জাতিকে কীভাবে অবক্ষয়ের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে, সে সম্পর্কে সবার কিছু না কিছু ধারণা রয়েছে। কাজেই এটি একটি জরুরি বিষয়। রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব এর সমাধান করার এবং যাতে করে সমাজে মাদক ঢুকে যেতে না পারে বা বিস্তৃতি লাভ করতে না পারে। হয়তো মাদককে একেবারে নিমূর্ল করা যাবে না, কিন্তু অবশ্যই এক্ষেত্রে একটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থানে আমরা পৌঁছাতে পারি। কথা হচ্ছে সেই যুদ্ধটা কোন পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হচ্ছে। আমি বলছি বলে না, মানবধিকারের কতগুলো শর্ত আছে। যে শর্তগুলো প্রতিটি রাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। যেকোনো সভ্য রাষ্ট্র মানবধিকারের এ শর্তগুলোকে সম্মান করে। মানুষকে তার অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত তার যে শাস্তি প্রাপ্য তার বাইরে কোনো কিছু প্রদান বা আদালতের যে শাস্তি প্রদান করার কথা, তারা ছাড়া অন্য কেউ শাস্তি দিতে পারেন না। এটি আমাদের সংবিধানের ৩১ থেকে ৩৫ ধারার মধ্যে সুষ্পষ্ট ভাষায় লিপিবদ্ধ আছে। আমরা সে জন্যই যে পদ্ধতিতে ‘তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধে’র নামে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, আজ পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন এ হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে কাহিনী একই। অর্থাৎ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তাদেরকে পুলিশ বা র‌্যাব ধরতে গেছে, তারা আক্রমণ করেছে, আইন-শৃংখলাবাহিনীর পাল্টা আক্রমণে তারা মৃত্যু বরণ করেছে। ঠিক অবধারিতভাবে যারা আক্রমণ করছে তারা পাল্টা আক্রমণে মৃত্যু বরণ করছে। যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের কারো কারো পরিবার অভিযোগ করেছে তাদের কিছুদিন আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি সাজিয়ে বন্দুকযুদ্ধে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

আমাদের বুধবার : এটি মানবধিকারের কতটা বিপক্ষে?

সুলতানা কামাল : এটি মানবধিকারের একেবারেই বিরুদ্ধে। মানবধিকারের মূল কথা হলো, প্রাণের অধিকার অ্যাবসিলিউট; এটি কেউ নিতে পারে না, হজম করতে পারে না। কোনো রাষ্ট্রও এটি করতে পারে না। রাষ্ট্র যদি প্রাণের অধিকার হরণ করে, তবে সেটিও একটি অপরাধ। কিছু কিছু রাষ্ট্র শাস্তি হিসেবে  মৃত্যুদন্ড রেখে দিয়েছে, সেটি নিয়েও কথাবার্তা চলছে। যদি  মৃত্যুদন্ড বাংলাদেশে শাস্তি হিসেবে থেকে থাকে, তবে সেটিই শাস্তি। এ শাস্তিটি হবে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, সেই অপরাধের শাস্তি যদি  মৃত্যুদন্ড হয়, তখন  মৃত্যুদন্ড হবে। সেটিকে আমরা আইনবর্হিভূত হত্যা ঘটাতে পারি না। আমরা সেটি অপছন্দ করি। কিন্তু এখন যে ঘটনাটি ঘটছে সেটি আইনবর্হিভূত ও সংবিধান বর্হিভূত। এটি পুরোপুরো মানবধিকার বিরোধী।

আমাদের বুধবার : মাদক বিরোধী অভিযানে মূল হোতারা কী ধরা পড়ছে এবং তাদের কোন শাস্তি হচ্ছে বলে কী আপনি মনে করছেন?

সুলতানা কামাল : পত্রপত্রিকায় যে বিশ্লেষণ এসেছে এবং যারা অপরাধ-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ তাদের কাছ থেকে যে মতামত এসেছে- তাতে এ শঙ্কাটাই প্রকাশ করা হচ্ছে যে, যেসব তালিকা এসেছে তাতে হয়তো যারা মাদক ব্যবসার হোতা তাদের নামও আছে, কিন্তু তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। বিচারের আওতায় না আনা গেলে, তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে প্রশ্ন এবং জেরা করা প্রভৃতি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে না গেলে, আসলেই একটি মানুষ যে  প্রমাণিত অপরাধী তা বোঝা যায় না। শঙ্কা যেটি প্রকাশ করা হচ্ছে তা হলো, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত মূল হোতারা চিহিৃত হচ্ছে না, তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সাধারণ চোখে সবাই দেখছেন এরা আসলে মাদকের হোতা; কিন্তু মাদকের আসল হোতাদের যে নামগুলো সামনে  রয়েছে তাদেরকে ধরা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নাই বলে তাদের ধরা হচ্ছে না। এসবের কারণে যে কর্মকান্ড এখন পরিচালিত হচ্ছে তা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

আমাদের বুধবার : ফিলিপাইনে মাদক বিরোধী যুদ্ধ চলছে বেশ কিছু সময় ধরে। ১২ হাজারের বেশি মানুষ সেখানে নিহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এতে সমাজের দরিদ্র্য ও নিম্নবর্গের  মানুষ নিহত হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টিকে তারা বলছেন, এটি সমাজে এতিম ও বিধবা সৃষ্টির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরেকটি দিক বলা হচ্ছে, ফিলিপাইনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য এ অভিযানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এ অভিজ্ঞতাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? 

সুলতানা কামাল : ফিলিপাইনে যে ঘটনা ঘটছে সেটি অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি বিমানে তুলে নিয়ে ফেলে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। আমি আশা করব, সেরকম বর্বরতার মধ্যে আমরা যাব না। আমরা যে পর্যায়ে রয়েছি সেটি মানবধিকারের দৃষ্টি থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয়। আমরা বারবারই বলছি, সাংবিধানিক উপায়ে এ সমস্যারগুলোর সমাধান করা উচিত। ফিলিপাইন সরকারও জোর গলায় দাবি করতে পারে না যে, এসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে তারা মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। আমরা লাতিন আমেরিকার অভিজ্ঞতাও জানি, সেখানেও এ ধরনের অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের কার্যকর ফল দিয়েছে বলে আমরা শুনিনি। কাজেই আমি আশা করি, বাংলাদেশ এত দূর পর্যন্ত যাবে না। এতদিন তারা যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে সেটি তারা পুনর্বিবেচনা করবে। কিন্তু আমরা আশা করব, বাংলাদেশের যে সংবিধান রয়েছে, যে আইন-কানুন রয়েছে তার মধ্যে থেকেই আইন-শৃংখলাবাহিনী মাদক বিরোধী যুদ্ধ পরিচালনা করবে।  আমাদের মুক্তিযুদ্ধ একটি ভূখন্ড দখল করার যুদ্ধ ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম কিছুটা আবশ্যিক ভিত্তিতে। সেটি আবশ্যিক ভিত্তির মধ্যে একটি ছিল মানুষের মানবধিকার কখনো হরণ করা হবে না। মানুষকে কখনো অন্যায়ভাবে অবিচারের মধ্যে ফেলা হবে না। নির্যাতন করা হবে না। কাজেই সেসব ব্যাপারে রাষ্ট্রের একটা সাবধানতা অবলম্বন করার নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আমাদের বুধবার : বাংলাদেশে ইতোপূর্বেও বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড ঘটেছে। এটিকে কী তাহলে আবার নতুন নামে ডাকা হচ্ছে ?

সুলতানা কামাল : যৌথবাহিনী থেকে শুরু করে অপারেশন ক্লিন হার্ট প্রতিটিতে আমরা মানুষের মৃত্যু দেখেছি। মানুষ হার্ট ফেল করে মারা যাচ্ছিল, আমরা ক্রয়ফায়ারের গল্প শুনেছি। আমরা এনকাউন্টার শুনেছি, শুট আউট শুনেছি। এখন বলা হচ্ছে বন্দুক যুদ্ধ। প্রতিটির ক্ষেত্রে কাহিনী একই। যারা এ কাজটি করছেন গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই, তারা আমাদের যে কাহিনীগুলো বর্ণনা করছেন এবং জোর গলায় বলার চেষ্টা করছেন এটিই ঘটছে তারা যখন রাতে একা ঘুমাতে যান কিংবা আয়নায় নিজের মুখটা দেখেন তারা নিজেদেরও এ গল্পগুলো বিশ্বাস করাতে পারেন কিনা?

আমাদের বুধবার : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

‘সৌদি ও আমিরাতের অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনী থাকলেও আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামান্যই সামিল হয়েছে’ : নোয়াম চমস্কি

‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ এখন সর্বোচ্চ শক্তিতে বৈশ্বিক যুদ্ধাভিযানে পরিণত হয়েছে। অথচ আইএসআইসের মতো ভয়ঙ্কর সংগঠনগুলোর উত্থান ও বিকাশের আসল কারণ পুরোপুরিই অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
নভেম্বরে প্যারিস হত্যাযজ্ঞের পর ফ্রান্স ও জার্মানির মতো প্রধান প্রধান পাশ্চাত্য দেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দিয়েছে। একই ধরনের ভয়ে ভীত হয়ে রাশিয়াও তাড়াহুড়া করে এই ক্লাবে যোগ দিয়েছে। বস্তুত, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে রাশিয়া তার নিজস্ব ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ যুদ্ধে নিয়োজিত রয়েছে। একই সময় সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আইএসআইএসকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছিল। তবে অল্পকিছুদিন ধরে সৌদিরা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে’ যুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে জোট গঠন করেছে। তুরস্কও নানা কর্মকান্ড করছে। কিন্তু এই বাস্তবতাও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত পাশ্চাত্য বাহিনী অবলীলায় এড়িয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের কথিত ঘটনায় তরস্ক একটি রুশ বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার পরই কেবল রাশিয়া ‘সন্ত্রাসীদের মদতদাতা’ হিসেবে তুরস্ককে অভিযুক্ত করে আসছে। (উল্লে¬খ্য, বছরের পর বছর ধরে তুর্কি জঙ্গিবিমানগুলো এর চেয়ে অনেক অনেক বেশিবার গ্রিক আকাশসীমা লঙ্ঘন করে আসছে, কেবল ২০১৪ সালেই করেছে ২,২৪৪ বার।)
‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ কোনো অর্থ আছে কি? এর কি কোনো কার্যকর নীতি আছে? আর রোনাল্ড রিগ্যান ও জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের আমলের আগের দুটি ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ পর্যায় থেকে বর্তমানটির পার্থক্য কোথায়? অধিকন্তু ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ থেকে আসলে কে লাভবান হচ্ছে? এবং মার্কিন সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্স ও যুদ্ধ সৃষ্টির মধ্যে সম্পর্কটা কী? বিশ্বখ্যাত সমালোচক নোয়াম চমস্কি এসব ইস্যু নিয়ে ট্রুথআউটকে তার উপলব্ধি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ এই সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন সি জে পলিক্রুনিউ। অনুবাদ : মোহাম্মদ হাসান শরীফ


প্রশ্ন : এই সাক্ষাতকারটি দেয়ার জন্য শুরুতেই আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। প্রথমেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আপনার ধারণা শুনতে চাইব। এই নীতিটা সেই রিগ্যানের আমলে শুরু হয়েছিল- যা এর পরই জর্জ ডবি¬øউ বুশ [ইসলামাতঙ্ক] ‘ক্রুসেড’-এ পরিণত করেছিলেন, যেটা স্রেফ অপরিমেয় সংখ্যক নিরীহ মানুষের জীবন নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও বিশ্বশান্তির ওপর প্রবল প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং তার কিছু মিত্রের চেয়ে ভিন্ন ধরনের পলিসি এজেন্ডা এবং স্বার্থ নিয়ে অন্য আরো কয়েকটি দেশ এতে লাফিয়ে সামিল হওয়ায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নতুন এবং সম্ভবত আরো বিপজ্জনক ধাপে প্রবেশ করছে। প্রথমত আপনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্পর্কে ওপরে বলা মূল্যায়নের সাথে একমত হলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্থায়ী বৈশ্বিক যুদ্ধের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিণতি, বিশেষ করে পাশ্চাত্য সমাজের জন্য, কি হতে পারে?
চমস্কি : একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিলে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ পর্যায় দুটি পরস্পর থেকে বেশ ভিন্ন। রিগ্যানের যুদ্ধ খুবই দ্রুত সন্ত্রাসী যুদ্ধে পরিণত হয়, সম্ভবত ওই কারণেই এটা ‘অদৃশ্য’ হয়ে গেছে। তার সন্ত্রাসী যুদ্ধ মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি নিয়ে আসে। সবচেয়ে প্রত্যক্ষ টার্গেট ছিল মধ্য আমেরিকা। তারা এখনো সেই ক্ষত সারিয়ে ওঠতে পারেনি। বর্তমান উদ্বাস্তু সঙ্কটের প্রধান কারণগুলোর একটি হলো এটা (খুব কমই এর উল্লে¬খ হয়)। দ্বিতীয় পর্যায়টির (যেটি জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০ বছর পর ২০০১ সালে আবার ঘোষণা করেছিলেন) ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রত্যক্ষ আগ্রাসন বিশাল এলাকা ধ্বংস করে দেয়, সন্ত্রাস নতুন আকার ধারণ করে, বিশেষ করে ওবামার বৈশ্বিক গুপ্ত হত্যার (ড্রোন দিয়ে) অভিযানে সন্ত্রাসবাদের বিবরণীতে নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে এবং এ ধরনের ব্যবস্থায় সন্দেহভাজনদের যতজনকে হত্যা করা হয়, অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তার চেয়ে বেশি সংখ্যক নিবেদিতপ্রাণ সন্ত্রাসীর সৃষ্টি করে।
বিশ্ব জনমত যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তির জন্য বিপুলভাবে বৃহত্তম হুমকি মনে করে। বুশের যুদ্ধ টার্গেট ছিল আল-কায়েদা। একটার পর একটা ভয়াবহ আঘাত হেনে (আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া এবং তারপর আরো অনেক) জিহাদি সন্ত্রাসকে আফগানিস্তানের ছোট্ট উপজাতীয় এলাকা থেকে লেভ্যান্ট [সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডান ও ইসরাইল নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ এলাকা] হয়ে পশ্চিম আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে শেষ পর্যন্ত পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। ইতিহাসের অন্যতম পরিচালনা দক্ষতাগত সাফল্য। এর মধ্যে আবার আল-কায়েদার স্থানে আবির্ভূত হয় আরো বেশি খারাপ ও ভয়ঙ্কর অনেক উপাদানের। বর্তমানে, আইএসআইএস (আইএসআইএল, ইসলামিক স্টেট) দানবীয় নৃশংসতার রেকর্ডের অধিকারী। তবে শিরোপাটির অন্য দাবিদাররা খুব বেশি পেছনে নেই। কয়েক বছর পেছনে থাকা এই গতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন সামরিক বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু কুকবার্ন তার গ্রন্থ ‘কিল চেইন’-এ। তিনি প্রামাণ্যভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন, মূল ও কারণগুলো সমাধান না করে দৃশ্যগ্রাহ্য কোনো নেতাকে হত্যা করা হলে নিশ্চিতভাবেই খুব দ্রুত তার স্থলাভিষিক্ত হয় আরো তরুণ, আরো যোগ্য এবং আরো বেশি ভয়ঙ্কর কেউ।
এসব অর্জনের একটি পরিণাম হলো বিশ্ব জনমত বিপুল ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তির জন্য বৃহত্তম হুমকি মনে করে। অনেক পেছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের এত ওপরে থাকার কারণ দৃশ্যত বিপুল ভারতীয় ভোট। যে সাফল্য ইতোমধ্যেই দেখা গেছে, তা আরো বাড়লে জ্বলতে থাকা মুসলিম বিশ্বের সাথে বৃহত্তর যুদ্ধও সৃষ্টি করতে পারে, অন্যদিকে, পাশ্চাত্য সমাজগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ দমন এবং নাগরিক অধিকার খর্ব এবং বিপুল ব্যয়ের বোঝায় নতজানু দেখতে পাবে, যা আসলে ওসামা বিন লাদেনের সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন (এবং বর্তমানের আইএসআইএসের) বাস্তবায়ন।
প্রশ্ন : মার্কিন নীতি প্রণয়ন আলোচনা ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে কেন্দ্র করেই ঘোরাফেরা করছে, প্রকাশ্য ও গোপন কার্যক্রমের মধ্যকার পার্থক্য পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। এদিকে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর শনাক্তকরণ এবং সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী কর্তা বা রাষ্ট্রগুলো নির্বাচন করা দৃশ্যত কেবল পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারমূলকভাবেই হচ্ছে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্তকরণ এই প্রশ্নও সৃষ্টি করছে, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ সত্যিই কি সন্ত্রাসবাদের বিরদ্ধে যুদ্ধ নাকি বিশ্বজয়ের নীতিমালাকে যৌক্তিক করতে এটা স্রেফ ধাপ্পাবাজির আবরণ? উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আল-কায়েদা ও আইএসআইএস যে সন্ত্রাসী ও খুনে সংগঠন তা অকাট্য সত্য হলেও সৌদি আরব ও কাতারের মতো মার্কিন মিত্র এবং এমনকি তুরস্কের মতো ন্যাটো সদস্যদের আইএসআইএসকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দানের বিষয়টি মার্কিন নীতিনির্ধারক এবং মূলধারার মিডিয়া হয় অগ্রাহ্য করছে কিংবা ব্যাপকভাবে ছোট করে দেখছে। এ ব্যাপারে আপনার কোনো মন্তব্য আছে কি?
চমস্কি : রিগ্যান ও বুশের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ সংস্করণ নিয়েও একই সত্য প্রযোজ্য। রিগ্যানের কাছে এটা ছিল মধ্য আমেরিকায় হস্তক্ষেপের অজুহাত। স্যালভাডোরের বিশপ রিভার ওয়াই ডাদাস (তিনি গুপ্তহত্যার শিকার আর্চবিশপ অস্কার রোমেরোর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন) বিষয়টাকে বর্ণনা করেছেন ‘অসহায় বেসামরিক লোকজনকে সম্পূর্ণ বিলীন করা এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণহত্যা চালানোর যুদ্ধ’ হিসেবে।
গুয়েতেমালায় পরিস্থিতি ছিল আরো খারাপ, হন্ডুরাসে ছিল ভয়াবহ। নিকারাগুয়া ছিল একটি দেশ, যার রিগ্যানের সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষার একটি সেনাবাহিনী ছিল; অন্য দেশগুলো নিরাপত্তা বাহিনীই ছিল সন্ত্রাসী।
আফ্রিকার দক্ষিণাংশে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ দেশে ও বিদেশে ভয়ঙ্কর মাত্রায় করা দক্ষিণ আফ্রিকান অপরাধের অজুহাত তুলে দেয়। সর্বোপরি আমাদেরকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে জঘন্য সন্ত্রাসী গ্রুপের একটি’ নেলসন ম্যান্ডেলার আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের কাছ থেকে সভ্যতাকে রক্ষা করতে হয়েছিল। ম্যান্ডেলা নিজে পর্যন্ত ২০০৮ সাল পর্যন্ত মার্কিন সন্ত্রাসী তালিকায় ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ লেবানন এবং অন্যান্য স্থানে ইসরাইলি খুনে আগ্রাসনের সমর্থন সৃষ্টি করে। আর বুশের জন্য এটা ইরাক আক্রমণের অজুহাতের ব্যবস্থা করে। এভাবেই এটা এখনো চলছে।
সিরিয়ার নৃশংসতার কাহিনী ভাষাতেও প্রকাশ করা যায় না। আইএসআইসের বিরোধিতাকারী প্রধান স্থল বাহিনী দৃশ্যত কুর্দিরা, ইরাকের মতো এখানেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় রয়েছে। উভয় দেশেই তারা আমাদের ন্যাটো মিত্র তুর্কিদের হামলার প্রধান টার্গেট। এই দেশটি সিরিয়ায় আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন আল-নুসরা ফ্রন্টকেও সমর্থন দিচ্ছে। আইএসআইএস আর আল-নুসরার মধ্যে পার্থক্য আছে খুব সামান্যই, যদিও তারা খুবই কঠিন যুদ্ধে রয়েছে। আল-নুসরার প্রতি তুর্কি সমর্থন এতই প্রবল যে, পেন্টাগন যখন তার প্রশিক্ষিত কয়েক ডজন যোদ্ধাকে পাঠাল, তুরস্ক দৃশ্যত আল-নুসরাকে সতর্ক করে দিল, তারা তাদেরকে পুরোপুরি বিলীন করে দিল। আল-নুসরা এবং এর ঘনিষ্ঠ মিত্র আহরার আল-শ্যামকেও মার্কিন মিত্র সৌদি আরব ও কাতার সমর্থন করছে এবং মনে হচ্ছে, সিআইএ’র কাছ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্ভার পাচ্ছে। এমন খবরও পাওয়া গেছে, তারা আসাদ সেনাবাহিনীকে মারাত্মক পরাজয়ের দিকে ঠেলে দিতে সিআইএ’র সরবরাহ করা ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করছে। সম্ভবত এটাই রাশিয়াকে হস্তক্ষেপ করতে উদ্দীপ্ত করেছে। তুরস্ক দৃশ্যত সীমান্তজুড়ে জিহাদিদের আইএসআইএসের কাছে অবাধে যেতে দেয়াটা অনুমোদন করে যাবে।
অনেক বছর ধরেই বিশেষভাবে সৌদি আরব চরমপন্থী জিহাদি আন্দোলনগুলোর অন্যতম সমর্থক। কেবল অর্থ দিয়েই নয়, বরং কোরআনিক মাজহাব, মসজিদ [এবং] আলেমদের মাধ্যমে দেশটি তার চরমপন্তী ইসলামি ওয়াহাবি মতাদর্শও প্রচার করছে। প্যাট্রিক কুকবার্ন সুন্নি ইসলামের ‘ওয়াহাবিকরণ’কে যুগের অন্যতম বিপজ্জনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। সৌদি আরব ও আমিরাতের বিপুল অত্যাধুনিক সামরিক বাহিনী থাকলেও তারা আইএসআইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অতি সামান্যই সামিল হয়েছে। তারা ইয়েমেনে অভিযান চালিয়ে একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছে এবং খুব সম্ভবত আগের মতোই আমাদের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ আমাদের টার্গেট করার জন্য ভবিষ্যতের সন্ত্রাসী সৃষ্টি করছে।
সিরিয়ায় একমাত্র ক্ষীণ আশার রেখা হতে পারে আইএসআইএসকে বাদ দিয়ে সম্পৃক্ত বিভিন্ন উপদানের মধ্যে আলোচনা। তাতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন [সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-] আসাদের মতো সত্যিই আতঙ্কিত লোকজন, যারা আত্মহত্যা করতে ইচ্ছুক না হওয়ায় আলোচনায় সম্পৃক্ত হতে চাইবেন, যদি না জাতীয় আত্মহত্যার সর্পিলগতি অব্যাহত থাকা বন্ধ করতে হয়। আর পরিশেষে, এই পথের গন্তব্য হবে ভিয়েনা। বাস্তবভাবে আরো কিছু করতে হবে, তবে কূটনীতিতে পরিবর্তন অনিবার্য।

সাক্ষাৎকারে অরুন্ধতী রায়

ভারতে এখন যা ঘটছে, তা খুবই মারাত্মক কিছুর সূচনা

Last-2ভারতে নরেন্দ্র মোদির উগ্র হিন্দুবাদী সরকারের আমলে অসহিষ্ণুতা নজিরবিহীন গতিতে বাড়তে থাকার প্রতিবাদে দেশটির লেখক, শিল্পী, চলচ্চিত্রকারসহ সম্মানিত অনেকেই জাতীয় পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন চালাচ্ছেন। এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন প্রখ্যাত লেখক ও সক্রিয়বাদী অরুন্ধতী রায়ও। এই প্রতিবাদ জানানোর পর প্রথম সাক্ষাতকারটি দেন বিবিসি হিন্দি রেডিও’র সম্পাদক রাজেশ যোশীকে। এখানে এর অংশবিশেষ তুলে ধরা হলো। অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ।

প্রশ্ন : জাতীয় পুরস্কার ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আপনি এত দেরি করলেন কেন? বিস্তারিত »

ক্ষমতাসীনদের তাৎক্ষণিক অপরাধী চিহ্নিতকরণে পার পেয়ে যাচ্ছে আসল অপরাধীরা :: শাহদীন মালিক

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

Dis-1এই বছরেই চার জন ব্লগার হত্যাকাণ্ড, দু’জন বিদেশীকে গুলি করে হত্যা এবং সবশেষ শুক্রবার দিবাগত রাতে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলে বোমা বিস্ফোরণসহ অনেক ঘটনায় এটা লক্ষ্য করা গেছে যে, তদন্ত কাজ সমাপ্ত হওয়া বা সুষ্ঠু অনুসন্ধানের আগেই ঊর্ধ্বতন মহল থেকে আগাম ঢালাও মন্তব্য করা হচ্ছে এই বলে যে, ঘটনা কারা ঘটিয়েছে বা ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি? এতে কি তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়া বা বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোসহ পুরো আইনগত প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয় কি না এবং এর ফলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোয়ার বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা কতোটা বেড়ে যায়? এসব প্রশ্নে ভয়েস অফ আমেরিকার জন্য বিশ্লেষণ করেছেন বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ এবং সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। সাক্ষাতকার ভিত্তিক এই প্রতিবেদনটি ২৪ অক্টোবর প্রচারিত হয়। বিস্তারিত »

বিপ্লব অধিকার আর ন্যায্যতা সম্পর্কে অরুন্ধতী রায় (শেষ পর্ব)

সবকিছুই ফ্যাসিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পরিচালনা করা হচ্ছে, এটা পতনের সংক্ষিপ্ত পথ’

Last 4অরুন্ধতী রায়। সাম্প্রতিক সময়ের পুরস্কারজয়ী অন্যতম একটি ফিকশনের লেখক। তার ‘দ্য গড অব স্মল থিং’ যিনিই পড়েছেন, তিনিই পরবর্তীকালে তার লেখা রাজনৈতিক প্রবন্ধগুলোর উৎস খুঁজে পাবেন। তার লেখাগুলো একটি অন্যটির পরিপূরক, আর সেগুলো তাকে কেবল ভারতে নয়, বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বরে পরিণত করেছে। অরুন্ধতী যে বিশ্বকে ধারণ করেছেন, আক্ষরিক অর্থেই তা বেশির ভাগ লেখকের চেয়ে বড়। কিভাবে তিনি অরুন্ধতী রায় হলেন, তাকে কোন বিষয়টা উদ্দীপ্ত করে, কিভাবে তিনি লেখালেখি শুরু করলেন, তা নিয়ে এক ঘণ্টা ধরে কথা বলেছেন সাবা নকভির সাথে। আউটলুক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই সাক্ষাতকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ। বিস্তারিত »

বিপ্লব অধিকার আর ন্যায্যতা সম্পর্কে অরুন্ধতী রায় (দ্বিতীয় পর্ব)

আমি কখনো আমার জীবনে ওই পুরুষ চরিত্রটি দেখিনি, যে আমাকে দেখে রাখবে, সুরক্ষা দেবে

Last-5অরুন্ধতী রায়। সাম্প্রতিক সময়ের পুরস্কারজয়ী অন্যতম একটি ফিকশনের লেখক। তার দ্য গড অব স্মল থিংযিনিই পড়েছেন, তিনিই পরবর্তীকালে তার লেখা রাজনৈতিক প্রবন্ধগুলোর উৎস খুঁজে পাবেন। তার লেখাগুলো একটি অন্যটির পরিপূরক, আর সেগুলো তাকে কেবল ভারতে নয়, বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বরে পরিণত করেছে। অরুন্ধতী যে বিশ্বকে ধারণ করেছেন, আক্ষরিক অর্থেই তা বেশির ভাগ লেখকের চেয়ে বড়। কিভাবে তিনি অরুন্ধতী রায় হলেন, তাকে কোন বিষয়টা উদ্দীপ্ত করে, কিভাবে তিনি লেখালেখি শুরু করলেন, তা নিয়ে এক ঘণ্টা ধরে কথা বলেছেন সাবা নকভির সাথে। আউটলুক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই সাক্ষাতকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ। বিস্তারিত »

বিপ্লব অধিকার আর ন্যায্যতা সম্পর্কে অরুন্ধতী রায় (প্রথম পর্ব)

বিশ্বকে কেবল ‘অধিকার’ আর ‘ইস্যু’র চশমা দিয়ে দেখি না

Last 2অরুন্ধতী রায়। সাম্প্রতিক সময়ের পুরস্কারজয়ী অন্যতম একটি ফিকশনের লেখক। তার ‘দি গড অব স্মল থিংস’ যিনিই পড়েছেন, তিনিই পরবর্তীকালে তার লেখা রাজনৈতিক প্রবন্ধগুলোর উৎস খুঁজে পাবেন। তার লেখাগুলো একটি অন্যটির পরিপূরক, আর সেগুলো তাকে কেবল ভারতে নয়, বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বরে পরিণত করেছে। তিনি অন্যদের কর্মসূচি বাস্তবায়নেও এগিয়ে আসেন। দি গড অব স্মল থিংয়ের পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ১৫ লাখ রুপি তিনি ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে’ দান করেছেন। ‘সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি উচ্চকিত করার জন্য তার পরিপূর্ণ ও শক্তিশালী লেখালেখির’ জন্য ২০০২ সালে ল্যানন ফাউন্ডেশন তাকে সাড়ে তিন লাখ ডলার (১ কোটি ৬৭ লাখ রুপি) প্রদান করে। তিনি ৫০টি গণআন্দোলন, প্রকাশনা সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, থিয়েটার গ্রুপ ও ব্যক্তির সাথে সংহতি প্রকাশ করে পুরস্কারের ওই অর্থ দান করে দিয়েছেন। আর তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর র‌্যায়ালটি আসে ভালোই। তিনি এই অর্থ আন্দোলন ও ব্যক্তিবর্গের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়াও অব্যাহত রেখেছেন। এ কারণে অরুন্ধতী যে বিশ্বকে ধারণ করেছেন, আক্ষরিক অর্থেই তা বেশির ভাগ লেখকের চেয়ে বড়। কিভাবে তিনি অরুন্ধতী রায় হলেন, তাকে কোন বিষয়টা উদ্দীপ্ত করে, কিভাবে তিনি লেখালেখি শুরু করলেন, তা নিয়ে এক ঘণ্টা ধরে কথা বলেছেন সাবা নকভির সাথে। আউটলুক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ওই সাক্ষাতকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ হাসান শরীফ। বিস্তারিত »