Home » মতামত (page 24)

মতামত

তেল গ্যাস লুট দেশে দেশে – ১

লুণ্ঠনের প্রেক্ষাপট

ফারুক চৌধুরী

chevronখনিজ সামগ্রী বললে, লোহা, কালা, সোনা, রূপা, ইত্যাদির কথা আমাদের মাথার মধ্যে সহজেই ঘুরপাক খায়। কিন্তু খনিজ সামগ্রীর জগত আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত। আবার এটাও খেয়াল রাখা দরকার যে, এক হিসেবে বাংলাদেশে কয়লাকে খনিজ দ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হয় না। গুরুত্বের বিচারে লোহা, সোনা, রূপা, কয়লার গুরুত্ব একেবারেই কম নয়। কিন্তু খনিজ সামগ্রীর বিস্তৃত যে জগত, সেখানে অন্যান্য খনিজ দ্রব্যের গুরুত্বও অনেক। উদাহরণ দেয়া যাক, একটি বাড়ি তৈরি হবে। তাই দরকার হবে ইট, সিমেন্ট, বালি, রড, কাঠ, লোহা। যদি বাড়িটি দেয়াল ইটে তৈরি না হয়ে মাটির তৈরি হয়, যদি বাড়িটির ছাদ হয় টিনের, তাহলে প্রয়োজন হবে কাদা ও টিন। আর ইট তৈরি হচ্ছে মাটি দিয়ে। অর্থাৎ বাড়িটির জন্য দরকার হচ্ছে কয়েকটি খনিজ দ্রব্য : মাটি, লোহা, টিন, ইত্যাদি। পেরেক, স্ক্রু, সিমেন্ট, বল্টু, নাট, ঢেউ টিন, জলের পাইপ, বিদ্যুৎ তার, জানালার কাঁচ, ইত্যাদির প্রতিটিতে রয়েছে কোনো না কোনো খনিজ দ্রব্য। বাড়িতে ব্যবহৃত কোনো কোনো ধাতব সামগ্রী তৈরি হয় ক্রোমিয়াম দিয়ে। আর ক্রোমিয়াম আরো ক্রামাইট নামের খনিজ দ্রব্য থেকে। কাঁচ তৈরি হয় অভ্র এবং অন্যান্য সামগ্রি মিশিয়ে। অভ্র খনিজ দ্রব্য, বালিও কোথাও কোথাও খনিজ দ্রব্য। জলের নল বা পাইপ আগে তৈরি করা হতো শিসা দিয়ে। সেটি বিষাক্ত। তাই এখন তৈরি হয় তামা বা প্লাস্টিক দিয়ে। বিস্তারিত »

পুঁজিবাদের একটি ভুতুরে গল্প – ১

অরুন্ধতী রায়

অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ

arundhati-2এটা বাড়ি না বাসা? নতুন ভারতের মন্দির না কি এর প্রেতাত্মাদের গুদামঘর? মুম্বাইয়ের অ্যালতামন্ট রোডে অন্টিলায় পৌঁছানোর পর চুইয়ে পড়া রহস্য আর চাপা আতঙ্কে কোনো কিছুই আর আগের মতো ছিল না। ‘এই আমাদের স্থান,’ যে বন্ধুটি আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল সে বলল, ‘আমাদের নতুন শাসকের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করো।’

অন্টিলা, ভারতের সবচেয়ে ধনী মানুষ মুকেশ আম্বানির বাড়ি। এযাবতকালের সবচেয়ে দামি বাড়িটি সম্পর্কে আমি অনেক কিছু পড়েছি : ২৭টি ফ্লোর, তিনটি হেলিপ্যাড, ৯টি লিফট, ঝুলন্ত বাগান, বলরুম, ওয়েদার রুম, জিমনেশিয়াম, পার্কিংয়ের জন্য ছয়টি তলা আর ছয় শ’ চাকর। বিশাল ধাতব তারজালির সঙ্গে লাগানো ২৭ তলা উঁচু ঘাসের খাড়া দেয়ালে তৈরি লনটি দেখার জন্য আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। কোনো কোনো জায়গায় ঘাস শুকিয়ে সুন্দর আয়তক্ষেত্রের মতো ঝরে পড়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, ওপর থেকে পানি দেওয়ার যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা ঠিকমতো কাজ করেনি। বিস্তারিত »

সরকারের ব্যর্থ পানি কূটনীতি (দ্বিতীয় পর্ব)

. ইনামুল হক

inamul-huq-2-বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের মণিপুর রাজ্যে নির্মিতব্য টিপাইমুখ ড্যাম নিয়েও বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীর বিগত ১৩ ডিসেম্বর ২০১১ টিপাইমুখ ড্যাম নিয়ে পত্রিকায় একটি প্রবন্ধ লিখে নিবেদন করেন যে, বিষয়টি নিয়ে আবেগ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির উর্দ্ধে থেকে যুক্তিপূর্ণ এবং বৈজ্ঞানিক আলোচনা হওয়া দরকার।

টিপাইমুখ স্থানটি ভারতের মিজোরাম রাজ্যের কোলাশিব জেলা এবং মণিপুর রাজ্যের চূড়াচাঁদপুর জেলার সীমানায় অবস্থিত, যেখানে টিপাই নদী বরাক নদে এসে মিশেছে। এখানে বরাক নদ উত্তর পূর্বের কালা নাগা এলাকার ভেতর দিয়ে এসে একটি উল্টো বাঁক নিয়েছে। টিপাই নদীর উৎপত্তি মিয়ানমারে, যা’ দক্ষিণ দিক থেকে এসে এই বাঁকে এসে পড়েছে। বরাক এরপর ভূবন পাহাড় উপত্যকার ভেতর দিয়ে আসামের কাছাড় জেলার দিকে প্রবাহিত হয়েছে। পাহাড় ও সমতলের ভেতর দিয়ে এই নদটি আরও ১৮০ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে অমলশিদের কাছে বাংলাদেশের সীমানা স্পর্শ করেছে। এখানে নদটি সুরমা ও কুশিয়ারা নামের দ’ুটি নদীতে ভাগ হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বিস্তারিত »

যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও শাহবাগ গণজাগরণ – ২

আনু মুহাম্মদ

Anu_Mohammad-2স্বতঃস্ফূর্ততা আসলে স্বতঃস্ফূর্ত নয়, এর পেছনে থাকে বহুদিনের নানা স্পষ্টঅস্পষ্ট টান। থাকে নানা ঘটনা, স্মৃতি, হতাশা, ক্ষোভ, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ। পরম্পরা আর অলক্ষ্যে গড়ে ওঠা সামষ্টিক চেতনা দুটো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কাজ করে স্বত:স্ফূর্ততার পেছনে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে যাকে স্বত:স্ফূর্ত মনে হয়, অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে তার পেছনে পরম্পরায় বয়ে আসা কোনো তাগিদ কাজ করছে, সামষ্টিক চেতনার মধ্য দিয়ে যা প্রবাহিত হয়। সবসময় তা স্পষ্ট বা প্রকাশিত থাকে না। বিস্তারিত »

সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি – প্রফেসর তালুকদার মনিরুজ্জামানের বিশ্লেষণ

politics-1-শাহবাগের সমাবেশ চলছে। এ সমাবেশ ও তাদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি এবং জামায়াত ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান নিষিদ্ধকরণের দাবিও। অন্যদিকে, বর্তমান সময়ে যোগ হয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনমত প্রকাশের উপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়। বিএনপি তরুণদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, শাহবাগ মঞ্চ তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিটি প্রধান বিষয় হিসেবে সরিয়ে দিচ্ছে এবং নির্বাচন নিয়ে সঙ্কট সৃষ্টি করছে। দেশের প্রধান প্রধান সমস্যা জাতিকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। সমাজে স্পষ্ট বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এটি হয়েছে সঙ্কট প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে বলেই। বিস্তারিত »

শাহবাগ – একজন সক্রিয় ব্লগারের দৃষ্টিতে

আযম খান (ব্লগার “মহামান্য কহেন”)

shahbagh-movement-1৫ ফেব্রুয়ারি, সময় ৩টা বেজে ৩০ মিনিট। প্রায় পঞ্চাশ জনের মতন তরুন ছেলেমেয়ে শাহবাগ জাদুঘরের সামনে ফেসবুকের মাধ্যমে ডাক পেয়ে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করছিল। তাদের চেহারায় ছিল প্রচন্ড রকমের ক্রোধ। ৩৪৪ জন মানুষ খুন করার অভিযোগ প্রমাণিত হবার পরেও কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ড হল। সবার মুখে একটাই কথা, আর কতজন মানুষ খুন করলে এই রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড হতে পারত? প্রথম সিদ্ধান্তটা ছিল ট্রাইব্যুনাল ঘেরাও করার কিন্তু খানিক পরে সিদ্ধান্ত হয় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়ার। তারপরের সময়টুকুন ইতিহাসের এক মহীসোপান, এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার আনাচে কানাচে সর্বত্র। বিস্তারিত »

কাঠামো টিকিয়ে রাখার পক্ষের শ্রেণীর ভূমিকা প্রসঙ্গে

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

titumir-1শাহবাগের চত্বরে মানুষের সমবেত হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ বিষয়ে কেউ কেউ বিশ্লেষণ করতে যেয়ে, আবেগী বক্তব্য উপস্থাপন করছেন। কেউবা কোনো কোনো ’ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ খোঁজার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ এ সমাবেশের মধ্যে ম্যাকিভেলিয়ান কায়দায় ’ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ আবিস্কারের চেষ্টা করছেন। তবে এর একটি নৈর্ব্যক্তিক আলোচনা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রধান প্রশ্ন হওয়া প্রয়োজন: শাহবাগের জনসমাবেশ একটি রাজনৈতিক আন্দোলন কিনা? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে নির্ধারক হতে পারে এমন কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। কেন শুরু হলো এ আন্দোলন? মূলত: তিনটি কারণে শাহবাগের চত্বরে জনসমাবেশ ঘটেছে। বিস্তারিত »