Home » অর্থনীতি » দ্রব্যমূল্য :: অজ্ঞান হওয়ার দশা

দ্রব্যমূল্য :: অজ্ঞান হওয়ার দশা

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

dis-5২০১৩১৪ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, সমাপ্ত অর্থবছরে খাদ্য উপখাতে মূল্যস্ফীতি পূর্ববর্তী অর্থবছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। ২০১২১৩ অর্থবছরে এ খাতে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত উপখাতে গড় মূল্যস্ফীতি কমেছে। ২০১২১৩ অর্থবছরে এ খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা কমে হয় ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

পয়েন্টটুপয়েন্ট ভিত্তিতে ২০১২১৩ অর্থবছরের জুনের তুলনায় গত অর্থবছরের জুনে জাতীয় পর্যায়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। একই সঙ্গে খাদ্যমূল্যস্ফীতি দশমিক ২৬ ও খাদ্যবহির্ভূত উপখাতে মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। বিবিএসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুনে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অথচ ২০১২১৩ অর্থবছরের জুনে তা ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ ও খাদ্য বহির্ভূত খাতে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০১২১৩ অর্থবছরের একই মাসে এ হার ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ২৬ ও ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি হ্রাসবৃদ্ধির কারণ হিসেবে পরিধেয় বস্ত্রাদি, বাড়িভাড়া, আসবাব ও গৃহস্থালি, চিকিত্সাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ এবং বিবিধ দ্রব্য ও সেবা খাতের দ্রব্যগুলোর মূল্য বৃদ্ধি কমাকেই দায়ী করা হচ্ছে।

এদিকে রমজান উপলক্ষ্যে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়েছে। এবারের কয়েক মাস আগে থেকেই দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে রমজানের সময় কয়েকটি পণ্য বাদে বাকি পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। চালের দাম দুই মাস আগে থেকেই বাড়ছে। রোজা আসার পরে ব্যবসায়ীরা আরেকদফা বাড়িয়ে দিল চালের দাম। ছোলা, চিনি, তেলসহ অন্যান্য পণ্য বিশেষত রোজায় বাহিদা বেড়ে ওঠা পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে একদুই মাস আগে এবং ধীরে ধীরে। ফলে রোজা এলেও দাম বাড়াতে হয়নি ব্যবসায়ীদের। সবজির দাম কেজি প্রতি ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা। মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক হারে। পাইকারি বাজারে মিনিকেট কমপক্ষে ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, পাইজম পাইকারি মোটা ৩৮৪০ টাকা, নাজিরশাইল পাইকারি ৫২৫৪ টাকা, মোটা চাল ৩৮৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দামও বাড়ছে লিটার প্রতি ২ থেকে ৪ টাকা। রাজধানীর মগবাজারের খুচরা বিক্রেতা আমিন জানান, বর্তমানে সরু চাল ৪৯ থেকে ৫৫ টাকা, মাঝারী চাল ৪০ থেকে ৪২ টাকা, মোটা চাল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা ৩২ টাকা, প্যাকেট আটা ৩৫ টাকা কেজি, ময়দা ৪৫ কেজি। লুজ সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১১৫ টাকা, মশুর ডাল ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১০৮ থেকে ১২০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, শুকনা মরিচ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মরিচের গুঁড়া ২৪০ টাকা, গুড়া হলুদ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, আদা ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি ৫০৫২ টাকা, লবণ ১২ থেকে ২০ টাকা, ডিম ৩২ টাকা হালি।

এদিকে মাছের দামও চড়া। মাছের মধ্যে চাষের রুই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, ইলিশ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা, গরুর গোশত ২৯০ থেকে ৩২০, খাসী ৪০০ থেকে ৪৫০, ব্রয়লার মুরগী ১৭০ থেকে ১৮০, দেশী মুরগী ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা। কাঁচা বাজারের পণ্যের দাম সম্পর্কে নিউমাকের্টের ব্যবসায়ী রফিক জানান, সবজির বাজার অস্থিতিশীল। অধিকাংশ তরিতরকারীর দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, টমেটো ১১০ টাকা, লাউ পিস ৬০ টাকা। কাঁচাকলা ৪০৪৫ টাকা হালি, পেঁপে ৪০ টাকা, ঢেঁড়শ৫০ টাকা, পটল৪০ টাকা, ঝিংগা ৭০৮০ টাকা, চিচিংগা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাকরল ৪০ ৫০ টাকা এবং শাকসবজি ২৫৩০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে।।