Home » অর্থনীতি » আপনার প্রকৃত আয় কমছে

আপনার প্রকৃত আয় কমছে

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন

last 1পঞ্চাশের দশকে মার্কিন অর্থনীতিবিদ সাইমন কুজনেৎস প্রবৃদ্ধি ও আয় বণ্টনের অসাম্য নিয়ে একটি তত্ত্ব হাজির করেন, যা ‘উল্টানো ইউ তত্ত্ব’ নামে অধিক পরিচিত। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে সমাজের সব ব্যক্তিগোষ্ঠী সমানভাবে লাভবান হন না। প্রথম পর্যায়ে ধনী ব্যক্তিরাই বেশি লাভবান হন, যার ফলে বৈষম্য ,অসাম্য বৃদ্ধি পায়। তবে ধীরে ধীরে একটা পর্যায়ে এ পার্থক্য কমতে থাকে এবং আয়বৈষম্য হ্রাস পায়। কুজনেৎসের প্রতিপাদ্য নিয়ে গত অর্ধশতকে অনেক গবেষণা হয়েছে, এখনো চলছে। ফলাফল মিশ্র। কিছু দেশ যেমনদক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান উচ্চ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আয় বণ্টনের পার্থক্য কম রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে, ভারত, চীন, বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি আয়বৈষম্য ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলেছে এবং জনগোষ্ঠীর বিরাট একটা অংশ নিম্ন আয়ের ফাঁদে আটকা পড়েছে। তাদের আয় এতই কম যে, জীবনের ন্যূনতম প্রয়োজন সংস্থানেই টানাপোড়েন। খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান সংগ্রহ তাদের জন্য কষ্টকর। এসব পরিবারে শিক্ষার প্রসার কম, পুষ্টি ও চিকিৎসার অভাবে এদের অনেকেই নানা রোগে ভোগেন। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই মনে করেন, উন্নয়নের একটা পর্যায়ের সম্পদ বণ্টনে অসাম্য হ্রাস করা না গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য তা ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। নোবেল বিজয়ী উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, ‘শুধু প্রবৃদ্ধি উন্নয়নের স্বাদ এনে দিতে পারে না। উন্নয়নের অর্থ বেছে নেয়ার স্বাধীনতা, খাদ্যের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বেছে নেয়ার স্বাধীনতাএর অন্যতম উপকরণ’।

আগে একজন কৃষি শ্রমিক দিনে একশ’ টাকা আয় করতেন। এখন সেই কৃষি শ্রমিক দিনে অন্তত ৩০০ টাকা আয় করছেন। কাজেই পণ্যমূল্য তাদের জন্য তেমন একটা উদ্বেগের কারণ নয় এমন কথা ক্ষমতাসীনদের মুখে হরহামেশাই শুনছে জনগণ। প্রকৃত অবস্থা কি এতোই ভালো? বাস্তবে সাধারণ মানুষ বড়ই দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। শুধু দৃশ্যমান মজুরি বৃদ্ধি পেলেই মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বা পারচেজিং ক্যাপাসিটি বা পাওয়ার বাড়ে না। অনেকেরই ধারণা যে, দৃশ্যমান মজুরি বৃদ্ধি পেলেই একজন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বা পারচেজিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি পায়। আসলে এটা সব সময় নাও হতে পারে। অন্যদিকে, মজুরি বৃদ্ধি না পেলেও একজন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে পারে। যদি কোন কারণে মজুরি এবং অন্য সব অপরিবর্তিত থাকে এবং হঠাৎ করেই পণ্য মূল্য কমে যায় তাহলেও একজন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বা পারচেজিং পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ এ অবস্থায় সে সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এর চেয়ে অনেক বেশি পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে পারবে। আসলে একজন মানুষের জীবনে মজুরি বৃদ্ধি যত না গুরুত্বপূর্ণ তার চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে মূল্যস্তর কিভাবে ওঠানামা করছে সেই বিষয়টি। আর এটা কে না জানে যে, মজুরি বৃদ্ধি পায় এককভাবে কিন্তু মূল্যস্তর বৃদ্ধি পায় বহুবিধভাবে। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। একজন রিকশাওয়ালা বা চাকরিজীবীর দৈনিক বেতন বা মজুরি হয়ত ১০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে তিনি তার নিত্যদিনের চাহিদা পূরণ করতেন। তিনি হয়ত ৩০ টাকা চাল ক্রয়ে ব্যয় করতেন। ৪০ টাকা মাছ বা মাংস ক্রয়ে ব্যয় করতেন। অবশিষ্ট ৩০ টাকা হয়ত অন্যান্য কাজে ব্যয় করতেন। হঠাৎ করেই তার এই মজুরি ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেল। তাহলে তার দৈনিক মজুরির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫০ টাকা। তার এই আয় কিন্তু বৃদ্ধি পাবে এককভাবে। অর্থাৎ একটি মাত্র সূত্র থেকে। কিন্তু একই সময়ে চাল ক্রয়ের জন্য তার ব্যয়ের পরিমাণ যদি ২০ টাকা বৃদ্ধি পায় তাহলে তাকে আগের পরিমাণ চাল কিনতে হবে ৫০ টাকা দিয়ে। মাছের দাম বৃদ্ধি পেল ৩০ টাকা। তাহলে তাকে আগের পরিমাণ মাছ বা মাংস ক্রয় করতে তার ব্যয় হবে ৭০ টাকা। অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ যদি ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ টাকায় উন্নীত হয় তাহলে সার্বিকভাবে তার ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮০ টাকা। অর্থাৎ আগের তুলনায় ৫০ টাকা আয় বৃদ্ধি পেলেও তার আয়ব্যয়ের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ টাকা। অর্থাৎ তার আগের চেয়ে ৩০ টাকার সমপরিমাণ ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাবে। আবার কোন কারণে একজন শ্রমিকের মজুরির হার অপরিবর্তিত থেকে যদি পণ্য মূল্য কমে যায় তাহলে তিনি আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারবেন। এ অবস্থায় একজন শ্রমিক বা চাকরিজীবীর জন্য বেতন বা মজুরি বৃদ্ধি নয়, পণ্য মূল্য হ্রাস পাওয়াটাই বেশি কাঙ্খিত হবে। কাজেই মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে ডিমের হালি ৫০০ টাকা হলেও কোনো অসুবিধা নেই, যদি আমার কাছে ডিম কেনার জন্য খরচ করার মতো ৫০০ টাকা থাকে। আবার ডিমের হালি তিন টাকা হলেও কোন লাভ নেই, যদি আমার কাছে ডিম ক্রয় বাবদ ৩ টাকা না থাকে।

প্রাচীন কালেও আমাদের দেশে ধনীদরিদ্রের ব্যবধান ছিল। তা এখনকার চেয়ে আরো প্রকট ছিল। সমাজে কার্যকর মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অনুপস্থিতির কারণে ধনীদরিদ্রের মাঝে ব্যবধান এখনকার চেয়ে প্রকট ছিল। কৃষকের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির ফসল গিয়ে জমা হতো বিত্তবান শ্রেণীর গোলায়। সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে টাকায় ৮ মণ চাল পাওয়া যেত। কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবে দেখি ৮ মণ চাল কেনার জন্য একটি টাকা ক’জন কৃষকের হাতে ছিল? স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও আমাদের দেশে এক টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পাওয়া যেত। বর্তমানে এক কেজি চাল কিনতে ৩০/৩৫ টাকা বা তারও বেশি টাকার প্রয়োজন হয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। আয় বেড়েছে বলেই তারা বর্ধিত হারে ব্যয় করতে পারছে। কিন্তু আয় বৃদ্ধি পেলেই সব সময় প্রকৃত আয় বা রিয়েল ইনকাম বৃদ্ধি পায় না। আর কোন কারণে যদি মানুষের রিয়েল ইনকাম বৃদ্ধি না পায় তাহলে তার ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ে না। দেশের মজুরি সূচক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৬৯৭০ অর্থবছরে যেখানে মজুরি সূচক ছিল ১০০। সেখানে ২০০৮০৯ অর্থবছরে এসে মজুরি সূচক বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২৫ দশমিক ৬৫এ উন্নীত হয়েছে। মজুরি সূচক বৃদ্ধির এই হার যে কোন বিচারেই উল্লেখের দাবি রাখে। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণে মানুষের প্রকৃত আয় বেড়েছে খুবই সামান্য। কাজেই এই বর্ধিত আয় বা মজুরি তাদের জন্য তেমন সুখকর হয়নি। কারণ তাদের এই বর্ধিত আয় ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তেমন একটা অবদান রাখতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মনোভাব হচ্ছে, ‘আমরা বেতন বৃদ্ধি চাই না, মূল্যস্ফীতি কমাও।’

অনেক দিন মূল্যস্ফীতি ‘ডাবল ডিজিটে’র উপরে অবস্থান করার কিছু দিন ধরে তা ‘সিঙ্গেল ডিজিটে’ নেমে এসেছে। এটা সম্ভব হয়েছে চালের মূল্য হ্রাস পাবার কারণে। পর পর কয়েক বছর দেশে বাম্পার ফলন হওয়ার কারণে বর্তমানে স্থানীয় বাজারে চালের মূল্য অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ তাদের মোট আয়ের অন্তত ৬০ শতাংশ চাল ক্রয়ে ব্যয় করে। ফলে চালের মূল্য হ্রাস পাবার ফলে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ এখনো তার সুফল ভোগ করতে পারছে না। কারণ তাদের অধিকাংশেরই ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি বরং কোন কোন ক্ষেত্রে ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কি উপায় অবলম্বন করা যায়। বা কিভাবে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো যায়? নানা উপায়ে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে। প্রথমত, সাধারণভাবে বাজারে সব ধরনের পণ্য ও সেবার মূল্য হ্রাসের মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে। এ অবস্থায় পণ্য মূল্য হ্রাস পাবার ফলে মানুষ তাদের আগের আয় থেকে বর্তমানে বেশি পণ্য ও সেবা ক্রয় করতে পারবে। কিন্তু এ পদ্ধতি আমাদের দেশে তেমন একটা কার্যকর হবে না। কারণ বাজারের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে সক্ষম হচ্ছে না। সরকার বা কোন কর্তৃপক্ষ চাইলেই বাজারে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্য কমিয়ে আনতে পারবে না। কারণ সামগ্রিক অর্থনীতি এই বিষয়টিকে সমর্থন করে না। এ অবস্থায় আমাদের অন্য কোন পন্থা বিবেচনায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে নানা উপায় থাকলেও সবচেয়ে কার্যকর এবং সহজ উপায় হতে পারে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। আমাদের দেশে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। সাধারণভাবে মনে করা হয় মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার ৪০ শতাংশই বেকার। এ হিসাব কিছুটা এদিক ওদিক হতে পারে। তবে দেশে বেকারের সংখ্যা যে নিহায়তই কম নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বেকার জনগোষ্ঠী সাধারণভাবে ব্যক্তি এবং পরিবারের ক্রয় ক্ষমতার ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলে। একটি পরিবারে যদি চার জন সদস্য থাকে। তাদের মধ্যে যদি মাত্র একজন বা দু’জন কর্মজীবী হন এবং অন্যেরা তাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে চলে তাহলে সেই পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে বাধ্য।

বাংলাদেশে গত দুই দশকে গড়ে ৫ শতাংশের বেশি হারে প্রবৃদ্ধি হলেও দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষের আয় এখনো দৈনিক আড়াই ডলারের কম, যা উন্নয়নের প্রহেলিকাসম। ফলে রাস্তায় বিলাসবহুল গাড়ি, শহরে নতুন মাল্টিপ্লেক্সবা উচ্চ অট্টালিকা এসব দৃশ্যের বিস্তার ঘটলেও সিংহভাগ মানুষই নিম্ন আয়ের ফাঁদে আটকা পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যও বলছে, এখনো নিম্ন আয়ের মধ্যে আটকে আছে দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ বা ১২ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ। এদের দৈনিক ক্রয়ক্ষমতা ২ দশমিক ৫০ ডলার বা ২০০ টাকার নিচে। চলতি (২০১৪১৫) অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে দেশের উচ্চবিত্তদের একটি হিসাব করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেখানেও দেখা যায়, দেশের মোট সম্পদের বেশির ভাগের মালিক মাত্র দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ মানুষ। তাদের বার্ষিক আয় ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকার উপর। এসব ব্যক্তির সম্পদ আছে কোটি টাকার বেশি। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার অতি ধনী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরাই দেশের অর্থনীতির মূল সুবিধাভোগী। অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে সব সুবিধা কাজে লাগিয়ে সম্পদ সৃষ্টি করছে উচ্চবিত্ত শ্রেণীটি। কারণ সরকারের সুবিধা ভোগ করার মতো সব ধরনের ক্ষমতা তাদেরই রয়েছে। এটাই তাদের সম্পদ বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, এক দশকে জিডিপির আকার বেড়ে হয়েছে চার গুণ। ২০০৫০৬ অর্থবছর জিডিপির আকার ছিল ৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী তা বেড়ে হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। ২০১০১১ অর্থবছর দেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৯ লাখ ১৫ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। এ সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশের ওপর। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অর্থনীতি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়েছে ধনীদরিদ্র বৈষম্যও। স্বাধীনতার পর গিনি সূচক (আয়বৈষম্য পরিমাপক) ছিল গড়ে দশমিক ৩২। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৪৬। এছাড়া ২০০০ সালে এ সূচক ছিল দশমিক ৩৯ তা ২০০৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় দশমিক ৪২। ২০১০ সালে সূচকটি আরো বেড়ে দাঁড়ায় দশমিক ৪৩এ। যদিও সরকারের দাবি, দেশে দারিদ্র ব্যাপক হারে কমছে। ১৯৯১ সালে দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত দেশের ৫৬ দশমিক ৭০ শতাংশ মানুষ। সর্বশেষ হিসাবে ২০১০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশে।।