Home » বিশেষ নিবন্ধ » ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস :: দায়ী মার্ক জুকারবার্গ

ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস :: দায়ী মার্ক জুকারবার্গ

এম. জাকির হোসেন খান

last 2প্রয়োজনে আইন দেখেন, প্রয়োজনে পরীক্ষার দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেব। প্রয়োজনে ফেসবুকও বন্ধ করে দেব। প্রশ্ন ফাঁস করে কেউ পার পাবে না। কেউ এখানে হাত দেবেন না, দিলে হাত পুড়ে যাবে, হাত ভেঙে দেব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে। হোমিওপ্যাথিক সিস্টেম চলবে না এবার, কঠোর ব্যবস্থা নেব’, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো আত্মঘাতী কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে এ ধরনের লোক দেখানো হুংকার ও রাজনৈতিক বক্তব্য অন্য কারো নয়, একজন শিক্ষামন্ত্রীর। তিনি এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ফেসবুক বন্ধ করার মাধ্যমে মাথা ব্যাথার জন্য মাথাই কেটে ফেলতে চাচ্ছেন। কি অদ্ভুত চিন্তা? অথচ যারা দিনের পর দিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো কর্মকান্ডের মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যতকে ফিঁকে করে দিলো তারা কেন এখনো ধরাছোয়ার বাইরে। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে কেউ মন্তব্য করলে সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার করা হচেছ। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের চিরুনি অভিযান চালিয়ে গণগ্রেফতার করা হচ্ছে, অথচ যারা দিনের পর দিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো দেশ ও জাতি বিরোধী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা কেন ধরাছোয়ার বাইরে মাননীয় মন্ত্রী জবাব দিবেন কী?

ফেসবুকে প্রশ্নপত্র প্রকাশের অপরাধে মার্ক জুকারবার্গকে গ্রেফতার করতে চাইলেও হয়তো আমাদের অবাক হবার কিছুই থাকবেনা!

শিক্ষা মন্ত্রী প্রশ্ন ফাঁসকারীদের হাত ভেঙ্গে দেওয়ার নামে এক ধরনের স্ট্যান্টবাজি যে করছের তা পরিস্কার। প্রশ্ন ফাঁসকারীদের না ধরে তার দায় ফেসবুকের কাধেই বা চাপানো হচ্ছে কেন? প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে পাশের হার এবং জিপিএ৫ এর সংখ্যা বাড়ানোর অভাবনীয় এ সুযোগ পেয়ে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী, তাদের বন্ধুবান্ধব ও পরিবারবর্গ কি সরকার সমর্থক বনে যাবে? কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, বায়াত্তর এর সংবিধান ফেরত পাওয়ার আশ্বাসে পাওয়া গেলো ’৭২ এর তুমুল বিতর্কিত পরীক্ষা পদ্ধতি যার মাধ্যমে জাতির ভাগ্য বিপর্যয় ঘটছে! একজন অভিভাবকের ভাষ্যে, ‘স্বল্প বেতনের আয় থেকে টাকা বাঁচিয়ে এক বছর মেয়েকে কোচিং করিয়ে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করেছেন। নিজে রাত জেগে মেয়েকে পড়িয়েছেন। অথচ প্রতিটি পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মেয়ে এখন লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। পরীক্ষার পড়া রিভিশন দেয়ার চেয়ে বান্ধবীদের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সংগ্রহতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।’

এ প্রেক্ষিতে সবার জিজ্ঞাসা মন্ত্রী আদৌ প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে চান কিনা? শিক্ষকরা বিভিন্ন সময় জানিয়েছে কিভাবে বোর্ড থেকে এসএসসি, এইচএসসি সহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অধিক নম্বর দিয়ে অধিক হারে জিপিএ প্রাপ্তির সংখ্যা দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস বা শিক্ষকদের অধিক নম্বর প্রদানের বিষয়ে সরকারের মনোভাব হলো, গুণগত মান নয় ,সংখ্যার দিকেই নজর । যদি তাই না হতো তবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা মিডিয়াতে প্রকাশ পেলেই মন্ত্রী এটাকে ‘গুজব’ বা দেশের স্বার্থবিরোধী এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রগতিশীল রাজনীতির বিরোধী কর্মকান্ড বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। সত্যকে চাপা দিয়ে দুর্নীতিবাজদের রেহাই দেওয়ার ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি স্বাভাবিক ঘটনায় দাড়িয়েছে, যা এখন শৈল্পিক রুপে ডিজিটাল বাংলাদেশের মশাল ধরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফেসবুকের মাধ্যমে হাতের নাগালে। ভবিষ্যৎ পরিণতির কথা না ভেবে প্রতিযোগিতায় সন্তানদের টিকিয়ে রাখতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীরা রাতের পর রাত প্রশ্নের পেছনে দৌড়াচ্ছেন। এর মাধ্যমে জিপিএ৫ লাখ লাখ শিক্ষার্থীর হাতের নাগালের মধ্যে এলেও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ ক্রমেই তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আসনের বিপরীতে পাবলিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ জন থাকলেও এসব ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র ৪ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্ধারিত পাশ নম্বর উঠাতে পারে।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যে শিক্ষানীতির আলোকে ফিঁকে হয়ে আসছে তার মুখবন্ধে শিক্ষা মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতি বা শিক্ষার্থীর শিক্ষার মান যাচাই বা শিক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির মৌলিক পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য ক্লাশরুমের শিক্ষাকে সম্পূর্ণ সফল করতে হবে। শিক্ষার্থীদের তথাকথিত নোট বই, প্রাইভেট টিউশনী প্রভৃতি অনাকাঙ্খিত আপদ থেকে মুক্তি দিতে হবে। পরীক্ষা হবে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে, পরীক্ষাকে শিক্ষার্থীরা ভীতিকর মনে করবে না, বরং আনন্দময় উৎসব হিসেবে গ্রহণ করবে। পরীক্ষাকে পরীক্ষার্থীরা তার শিক্ষা জীবনের সার্থকতার মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি হিসাবে আনন্দের সাথে গ্রহণ করবে।’ কথা এবং কাজের এ বৈপরীত্বেও মাধ্যমে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলেও মন্ত্রী এখন বহাল তবিয়তে, দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগও করছেন না?

উল্টো প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে শিশুদের পড়ালেখা বন্ধ করার পরামর্শ বা ফেসবুক,মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করার চিন্তাই বা কতখানি সুস্থ মস্তিস্কের পরিচায়ক? তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে? বা চুরিডাকাতি প্রতিরোধে বাড়ীতে মূল্যবান জিনিসপত্র রাখা যাবেনা? উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চালানোর এ চেষ্টাই বা কেন করা হচ্ছে। ফেসবুকে প্রশ্নপত্র প্রকাশের অপরাধে মার্ক জুকারবার্গকে গ্রেফতার করতে চাইলেও হয়তো আমাদের অবাক হবার কিছুই থাকবেনা। প্র্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত না করে চেতনার দোহাই দিয়ে দলীয় বুদ্ধিজীবিদের সমর্থনে শিক্ষামন্ত্রীর একের পর এক দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের সমর্থনের ফলেই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অথচ ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের মিলঅমিলের ফাঁদে পড়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩১ লাখ ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই অকল্পনীয় হোঁচট খেলো, বিশেষকরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তা খুদে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রচন্ড চাপে ফেলেছে। যার নেতিবাচক প্রভাব নিঃসন্দেহে প্রতিটি খুদে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের ওপর পড়বে। এর ফলস্বরুপ শিক্ষার্থীদের মূল্যবান ভবিষ্যতের যে অপরিমেয় ক্ষতি হয়েছে বা হচ্ছে তার দায় শিক্ষা মন্ত্রী এবং তার সমর্থক বুদ্ধিজীবিদেরই নিতে হবে।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়া থেকে পাওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার হলে দেয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল না থাকলে তাও ফাঁস বলা যাবে না বলে মন্ত্রীআমলারা যে দাবি তুলেছেন, সেটাই এখন ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা এ সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ চক্র মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মিল রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিচ্ছে। এতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের ভাষ্য মতে, ‘সাজেশনের নামে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়ে ছোট ছোট শিশুদের অন্যায় করতে শেখানো হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে জাতির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে’। সচেতন নাগরিকদের এ দাবিটিকে কি অত্যুক্তি বলা যাবে? বিগত সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তেলেসমাতির বিভিন্ন খবর আমাদের অজানা নয়।

বাংলাদেশে যতগুলো শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাগাড়ম্বর এবং ঢাকঢোল পেটানো হয়েছে ২০০৯ সালে মহাজোটের নামে আওয়ামী লীগের বর্তমান শিক্ষানীতি প্রণয়নে। ডিজিটাল বাংলাদেশের মতো আরেক মোড়ক হলো এ শিক্ষানীতির তথাকথিত সৃজনশীল পদ্ধতি। যে নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরো বিজ্ঞানমনস্ক এবং জ্ঞানী হওয়ার কথা তা দূর্ভাগ্যজনকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসে ব্যবহার হচ্ছে। শিক্ষানীতি ২০১০এ কি গ্রামশহরের শিক্ষার আকাশ পাতাল বৈষম্য দুর করার কোন প্রস্তাব আছে? গ্রামে এক একটি এনজিও তাদের স্বার্থে যেমন খুশি তেমন শিক্ষা দিচ্ছে, শিক্ষানীতি ২০১০এ শিক্ষাকে পুরোপুরি রাষ্ট্রের দায়িত্বের আওতায় নিয়ে আসার কোন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শহরে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পড়াশোনার জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সুযোগ সুবিধা যেমন, মাঠ, বিল্ডিংগুলো দখল মুক্ত রাখতে এ শিক্ষানীতির কোন দিক নির্দেশনা রয়েছে কি? ধনীদের জন্য উচ্চ মান এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিম্নমানের শিক্ষার বিদ্যমান বৈষম্য কমানোর কোন প্রস্তাব শিক্ষানীতির মধ্যে আছে কি? প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণের বর্তমান যে মহোৎসব চলছে তা রোধে এ শিক্ষানীতি কতখানি কার্যকর? দেশীয় কারিকুলামে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার বিস্তারের ফলে অভিভাবকরা এখন ব্যয়সাপেক্ষ ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার দিকে ক্রমেই ঝুকবে।

টিআইবি’র ২০১২ সনের খানা জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৩০.% খানা শিক্ষা খাত থেকে সেবা নেয়ার জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ প্রদান করেছে। কিছুদিন আগেই টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ, ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া বিভাগ খোলা ও শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করলে তা খতিয়ে না দেখে উল্টো সংসদে দাড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক টিআইবিকে প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষমা চাওয়ার স্ট্যান্টবাজি করেন। অথচ কেনা জানে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাঁকিগুলো মান নিয়ন্ত্রণ না করে বাণিজ্যে লিপ্ত, এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। উচ্চ শিক্ষা কমিশনের মাধ্যমে মান নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

এখানেই শেষ নয়। বিরোধী ছাত্র সংগঠন দমনের নামে, লুটপাটের ভাগভাটোয়ারা নিয়ে আধিপত্য বিস্তারের নামে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের কারণে যখন একের পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সন্ত্রাসের লীলাভূমিতে পরিণত হচ্ছে এবং হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর শিক্ষা জীবন হুমকির মুখে তখন মন্ত্রী নির্বিকার। একদিকে সরকার এবং মন্ত্রীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার নামে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে উৎসহিত করছেন এবং তা ঢাকার জন্য সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হোষ্টেল পুড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখে চোখের পানি ফেলে জাতিকে ব্ল্যাকমেইল করেন। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের ক্রমবিকাশমান পুস্তক শিল্প বা জ্ঞান ব্যবস্থাপনাকে সমূলে ধ্বংশের ব্যবস্থা করে বিদেশি পুরস্কারের বদৌলতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষাকে প্রতিবেশি দেশের হাতে বন্ধক দিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশের কোমলমতি শিশুদের মনমগজ ধর্মনিরপেক্ষতার নামে প্রকৃতপক্ষে একটি ভিন্ন সংস্কৃতির অধীন থাকার চিন্তাচেতনায় গড়ে ওঠে। এর বদৌলতে মন্ত্রী ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে একটি পুরস্কারও জুটিয়ে ফেলেছেন। মন্ত্রী ভালো করেই জানেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে তার শিক্ষাকে ধ্বংস করাই যথেষ্ট।

অসৎদের মাধ্যমে নয় বরং অসততা দেখেও যারা অসৎদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনা তাদের মাধ্যমেই পৃথিবী ধ্বংস হবে’ আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞানের জনক আলবার্ট আইনস্টাইনের এ কথাটি আমাদের জন্য শুধু বাস্তব সত্য নয়, জাতি হিসাবে আমরা প্রতিনিয়ত টের পাচ্ছি। জ্ঞানবিজ্ঞানের জগত থেকে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ক্রমেই পেছনের দিকে যাচ্ছে। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সূচকে বাংলাদেশ ১০ পয়েন্টের মধ্যে মাত্র ১.৪৯ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বের ২৮টি উদীয়মান অর্থনীতির দেশের মধ্যে ২৭তম এমনকি মিয়ানমারের পেছনে অবস্থান করছে, যা সত্যিই আশংকাজনক। একদিকে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি করে তাদের অবৈধ অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে শাসক শ্রেণী। মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থায় মই দেবার যে প্রয়াস সরকার চালিয়ে যাচ্ছে তা নির্দ্ধিধায় বলা যায়। এক সময়ের সমাজতন্ত্রের ঝান্ডা ওড়িয়ে বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখাতেন শিক্ষা মন্ত্রী, বর্তমানে প্রকৃতপক্ষে তিনি কার স্বার্থ দেখছেন? একটাই জিজ্ঞাসা কবে দূর হবে শিক্ষা নিয়ে এ জাতীয় অনাচার? এখন দেখার বিষয় সদ্য সমাপ্ত সার্ক সম্মেলনের কাঠমুন্ডু ঘোষনায় (সেকশন) যুবকদের উন্নততর সেবা দানে সরকারগুলোর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক গুণগত মানের শিক্ষা প্রদানে সক্ষম হয় কিনা?