Home » প্রচ্ছদ কথা » উন্নয়নের নামে ভয়াবহ রাজনৈতিক শূন্যতা

উন্নয়নের নামে ভয়াবহ রাজনৈতিক শূন্যতা

আমীর খসরু

COVERদেশে বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ক্রিয়াকলাপ নেই। বিরোধী দল, মত, পক্ষ যে বিদ্যমান আছে, তার কোনো আলামতও সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমাণ নয়। সংকটের ব্যাপারটি হচ্ছে এখানে যে, এই আছে কি নেই, তা বোঝারও কোনো উপায় এবং ব্যবস্থাটিও সচল রাখা হয়নি। ক্ষমতাসীন পক্ষের কি করা উচিত, কোন পথে চলা উচিত এবং কোন দিকে গেলে ভালো হয় এমনটি বলারও কেউ নেই অর্থাৎ তেমন অবস্থাও রাখা হয়নি। জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে বটে, কিন্তু কোনো উত্তাপ তো নেই, অধিকাংশ মানুষ জানেনও না বা জানার আগ্রহও নেই প্রতিদিন এতো টাকা খরচ করে চলা সংসদ অধিবেশন সম্পর্কে। যথাযথ কারণে মিডিয়াও চুপচাপ। সংসদে বিরোধী একটি পক্ষ আছে বলে বলা হলেও তাদের ভূমিকা বাস্তবে ‘ক্ষমতাসীনদের প্রতি চূড়ান্ত আনুগত্যের এবং এর বিনিময়ে অনুকম্পা প্রাপ্তির’। সব মিলিয়ে সব কিছু নিশ্চুপ, নিস্তরঙ্গ অবস্থায় চলছে। তবে এই যে নিঃশব্দ পরিস্থিতি তা দীর্ঘদিন ধরে কঠিনকঠোরভাবে আরোপিত এক ধরনের নিষেধাজ্ঞামূলক কর্মকাণ্ডের অনিবার্য পরিণতি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এক অস্বাভাবিক নীরবতা জারি রাখতে চেয়েছে বলেই পরিস্থিতিটি এমন এবং তাদের আকাক্সক্ষার ফসল।

২০০৯এ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীনরা চেয়েছিল এমনই এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হোক। তাদের কামনার এমন পরিস্থিতির মূল কারণ হচ্ছে এক দলের শাসন এবং সে মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করা। আপাতঃদৃষ্টিতে তা তারা করতে সক্ষম হয়েছে। আর এর পরিণতিতেই দেশে বিরোধী দল, মত, পক্ষের কার্যকর কোনো উপস্থিতি নেই। এমন কি ব্যক্তি পর্যায়ের কোনো যথাযথ আলাপআলোচনাও অনুপস্থিত। আগেই বলা হয়েছে যে, সরকার কেন এমন পরিস্থিতি চেয়েছে ও চেয়েছিল । চেয়েছিল এই কারণে যে, গণতন্ত্র তাদের কাছে অপছন্দনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। ক্ষমতাসীনদের সব সময় তীব্র আকাক্সক্ষা ছিল, সেই আগের মতোই ‘এক এবং এককে’র ইচ্ছাধীনে দেশ চলবে এবং এর বাইরে কিছু থাকবে না। ৪০ বছর আগের পরিস্থিতি আর বর্তমান পরিস্থিতি এক নয় বলেই এই দফায় তারা ঢালাওভাবে আগেরটির পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি। এই কারণেই তাদের এই দফায় ব্যাপকমাত্রায় কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়া এবং একটি যুৎসই পরিকল্পনাও গ্রহণ করতে হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রের অন্যান্য শাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রথাপ্রতিষ্ঠানের উপরে প্রভাব বিস্তার ও নিয়মকানুনকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নেয়া হয়। পরে সংবিধান সংশোধনের দিকে তারা মনোনিবেশ করে। ওই অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বেশ কিছু কালাকানুন সংযোজন এবং অনেক কিছু ভবিষ্যতে অপরিবর্তনীয় পরিবতর্নের সংযোজন আনা হয়। এরপরে এই দুইকে কাজে লাগিয়ে জনগণের ভোটাধিকার যা গণতন্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় এবং অনিবার্য শর্ত, তাকে বিদায় জানানো হয়। এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের শেষ রক্ষা কবচটিরও ইতি ঘটানোর মধ্যদিয়ে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, যা চরম মাত্রার স্বৈরাচারে রূপান্তরিত হওয়ার উর্বর পরিস্থিতি। কার্যত এমন ধারার স্বৈরাচারে খুব কম ক্ষেত্রেই ওই শাসন ব্যবস্থাটি কতিপয়ের স্বৈরাচারেও সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি হয়ে পড়ে অনিবার্যভাবে এক বা এককের অর্থাৎ ব্যক্তি পর্যায়ের শাসন ।

এমন একটি ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি সৃষ্টির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দল গত কিছুদিন ধরে বলতে শুরু করেছে ‘বেশি মাত্রায় গণতন্ত্র তাদের প্রয়োজন নেই এবং গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়ন বেশি প্রয়োজন’। অর্থাৎ এর মধ্যদিয়ে যে স্পষ্ট ইঙ্গিতটি দেয়া হচ্ছে তা হচ্ছে এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে যে যৎসামান্য গণতন্ত্র বিদ্যমান ছিল তাকে বিদায় করা যথেষ্ট সঙ্গত হয়েছে এবং অতোটুকু গণতন্ত্রেরও বাংলাদেশে প্রয়োজন নেই। এ কথা সবার জানা যে, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি স্বাধীন হওয়ার পরে অধিকাংশ সময় সামরিক কিংবা কোনো না কোনো দলের চরম অগণতান্ত্রিক শাসন বিদ্যমান ছিল। কিন্তু বেসামরিক শাসন পরিচালনার জন্য গণতন্ত্রের একটি মোড়ক অন্তত বিদ্যমান ছিল। আর সেই গণতন্ত্রটি পরিপূর্ণ মাত্রায় হয়ে পড়েছিল নির্বাচন নির্ভর। এক্ষেত্রেও নানা অভিযোগও রয়েছে। তারপরেও যতোটুকু ‘ভোট নির্ভর গণতন্ত্র’ জারি ছিল, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সেটুকুও রাখতে নারাজ তাদের আগের এক আমলের মতোই।

শাসক দল বোঝাতে চাইছে যে, উন্নয়নের জন্য বেনোভোলেন্ট ডিক্টেটর বা জনকল্যাণকামী একনায়কতান্ত্রিক ব্যবস্থা খুবই জরুরি এবং প্রয়োজনীয়। কিন্তু তাদের হয়তো জানা নেই যে, বেনোভোলেন্ট ডিক্টেটর আর স্বৈরাচারের মধ্যে পার্থক্যটি কোথায়? মোটা দাগে যদি বিশ্লেষণ করা যায় এবং বেনোভোলেন্ট ডিক্টেটরের উদ্দেশ্য কি, তা যদি এক কথায় বলা হয় তাহলে বলতেই হবে বেনোভোলেন্ট ডিক্টেটর বা জনকল্যাণকামী একনায়কতান্ত্রিক পদ্ধতি হচ্ছে এমন এক ব্যবস্থা যাতে শাসকের মনে ‘সব সময়ই জনকল্যাণের লক্ষ্যে উন্নয়নের আকাঙ্খাটি একমাত্র উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য হবে’। অর্থাৎ জনগণের প্রকৃত উন্নয়নের বিষয়টিই হচ্ছে এই শাসন ব্যবস্থার মুখ্য এবং মৌল উপাদান। কিন্তু বেনোভোলেন্ট ডিক্টেটর বা জনকল্যাণকামী একনায়ক হতে গেলে ব্যক্তির এবং তার শাসন ব্যবস্থার মধ্যে চরম মাত্রার সততা, ন্যায্যতার মনোভাব এবং জনআকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। সর্বোপরি উচ্চমাত্রার জাতীয়তাবোধ ক্রিয়াশীল থাকতে হয় ওই শাসকের মনে, বিশ্বাসে। এসব গুণাবলী মালয়েশিয়ায় মাহাথির মুহম্মদের শাসনকালে তিনি দেখিয়েছেন। সিঙ্গাপুরে প্রয়াত শাসক লি কোয়ান ইউও এর উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত। তারা চরম পর্যায়ের সততা, নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, জনআকাক্সক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং সর্বোপরি উচ্চমাত্রার জাতীয়তাবোধ নিয়ে তারা তাদের শাসন কাজ পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এরপরেও স্বল্পমাত্রার দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির এবং একনায়কতান্ত্রিকতার সমালোচনার ঊর্ধ্বে তারা উঠতে পারেননি। যে লি কোয়ান ইউ একটি ব্যাপকতর অনুন্নত সিঙ্গাপুরকে প্রথম শ্রেণীর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর ঘটিয়েছিলেন তার বিরুদ্ধেও স্বজনপ্রীতির নানা অভিযোগ রয়েছে এবং রাষ্ট্র ক্ষমতায় ও উচ্চস্তরে তার পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা দেখলেই এর সত্যতা মেলে। তারপরেও বেনোভোলেন্ট ডিক্টেটরের একটি বড় বিষয়কে চিহ্নিত করতেই হবে, আর তা হচ্ছে ওই সব দেশে আইনের শাসন পরিপূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান ছিল এবং শাসন সবার ক্ষেত্রেই সমান ও কঠোরভাবে প্রযোজ্য থেকেছে। সেখানে দলীয় ভিত্তিতে টেন্ডার ভাগাভাগি হয়নি, চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ উঠেনি, ব্যাংক কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুটের ঘটনা ঘটেনি, এমনকি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাদের দেশগুলো দুর্নীতির তালিকায় শীর্ষ স্থানে কখনো নাম লেখায়নি।

এর বাইরেও অন্য আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন যা কিনা ’৭০এর শেষ দিকেই পুরোপুরি অচল হয়ে পরে তাদের অর্থনৈতিক ভাবনার উল্লেখযোগ্য বিষয়টি ছিল এ রকম – ‘উন্নয়নের প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত করতে হলে প্রাথমিকভাবে গণউদ্যোগের প্রয়োজন হয় না, যা প্রয়োজন তাহলো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রতি জনগণের সমর্থন’। অর্থাৎ এর মাধ্যমে বিষয়টি পরিস্কার যে, রাষ্ট্রের ম্যানেজার হিসেবে যিনি বা যারা শাসক তাদের প্রতি জনগণের সমর্থন আছে কিনা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন সে বিষয়টির প্রতিই গুরুত্ব দিয়েছিল। বাংলাদেশ এক সময় এই জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছিল শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে।

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার জনকল্যাণকামী একনায়ক বা বেনোভোলেন্ট ডিক্টেটারের সাথে পার্থক্যটি মিলিয়ে দেখলেই উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে। তবে সবশেষ বিচারে পন্ডিতগন এই সিদ্ধান্তে পৌছেছেন যে, গণতন্ত্র উন্নয়নের প্রধানতম শর্ত। উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র অত্যাবশ্যকীয়। জনগণের আকাঙ্খা ধারণ এবং লালন করে না, এমন গণতন্ত্রবিহীন শাসকদের কাছ থেকে উন্নয়নের নামে আর যাই হোক প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এখানে সর্বোচ্চ যা হতে পারে তাহচ্ছে উন্নয়নের নামে অন্য কিছু, প্রকৃত উন্নয়ন নয়। কারণ গণতন্ত্র অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রতি জনগণের সমর্থন আছে কি নেই তা নির্ধারণ করার কোনো পদ্ধতি নেই। জনআকাঙ্খার বাস্তবায়ন হচ্ছে কি হচ্ছে না তার মাপকাঠিই বা কি? তাছাড়া উন্নয়নের নামে অর্থ বিনাশ হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়। কথিত উন্নয়নটি আসলে অন্তিমে কতিপয়ের উন্নয়নে পর্যবসিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থেকেই যায়।

অল্প কিছু উদাহরণ দিলেই পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমার পরেও বাংলাদেশে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে কেন বা দফায় দফায়, কেন জনঅর্থবিনাশী কুইকরেন্টাল চলছে, কেনোই বা চালানো হচ্ছে, এর উদ্যোগ কেন নেয়া হয়, সে প্রশ্নটি কার্যকরভাবে উত্থাপিত হচ্ছে না। বর্তমানে কৃষক ধানের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন না, বরং উৎপাদন খরচও উঠানো যাচ্ছে না কৃষকের এই প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে উত্থাপন কে করবেন? যৌন সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে একের পর এক, কিন্তু বিচার হচ্ছে না সম্মিলিতভাবে এই বিচার কে চাইবে? ভারতের সাথে এতোগুলো চুক্তি হলো, যার সাথে জাতীয় স্বার্থ জড়িত এর ভালোমন্দ বিচারবিশ্লেষণ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কে করবে বা সত্যিকার জনআকাঙ্খা বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা, ভবিষ্যতে হবে কিনা, এই উদ্যোগ জনগণের পক্ষে আছে কি নেই সেই প্রশ্নটিই কে করবে? নতুন নতুন ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে কিন্তু কে প্রকাশ্যে এই কথাগুলো বলবে? উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উঠলেও দেশের অভ্যন্তরে চুপ করে থাকতে হচ্ছে কেন? ব্যাংক লুট, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা ঘটনাবলী সংবাদ মাধ্যমে পর্যন্ত প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু তার কোনো সুরাহা করা হচ্ছে না। কে এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করবে দলগতভাবে, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে? উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভেসে যাচ্ছে বলা হলেও বিপজ্জনক সাগর পথে অভিবাসন প্রত্যাশীদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশীরা। কিন্তু কেন, কে এই প্রশ্ন উত্থাপন করবে?

গণতন্ত্রবিহীন অবস্থায় এই সব প্রশ্নের কোনো জবাব চাওয়া যেমন বিপজ্জনক, তেমনি জবাব আসারও কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই পার্থক্যটি নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে।

বেনোভোলেন্ট ডিক্টেটরশীপ বা জনকল্যাণকামী একনায়কতন্ত্রের শ্লোগানটি যে ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদী করার কৌশল, তা যেকোনো বিবেচনায়ই স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ বিশ্বের বহু স্থানে শাসকরা এভাবেই দেশ শাসন করতে চেয়েছিল, চাচ্ছে। কিন্তু ইতিহাসের ধারাটি হচ্ছে এমন এই পন্থায় দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকা যায় না।

গণতন্ত্র, জনকল্যাণমুখীনতা এসব ঘোষণা দিয়ে স্তাবকদের উচ্চকণ্ঠে প্রচারের বিষয় নয়। এই সবই হচ্ছে শাসকের চেতনাচৈতন্যের, মনমানসিকতার, আশাআকাঙ্খার, দক্ষতাপ্রজ্ঞা এবং সর্বোপরি জনকল্যাণকামী মনোভাবেরই মনস্তাত্বিক বিষয়াবলী। যখনই এসব বাদ দিয়ে শুধুমাত্র প্রচারপ্রচারণার প্রশ্নটি চলে আসে এবং ওটি বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হয় তখনই সন্দেহ প্রবল হয়ে উঠে।

প্রচারপ্রচারণা এবং তা বিশ্বাসে বাধ্য করার ক্ষমতাসীনদের নতুন কৌশলের কারণে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিশাল শূন্যতা নানাবিধ অপকৌশলের দুর্ভাগ্যজনক সম্মিলিত যোগফল। এই দুর্ভাগ্য সাধারনের, অসাধারনের জন্য নয় কোনভাবেই। কিছুদিন আগেও বিরোধী দল, মত, পক্ষ দমনে ‘কল্পিত সব তথ্য এবং তত্ত্ব’ হাজির করে শূন্যের উপরে, অদৃশ্যের সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হতো এখন সে পরিস্থিতিও নেই। যারা ওই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে, তাদের সামনে এখন প্রতিপক্ষ বা শত্রু চাই এটাই হচ্ছে নিয়ম। কিন্তু প্রতিপক্ষ কোথায়, তা তো দমন করে ফেলা হয়েছে, অনেক আগেই। কিন্তু যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে যারা অভ্যস্ত তারা কি চুপচাপ বসে থাকবে সুস্থ অবস্থায়? না। এ কারণেই ইচ্ছাকৃত শূন্যতা সৃষ্টির ফলে চরমতম এক শূন্যতার মধ্যদিয়ে দেশ চলছে। পরিস্থিতি আপাতঃ স্বস্তির, শান্তির এবং নীরবতার মনে হলেও, এটি ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাবিশ্লেষণে সাময়িক, দীর্ঘস্থায়ী নয়। কারণ শূন্যস্থান বলে ইতিহাসে, প্রকৃতিতে কিছু নেই। তবে এই শূন্যতা পূরণে পদ্ধতি ও পথটি কেমন হবে তা নিয়েই উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে। এটা বোঝার জন্য বড় ধরনের কোনো দলদাস, কথিত বুদ্ধিজীবী হওয়ার দরকার নেই, চোখকান খোলা রাখলে এবং বিবেক বন্ধক না দিলেই এটা সহজেই টের পাওয়া যায়, বোধগম্য হয় সবকিছুই।।