Home » অর্থনীতি » ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর বাড়ল

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ ১০ বছর বাড়ল

রাহুল বেদি, জেনস ডিফেন্স উইকলি

অনুবাদ : আসিফ হাসান

Last 1ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ৩ জুন তাদের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি ১০ বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত করেছে। নয়া দিল্লীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার এবং ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পরিকরের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি ‘উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা, উভয় সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অব্যাহত বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সামর্থ্য জোরদারকরণে’ নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। এতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও বাণিজ্য উদ্যোগের (ডিটিটিআই) ‘রূপান্তরমূলক’ প্রকৃতির কথাও স্বীকার করা হয়েছে। দুই পক্ষ এর আওতায় ভারতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনে একমত হয়।

ডিটিটিআইয়ের আওতায় দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভারত সফরকালে সম্মত হওয়া চারটি ‘পথনির্দেশক’ প্রকল্পের দুটি চূড়ান্ত করেছেন। দুটি প্রকল্পের প্রতিটিরই তহবিল হবে ১০ লাখ ডলার, উভয় দেশ সমানভাবে এই অর্থের যোগান দেবে। প্রকল্প দুটি হচ্ছে মোবাইল ইলেকট্রিক হাইব্রিড পাওয়ার সিস্টেম (এমইএইচপিএস) এবং রাসায়নিক ও জৈব দুর্ঘটনা মোকাবিলা।

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অরগানাইজেশন (ডিআরডিও) এমএইচপিএস’র উন্নয়ন অংশীদার হবে, আর অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড (ওএফবি) সম্ভবত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ প্রকল্পের সঙ্গে থাকবে।

অন্য দুটি ডিটিটিআই প্রকল্পের (উভয়টিই মার্কিন প্রাইভেট সেক্টরের) মধ্যে রয়েছে অ্যারোভাইরনমেন্ট আরকিউ১১ রাভেন হাতে ছোঁড়া মনুষ্যবিহীন আকাশযান এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর ১১ লকহিড মার্টিন সি১৩০জে৩০ পরিবহন বিমানের জন্য রোলঅন ও রোলঅফ গোয়েন্দা, নজরদারি ও নিরীক্ষা (আইএসআর) মডিউল।

রাভেন প্রকল্পটি ব্যাঙ্গালোরের বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক টেকনোলজিসের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আর সি১৩০জে৩০ আইএসআর মডিউল কর্মসূচিটিও বেসরকারি উৎপাদনকারীদের মাধ্যমে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার বলেন, ‘আমরা এখানে যেসব প্রকল্প শুরু করেছি, তা কেবল সূচনা মাত্র, এর রেশ ধরে আরো অনেক কিছু আসবে।’ ভারতকে ১৭টি প্রযুক্তি একত্রে উন্নয়ন ও উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

উভয় পক্ষই ‘জেট ইঞ্জিন, বিমান ক্যারিয়ার ডিজাইন ও নির্মাণে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ’ নিতে এবং নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য কল্যাণকর প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে একমত হয়েছে।

কার্টারের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি। ২ জুন বিশাখাপত্তমে ভারতীয় নৌবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডে যাত্রাবিরতিকালে কার্টার বিষয়টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কার্টার শিভালিকক্লাস ফ্রিগেড আইএনএস সাহিয়াদ্রি পরিদর্শন করেন এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর স্থানীয় কমান্ডারদের সাথে সাক্ষাত করেন।

ভারত ও মার্কিন নৌবাহিনী ২০১৫ সালের শেষ দিকে তাদের বার্ষিক মালাবার নৌমহড়ার ১৪তম রাউন্ড পরিচালনা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাথে বৈঠকের সময় কার্টার দক্ষিণ চীন সাগরে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেন। সামরিক সূত্র জানায়, এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা এবং নৌ চলাচলে স্বাধীনতার অধিকার এবং এর পাশাপাশি তেল অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ভারতসহ অন্যান্য দেশের অধিকারের ওপর জোর দেন কার্টার। ৩১ মে স্বরাজ বলেন, চীনের আপত্তি সত্ত্বেও ভারত দক্ষিণ চীন সাগরে ভিয়েতনামের প্রস্তাব করা তেল ব্লকে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে।

বিশ্লেষণ: এশিয়াপ্যাসিফিক এবং ভারত মহাসাগরী অঞ্চলে (আইওআর) সংশোধিত নিরাপত্তা কাঠামোতে ভারতকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও বাণিজ্য উদ্যোগের (ডিটিটিটি) মাধ্যমে ভারতের সামরিক সামর্থ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশটির সাথে অংশীদারিত্ব বাড়াতে আগ্রহী। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৬৫ হাজার টনের বিমানবাহী রণতরী নির্মাণ করতে এবং তাতে জেনারেল অ্যাটমিকসের তৈরি ইলেট্রম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফট লঞ্চ সিস্টেমও (ইএমএএলএস) দিতে চাচ্ছে। জুনের শেষ দিকে এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কারিগরি কর্মকর্তাদের জুনের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় বসার কথা।

ভারত সফরকালে সঙ্গী সাংবাদিকদের কার্টার বলেছিলেন, ‘উভয় দেশের আমলাতন্ত্রের মধ্যে উত্তরাধিকার ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন একটি অব্যাহত প্রক্রিয়া।’