Home » অর্থনীতি » পানামা পেপারস : ধামাচাপা পড়ছে আগের মতোই

পানামা পেপারস : ধামাচাপা পড়ছে আগের মতোই

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন ::

এ যাবৎকালের আর্থিক খাতের অন্যতম তথ্য ফাঁসের ঘটনা ‘পানামা পেপারস’ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাপী। গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে স্বীকৃত পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা- যেটি পানামার একটি আইনী সহায়তা প্রতিষ্ঠান- সেখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে এক কোটি ১৫ লাখ নথিপত্র। যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অর্থপাচারের বিষয়ে শিহরণ জাগানিয়া তথ্য রয়েছে। যেখানে বিশ্বের ধনাঢ্য ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের গোপন সম্পদের তথ্য, আর কীভাবে আইনি প্রতিষ্ঠানটি এসব ব্যক্তির অর্থপাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং কর ফাঁকিতে সহযোগিতা করেছে, তার চিত্র। ওই নথিপত্রগুলোকেই বলা হচ্ছে পানামা পেপারস।

সুইজারল্যান্ড, সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপপুঞ্জসহ বিভিন্ন করমুক্ত দেশে মোসাক ফনসেকা কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিজ দেশের বাইরে অর্থ রাখার বিষয়ে দুনিয়াজুড়ে যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সেবা প্রদান করে তার মধ্যে মোসাক ফনসেকার অবস্থান চতুর্থ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তিন লাখেরও বেশি কোম্পানির হয়ে কাজ করে এটি। ব্রিটেনের সঙ্গে রয়েছে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এদের গ্রাহকের অর্ধেকেরও বেশির অবস্থান ব্রিটেনশাসিত এলাকাগুলোয়।

মোসাক ফনসেকার সম্পদশালী  মক্কেলেদের বিষয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসও তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। স্পেনের বিচার বিভাগীয় সূত্র জানিয়েছে, স্পেন এরই মধ্যে আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পাচার-বিষয়ক তদন্ত শুরু হয়েছে। কেলেঙ্কারির ঘটনার কারণে আলোচিত পানামা সরকারও বিষয়গুলো তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। জানিয়েছে, যদি কোনো অপরাধ হয়ে থাকে এবং আর্থিক ক্ষতি হয়ে থাকে, আর তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পুরস্কৃত করা হবে।

বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও তার বাবার নাম আছে এ তালিকায়। নথি অনুযায়ী, বাবা-ছেলে মিলে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মেগা স্টার এন্টারপ্রাইজের নামে অর্থ পাচার করেছেন। এখন স্পেনে কর ফাঁকি দেওয়ার একটি অভিযোগ আছে মেসির বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও অবমাননাকর।

তালিকায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কোর নাম থাকলেও তিনি কোনো ভুল করেননি বলে দাবি করেছেন। এ ছাড়া লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে ১৯৮৩ সালে চার কোটি ডলার মূল্যের ব্রিটিশ সোনা-রুপার বার ডাকাতির ঘটনায় লাখ লাখ ডলার ফাঁকি দেওয়ার বিষয়ে পানামার একটি শেল কোম্পানি সহায়তা করেছে।

পানামা পেপারস নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের মূলে রয়েছে এ নথিতে বিশ্বের অনেক বড় বড় ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং আলোচিত, তারকা ব্যক্তিত্বের বিদেশে অর্থপাচারের গোপন নথি প্রকাশ হওয়া। পানামা পেপারসে দেখা যায় দুর্নীতি, লুটপাট করে অর্জিত সম্পদসহ অনেকে নিজ দেশে ট্যাক্স ফাকি দেয়ার জন্য বিদেশে ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। লুটেরা ও স্বৈরশাসক, বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, দখলদারদের নানা উপায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে তা পাচার বিষয়ে সাধারণ মানুষ সবসময়ই কমবেশি অবহিত। কিন্তু এভাবে যে তা সমূলে ফাঁস হয়ে যাবে তা যেন ছিল অনেকের কল্পনার বাইরে। বিভিন্ন দেশের অনেক ক্ষমতাসীন নেতৃবৃন্দ চরম আতঙ্কে রয়েছেন পানামা পেপারস ফাঁস হওয়ার পর থেকে। ইতোমধ্যে আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন সম্পদ পাচারে জড়িত হিসেবে তার নাম ফাঁস হয়ে যাওয়ায়। রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, চীনসহ অন্য অনেক দেশের ক্ষমতাসীনেরা বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন পানামা পেপারসে তাদের এবং তাদের পরিবার ও পরিচিত অনেকের নাম জড়িত থাকায়। বাংলাদেশেও অনেকে যেমন তীব্র আতঙ্কে রয়েছেন পানামা পেপারস বিষয়ে তেমনি অনেকে অপেক্ষা করছেন কার কার নাম ফাঁস হয় তা দেখার জন্য।

বিভিন্ন দেশে প্রতিক্রিয়া: পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাসহ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অর্থ পাচার এবং কর ফাঁকির এ কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমন্ডুর ডেভিড গুনলাগসন। এর আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে দেশের প্রেসিডেন্টকে আহবান জানান তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট ওলাফুর র্যা গনার গ্রিমসন তাঁর আহবানে সাড়া দেননি।

অর্থ পাচারের তালিকায় নাম থাকা ধনশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তদন্ত শুরু হয়েছে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও পানামায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজনীতিক এবং চলচ্চিত্র ও ক্রীড়া জগতের তারকা ব্যক্তিদের অর্থ পাচারের খবর প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর ফাঁকি দেওয়াকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের কথা জানিয়ে তাঁর দল প্রগ্রেসিভ পার্টির উপনেতা ও কৃষিমন্ত্রী সিগুইডুর ইঙ্গি জোনাসন বলেন, পার্লামেন্টারি পার্টির সভায় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। এখন তিনি (কৃষিমন্ত্রী) প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন বলে জানান।

মোসাক ফনসেকা নামে পানামার একটি আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ১৫ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়। এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। নথিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিকটাত্মীয়দের নাম আসে। এ তালিকায় আরও আছে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ বিন আবদুল রহমান আল সৌদ, মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের এক ছেলে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দুই ছেলে ও মেয়ের নাম। রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের পাশাপাশি ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি এবং ভারতের চলচ্চিত্র জগতের খ্যাতিমান অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন এবং তাঁর পুত্রবধূ ও অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়ার নামও অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

মোসাক ফনসেকার ওই ১ কোটি ১৫ লাখ নথি অজানা সূত্র থেকে জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতং-এর হাতে আসে। পত্রিকাটি সেসব নথি ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয়। ১৯৭৭ থেকে ২০১৫, প্রায় ৪০ বছরের এসব নথি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার কিছু অংশ আইসিআইজে প্রকাশ করে।

মোসাক ফনসেকার মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ কর রেয়াতকারী অঞ্চলে তথাকথিত প্রতিষ্ঠান (অফশোর কোম্পানি) তৈরির মাধ্যমে গচ্ছিত রেখেছিলেন পাচারকারীরা। এসব অঞ্চলের মধ্যে প্রায় সব কটিই যুক্তরাজ্যের রানীশাসিত নানা অঞ্চল (ব্রিটিশ টেরিটোরিজ)। এই অঞ্চলগুলো ‘করের স্বর্গ’ বা ‘ট্যাক্স হেভেন’ নামে পরিচিত। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি নিয়ে তাই বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবেন বলেন, এ অঞ্চলগুলো যদি যুক্তরাজ্য সরকারের কর নীতি না মানে, তাহলে ‘প্রত্যক্ষ শাসন’ জারি করা হোক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, কর ফাঁকি দেওয়াটা একটা বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কর আইনের ফাঁকফোকর বের করে অর্থ পাচার করছে।

ফ্রান্স ঘোষণা করেছে, তারা এ ঘটনার তদন্ত করবে। ফরাসি অর্থমন্ত্রী মিশেল সাপাঁ পার্লামেন্টে ঘোষণা দেন, ফ্রান্স কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করতে যেসব দেশ সহযোগিতা করে না, এর তালিকায় এখন পানামার নাম যুক্ত করবে। অস্ট্রেলিয়ার কর কার্যালয় তালিকায় নাম থাকা ৮০০ ব্যক্তির বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয়। অস্ট্রিয়ার আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বলেছে, তালিকায় নাম উঠে আসার পর দেশের দুটি ব্যাংক অর্থ পাচারে জড়িত ছিল কি না, তা নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছে।

মোসাক ফনসেকার দেশ পানামাও তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। আদৌ অর্থ পাচার বা এ জন্য কোনো অপরাধমূলক কাজ হয়েছে কি না, সে লক্ষ্যেই হবে এ তদন্ত। পানামার প্রেসিডেন্ট জুয়ান কার্লোস ভারেলা বলেন, তাঁর সরকার আন্তর্জাতিক যেকোনো তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজি। তবে তাঁর দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রেখেই তিনি সবকিছু করবেন।

যে ৫০০ ভারতীয়র নাম তালিকায় উঠে আসে, তাঁদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর পরে মুখ খোলেন অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। তিনি বলেন, যে চারটি জাহাজ কোম্পানির পরিচালক হিসেবে তাঁর নাম এসেছে, এগুলো তিনি চেনেন না। এসব প্রতিষ্ঠানে তাঁর নাম ভুলভাবে এসেছে বলে তাঁর ধারণা। তিনি বলেন, ‘আমার প্রদেয় সব কর আমি শোধ করেছি। যেসব অর্থ বিদেশে ব্যয় করেছি, সেসবের করও আমি দিয়েছি।’ অমিতাভের পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রাইয়ের গণমাধ্যম উপদেষ্টা রাইয়ের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এদিকে, এই কেলেঙ্কারিতে যেসব ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের অনেকেই নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের তিন সহযোগীর নাম উঠে এলে সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ আসে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে। আর ক্রেমলিনের মুখপাত্র এই কেলেঙ্কারিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ‘আসলে এর মাধ্যমে রাশিয়ায় একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য।’

বাংলাদেশ : বাংলাদেশের বেশকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে পানামা পেপারসে। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে তাদের কারো কারো নামও প্রকাশ হয়েছে। সরকার এদের সম্পর্কে তদন্ত করছে বলে বলা হলেও সবই আইওয়াশ ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পানামা পেপারস-এ বাংলাদেশীদের নাম প্রকাশিত হবার পরে দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নানা উদ্যোগের কথা বললেও বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতিই নেই। বিষয়টি যে ধীরে ধীরে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে, তাও বোঝা যাচ্ছে। অথচ পানামা পেপারস-এর তথ্য প্রকাশের পরেই দুদক বলেছিল, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশী কেউ দুর্নীতিতে জড়িত কিনা- তা খতিয়ে দেখতে দুদকের উপপরিচালক এসএম আখতার হামিদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয় এবং শিগগিরই এ টিম কাজ শুরু করবে বলেও বলা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগিরই পানামার কাছে তথ্য চাইবে বিএফআইইউ। একইসঙ্গে সংশি¬ষ্ট ওয়েবসাইট থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব সংগ্রহ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষপর্যায়ের এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু আদৌ এর কোনো অগ্রগতি হয়েছে কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, এনবিআরের অন্যতম কাজ দেশে-বিদেশে যেখানেই হোক বাংলাদেশীরা যদি ট্যাক্স ফাঁকি দেয় বা অর্থ পাচার করে তা যথা নিয়মে তদন্ত করা। আমরা বিষয়টি দেখব। রিপোর্টের গুরুত্ব বিচার করে যাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নেব। এর আগে দেশ থেকে অবৈধভাবে সুইস ব্যাংক ও অন্যান্য স্থানে মুদ্রা পাচার হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে রাজস্ব বোর্ড তদন্ত করছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু সব কিছুই যেন ধামাচাপা পড়ে গেছে।

সম্ভাব্য কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারে বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ ঘটনাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ‘প্রকট দুর্নীতি-সহায়ক পরিস্থিতির দৃষ্টান্ত’ উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত এবং আইনি  প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক ও সংস্থাটি। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রকাশিত তালিকায় যেসব বাংলাদেশির নাম উল্লেখ আছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তবে সম্প্রতি  বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে উদ্বেগজনক হারে টাকা পাচারের প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের উদ্যোগে এসব টাকা ফিরিয়ে আনা এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের বাইরে নামে-বেনামে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ পাচারের মূল লক্ষ্য কর ফাঁকি। যার মূল্য জনগণকেই দিতে হয়। সরকারের উচিত এসব কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার বন্ধ করা।

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, পানামা পেপারসে প্রকাশিত তথ্য আংশিক। মোসাক ফনসেকার মতো আরও অনেক তথাকথিত আইন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আছে। তাছাড়া এ দুষ্ট চক্রের সঙ্গে জড়িত বিশ্বের নামি-দামি  ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টিং কোম্পানিসহ অসংখ্য মধ্যস্থতাকারী। তাই দেশীয় আইনি কাঠামো জোরদার ও কার্যকর করার মাধ্যমে অর্থ পাচার প্রতিরোধে সুদৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ ও অন্যদিকে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।