Home » অর্থনীতি » দায়হীন বাড়তি চাপের বাজেট

দায়হীন বাড়তি চাপের বাজেট

আনু মুহাম্মদ ::

গত ২ জুন অর্থমন্ত্রী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের যে বাজেট ঘোষণা করেছেন তার মোট আকার ৩ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। খেয়াল করবার বিষয় যে, এই বাজেটে ব্যয়ের মধ্যে আছে আগের ঋণের সুদ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, আর আয়ের মধ্যে আছে নতুন কর ৫৩ হাজার কোটি টাকা, এবং ঋণ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

‘স্বপ্ন অনেক বড় কিন্তু সামর্থ্য কম’, ‘বাজেট ভালো/উচ্চাভিলাষী কিন্তু বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’, এগুলোই এখন বাজেট বিষযক আলোচনার মূল সুর। এগুলো ফাঁকিবাজী কথা। কী স্বপ্ন আর কী উচ্চাভিলাষ, তার বাস্তবায়ন মানে কী এসব আলোচনায় এগুলোর অনুসন্ধান খুব কমই পাওয়া যায়। সমস্যা বেশি অর্থনীতিবিদদের নিয়ে, যারা পরিসংখ্যানের ঘোরের মধ্যে নিজেরা আটকে থাকেন, অন্যদেরও থাকার আবহাওয়া তৈরি করেন। বরাদ্দের পরিমাণ নিয়েই তারা শোরগোল করেন, এই বরাদ্দের গুণগত দিক নিয়ে তাদের মাথাব্যথা কম। জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে তাদের হৈচৈ, এটাই তাদের কাছে স্বপ্ন বা উচ্চাভিলাষ, কী কাজ করে কীসের বিনিময়ে এই প্রবৃদ্ধির অংক তৈরি হচ্ছে তার কোন পর্যালোচনা নেই। ঋণ এবং করবৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার জনগণের ওপর নতুন নতুন বোঝা চাপাচ্ছে, লক্ষ কোটি টাকার গল্প দিয়ে তার ওপর ঢাকনা দিচ্ছে। কিন্তু সরকারের কাছে জনগণের পাওনা কতটুকু পরিশোধ করছে সরকার তার পর্যালোচনা খুঁজে পাওয়া কঠিন। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর একটি মুখস্ত কথা বারবার বলা হয়, কিন্তু সেই কর দিয়ে জনগণের কাজ কতটুকু হয় সেটা আলোচনায় আসে না। প্রকৃতপক্ষে এখন দরকার সার্ভিস-ট্যাক্স অনুপাত বের করা অর্থাৎ জনগণ কতো কর দিচ্ছেন আর তার বিনিময়ে কী পাচ্ছেন- সেই হিসাব দরকার। বলাইবাহুল্য তার চিত্র খুবই খারাপ।

এই কথা তো ভুললে চলবে না যে, আগামী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য মোট যে বরাদ্দ ধরা হয়েছে তার সমপরিমাণ অর্থ লক্ষাধিক কোটি টাকা বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে খেলাফী আকারে হাওয়া হয়ে গেছে, এর অর্ধেক এখন আর হিসাবেই নেই। বছরে এর চাইতে বেশি পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। ব্যাংকগুলোতে জনগণের জামানত এখন কতিপয় দস্যুর পকেট। বাংলাদেশ ব্যাংকও এর বাইরে নয়। প্রকল্প ব্যয় যে অবিশ্বাস্য মাত্রায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তা অদক্ষতার কারণে নয়, খুবই দক্ষ চৌর্যবৃত্তি বা ডাকাতির কৌশল এগুলো। এদের সুবিধা বাড়ানোর জন্যই ঋণ আর করের বোঝা বাড়ে। মেগা প্রকল্প নিয়ে উচ্ছাস তৈরি করা হচ্ছে, যেনো এগুলোর বাস্তবায়নই একমাত্র আরাধ্য, বাংলাদেশের জনগণের সমৃদ্ধির পথ। অথচ এইসব মেগা প্রকল্প যে উন্নয়নের নামে জনগণ ও দেশের জন্য এক ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে তা হাজারবার বলেও অনেক বিশেষজ্ঞ নামের ব্যক্তির মাথায় ঢোকানো যায় না। এর কারণ তাদের নির্বুদ্ধিতা নয়, তারা অনেকেই এসবের সুবিধাভোগীও বটে।

এরকম আলোচনায় এই সত্যটি আড়াল হয় যে, শুধু জিডিপির প্রবৃদ্ধির হিসাব দিয়ে প্রকৃত উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনের গুণগত মান পরিমাপ করা যায় না। জোসেফ স্টিগলিজ অমর্ত্য সেনসহ অনেক অর্থনীতিবিদও বলেছেন, তাছাড়া এটি কান্ডজ্ঞানের বিষয় যে, প্রবৃদ্ধিই শেষ কথা নয়, কী কাজ করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি নষ্ট করে ইটখোলা বা চিংড়ি ঘের, জলাভূমি ভরাট করে বহুতল ভবন, নদী দখল করে বাণিজ্য, পাহাড় উজাড় করে ফার্ণিচার, শিক্ষা ও চিকিৎসাকে ক্রমান্বয়ে আরও বেশি বেশি বাণিজ্যিকীকরণ, গ্যাস বিদ্যুতের অযৌক্তিক দামবৃদ্ধি, সুন্দরবনবিনাশী এবং দেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলে ও ঋণগ্রস্ত করে রূপপুর বা বাঁশখালী দেশধ্বংসী প্রকল্পসহ বড় বড় প্রকল্প এর সবই জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এগুলো জনগণের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করে। এগুলো আবার চোরাই টাকার আয়তনও বাড়ায়। দখলদারী অর্থনীতি, আতংকের সমাজ, আর সন্ত্রাসের রাজনীতি সবই পুষ্ট হয় উন্নয়নের এই ধারায়।

একই কারণে মাথাপিছু আয়ের গড় হিসাব দিয়ে শোরগোল তোলা যায়, কিন্তু তা সর্বজনের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে পারে না। বিশ্বে বাংলাদেশের চাইতেও দুর্বল অর্থনীতি আছে যাদের মাথাপিছু আয় তুলনায় অনেক বেশি। এরমধ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় নিম্ন মধ্যম আয়ের কাতারে নিয়ে গেছে দেশকে। গত কয়েকবছর ধরেই অনেকগুলো অনুকূল উপাদান অর্থনীতির পরিমাণগত বিকাশে সহায়তা করেছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকবছর ধরে জ্বালানী তেলের আন্তর্জাতিক দাম কম থাকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অন্যতম। রফতানি প্রবৃদ্ধি ভালো ছিলো, প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি শতকরা ১০ ভাগের ওপরে ছিলো। প্রবাসী আয় প্রবাহ অব্যাহত থাকায় এখন বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। কৃষিজমি কমলেও উৎপাদন বেড়েছে। এসব অনুকূল শর্তের সুবিধা জনগণ কতোটা পেয়েছেন এবং সামনের অর্থবছরে পাবেন সেটাই এক বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যাদের শ্রমে দাঁড়িয়ে আছে তাঁরা হলেন প্রধানত, কৃষক ও কৃষি শ্রমিক, গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন কারখানা ও অশিল্প শ্রমিক এবং প্রায় ৮০ লক্ষাধিক প্রবাসী শ্রমিক। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যাদের অবদান অর্থনীতিতে বেশি তারাই রাষ্ট্রের অমনোযোগ ও বৈরিতার শিকার। অর্থমন্ত্রী বাজেটের আগে বিভিন্ন সংলাপে বসেন, কিন্তু এসব জনগোষ্ঠীর সাথে কখনোই নয়। কৃষকেরা বিশাল উৎপাদন করেও দাম অনিশ্চয়তায় দিশাহীন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রায়ই দেখা যায় বকেয়া মজুরির জন্য রাস্তায় নামতে, রানা প্লাজা ধ্বসের তিনবছর পরও নিহত আহত শ্রমিকদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও কর্মসংস্থানের নিষ্পত্তি হয়নি। আর প্রবাসী শ্রমিক?  হিসাবে দেখা যায়, গত ১৫ বছরে প্রায় ২৫ হাজার লাশ এসেছে দেশে। আর এখন প্রবাসী শ্রমিক হবার পথে গিয়ে সমুদ্রে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন অনেকে। দাসশ্রমের জাল কাজ করছে, জিডিপি বাড়ছে। অর্থনীতির ঐশ্বর্য বেড়েছে কিন্তু এখনও জাতীয় ন্যুনতম মজুরির অভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন প্রকৃত অর্থে কঠিন অনিশ্চয়তা ও দারিদ্রের মধ্যে আটকে আছে। বাজেটে কর্পোরেট কর কমানো হয়েছে, কিন্তু জাতীয় ন্যুনতম মজুরি বিষয়ে কোনো কথা নেই।

শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায় গ্রহণে অস্বীকৃতির কারণে বাণিজ্যিক তৎপরতার বিস্তার ঘটেছে ব্যাপক মাত্রায়। মুনাফার করাল গ্রাসে দুটো খাতই সর্বজনের আওতার বাইরে, ব্যয়বহুল এবং মানও নিম্নমুখি। দেশের জিডিপির বৃদ্ধিসহ সম্পদের বৃদ্ধি সত্ত্বেও শিক্ষাখাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে ১৬১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৫৫তম, স্বাস্থ্য খাতে  ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯তম। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সবার নীচে। গত দেড় দশকে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। অথচ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও অনেকের সাথে বাংলাদেশের অঙ্গীকার কমপক্ষে শতকরা ৬ ভাগ। ১০ বছর আগে যেখানে বাজেটের শতকরা ১৫.৯ ভাগ ছিলো সর্বশেষ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ১১.৬ ভাগ। অথচ শিক্ষকদের ন্যূনতম বেতন প্রাপ্তির অধিকার অর্জনের জন্য বছরের পর বছর আন্দোলন করতে হচ্ছে। এবছর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে বেতনবৃদ্ধির কারণে, তাও শতকরা ২.৫ ভাগ। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এখনও শতকরা ১ ভাগ। অথচ আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী যথাক্রমে এর ৩ গুণ ও ৬ গুণ বাড়ানোর কথা। যদি এর কমও বাড়তো তাহলে শিক্ষকদের না খেয়ে পথে বসে আন্দোলন করতে হতো না, কাজের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে পুলিশের হামলায় নার্সদের রক্তাক্ত হতে হতো না।

সর্বজনের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশুদ্ধ পানি, পরিবেশ সম্মত জ্বালানী ও নিরবচ্ছিন্ন সুলভ বিদ্যুৎ প্রাপ্তির জন্য জাতীয় সক্ষমতার বিকাশে প্রযোজনীয় অর্থ না থাকলেও অন্য অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক মাত্রায় ব্যয়বৃদ্ধিতে বরাদ্দের কোনো অভাব হচ্ছে না। এই বছরে অনেকগুলো বৃহৎ প্রকল্প বরাদ্দ আরও বৃহৎ হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনা স্পষ্ট হয়েছে যে, মজুরি ও নির্মাণসামগ্রীর দাম বিশ্বে সবচাইতে নীচের দিকে থাকা সত্ত্বেও  বাংলাদেশে সেতু ও সড়ক নির্মাণে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক। সরকারের খুবই আগ্রহের ফ্লাইওভার নির্মাণেও একই চিত্র। ভারত, চীন, মালয়েশিয়াতে ফ্লাইওভারে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় যেখানে ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকা, বাংলাদেশে সেখানে তা ১৩০ থেকে ৩১৬ কোটি টাকা। গত একবছরে পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্পে ব্যয়বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। এগুলোই স্বপ্নের মেগা প্রকল্প!

চলতি অর্থবছরে অর্থকরী খাতে নৈরাজ্য, দুর্নীতি, অর্থ পাচার অভাবিত মাত্রা নিয়েছে। বাজেটে এই বিষয়ে কথা নেই যে, লুটেরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার কী যুক্তিতে জনগণের টাকা থেকে ব্যাংকগুলোর তহবিল যোগান দিচ্ছে? শেয়ারবাজার, বেসিক ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ইত্যাদিতে অপরাধীদের যথাযথভাবে সনাক্ত করবার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণেই অচিন্তনীয় দস্যুবৃত্তির ঘটনা ঘটে বাংলাদেশ ব্যাংকে। দেশি বিদেশি দুর্বত্তরা জাল বিছিয়ে বাংলাদেশকে কীভাবে অরক্ষিত করে ফেলেছে তার সাক্ষাৎ প্রমাণ বাংলাদেশ ব্যাংক ফুটা করে অর্থপাচার। একটি দেশের অর্থনীতির কেন্দ্র হিসাবে যে প্রতিষ্ঠান সবচাইতে সুরক্ষিত থাকবার কথা সেটি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে যে ফুটা তৈরি করা হয়েছে তার খবর ফিলিপাইনের পত্রিকায় বের না হলে বাংলাদেশের মানুষ আদৌ জানতেন কিনা সন্দেহ আছে। ফিলিপাইনের পত্রিকায় এই খবর প্রকাশেরও অনেক পরে সরকারের উদ্বেগ দেখা যায়। ঘটনার প্রায় দেড়মাস পরে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এ থেকে এই প্রশ্নটিও তৈরি হয়েছে যে, আগেও আরও ঘটনা গোপন করা হয়েছে কীনা। তারও ইঙ্গিত পাওয়া যায় সোনালী ব্যাংকের এরকম একটি ধামাচাপা দেয়া ঘটনা উন্মোচিত হওয়ায়।

বৃহৎ প্রকল্পে ব্যয়ের লাগামহীন বৃদ্ধি, আর্থিক খাত থেকে অভাবনীয় মাত্রায় লুন্ঠন ও পাচার অব্যাহত থাকার কারণেই সরকারকে আরও বেশি বেশি আয়ের উৎস খুঁজতে হচ্ছে। যেহেতু চোরাই কোটিপতিদের থেকে কর আদায়ে সরকার অনিচ্ছুক সেহেতু সহজ পথ জনগণের ঘাড়ে বোঝা চাপানো। সেজন্যই জ্বালানী তেলের দাম কমানো হয়নি, সেজন্যই ভ্যাট অস্ত্র প্রয়োগ করা হচ্ছে বিস্তৃত ভাবে। সে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমলেও সামনের বছরে বাংলাদেশের মানুষকে ঘরভাড়া, গাড়িভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বেশি দিতে হবে। জিনিষপত্র  কিনতে হবে আরও বেশি দামে। মোবাইলসহ সকল নিত্যব্যবহার্য পণ্যেই মানুষকে বাড়তি টাকা গুণতে হবে। ঋণ ও করবৃদ্ধি পেলেও জনগণের নিরাপত্তাহীনতা কমবে না বরং তার ওপর উন্নয়নের নামে সন্ত্রাস বাড়বে। সরকার কোনো ব্যাখ্যা দেবে না। কারণ জনগণের কাছে তার কোনো দায় নেই। আলোচনাও তেমন হবে না, কেননা স্তুতিগান ছাড়া বর্তমান সংসদেরও আর কোনো ভূমিকা নেই।