Home » আন্তর্জাতিক » উগ্র-জাতীয়তাবাদী উত্থানের দ্বারপ্রান্তে ইউরোপ!

উগ্র-জাতীয়তাবাদী উত্থানের দ্বারপ্রান্তে ইউরোপ!

আসিফ হাসান ::

বেক্সিট ছিল প্রথম অভ্যুত্থান। তারপর দ্বিতীয়টি। সেটা হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া;  এবার তৃতীয়টি। সেটা হবে ইউরোপে। সেটা কী? উগ্রপন্থীদের ইউরোপের দেশে দেশে ক্ষমতা গ্রহণ। এমনটাই ধারণা ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ম্যারিঁ লে পেনের। তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন ও ব্রিটিশ ভোটারদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে ‘জেগে ওঠার’ ডাকও দিয়েছেন।

সম্প্রতি ইউরোপের উগ্রপন্থী নেতৃস্থানীয়রা সমবেত হয়েছিলেন জার্মানিতে। বর্তমান জমানায় এসে এ ধরনের সমাবেশ নজিরবিহীন। সেখানেই লে পেন হুংকার দেন, ‘বেক্সিট ইউরোপজুড়ে অপ্রতিরোধ্য প্লাবন সৃষ্টি করেছে। বেক্সিটের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় ছিল ‘দ্বিতীয় অভ্যুত্থান।’

উপস্থিত কয়েক শ’ ব্যক্তির উপস্থিতিতে তিনি বলেন, ‘ইউরোপ প্রশ্নে তার অবস্থান স্পষ্ট। জনগণের জন্য ক্ষতিকর কোনো ব্যবস্থা তিনি সমর্থন করেন না।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১৬ সাল ছিল অ্যাংলো-স্যাক্সন বিশ্বের জাগরণের বছর। আমি নিশ্চিত, ২০১৭ সালে মহাদেশীয় ইউরোপ জেগে ওঠবে।’

জার্মানির মধ্যাঞ্চল কোবলেনজে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজক ছিল জার্মানির অলটারনেটিভ ফার ডচেসল্যান্ড (এএফডি) পার্টি। সভার শ্লোগান ছিল ‘ইউরোপের স্বাধীনতা।’

লে পেন অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের উদ্বাস্তুনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে, এই নীতির কারণেই বিপর্যয় নেমে এসেছে। তিনি বলেন, জার্মান জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশটিতে লাখ লাখ উদ্বাস্তু ঢুকিয়েছেন মেরকেল। সভায় ইউরোপের লোকরঞ্জক দলগুলো অংশ নেয়। বিশেষ করে লে পেনের ফ্রন্ট ন্যাশনাল, এএফডি, ইতালির নর্দার্ন লীগ, নেদারল্যান্ডসের ফ্রিডম পার্টি।

চলতি বছর ইউরোপের রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডে উগ্র ডানপন্থীদের বিপুল জয় হতে পারে। তারা সত্যি সত্যি মনে করছে- বেক্সিট ও ট্রাম্প যখন বিজয় পেয়েছে, তখন তারাও জিতবে। গির্ট উইল্ডার্স, ফ্রাক পেত্রি ও মেরিঁ পেন- সবাই অভিন্নভাবে মনে করেন, জনগণ চায়- আরো নিয়ন্ত্রণ, সীমান্ত, বাজেট আর ব্রাসেলস নিয়ে আরো কড়াকড়ি।

এ দিকে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, লোকরঞ্জক দলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

ডাচ ফ্রিডম পার্টির (পিভিভি) প্রধান উইল্ডার্স প্রায় সব জরিপেই এগিয়ে আছেন। চলতি মাসের নির্বাচনে তার দল বেশ ভালো করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর পেত্রির অভিবাসনবিরোধী আলটারনেটিভ ফর জার্মানি পার্টি (এএফডি) সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে মেরকেলকে ধরাশায়ী করতে পারেন। পেত্রি মনে করেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইউ) কোনোই ভবিষ্যত নেই। লে পেনও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ফ্রান্সকে বের করে নিতে গণভোট তথা ফেক্সিট আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হলে জনগণকে চারটি সার্বভৌমত্ব ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবেন। এই চারটি হলো : ভূখন্ডগত সার্বভৌমত্ব, অর্থের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং আইন পরিষদীয় সার্বভৌমত্ব। এসবের মাধ্যমেই তৃতীয় অভ্যুত্থান এগিয়ে যাবে বলে এই উগ্রপন্থীদের সবাই মনে করছেন।