Home » প্রচ্ছদ কথা » ‘ভারত চায় পরিপূর্ন প্রতিরক্ষা চুক্তি, বাংলাদেশ সমঝোতা স্মারক’- দ্য হিন্দুকে এইচ টি ইমাম

‘ভারত চায় পরিপূর্ন প্রতিরক্ষা চুক্তি, বাংলাদেশ সমঝোতা স্মারক’- দ্য হিন্দুকে এইচ টি ইমাম

আমাদের বুধবার প্রতিবেদন ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন দিল্লি সফর নিয়ে ব্যাপক অনেক ধরনের কথাবার্তা চলছে। বিশেষ করে পুরোমাত্রার প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হবে কিনা, হলেও তা কোন মাত্রায় হবে, এসব নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এমনই এক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বুধবার ঢাকায় জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার সফরকালে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রশ্নে একটি ‘নথি’তে সই হবে। ঢাকায় ভারতীয় একদল সাংবাদিকের কাছে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।

এইচ টি ইমামের বরাত দিয়ে ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার প্রতিনিধি সুহাসিনি হায়দার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে প্রতিরক্ষা চুক্তির ব্যাপারে এটাই বাংলাদেশের প্রথম সরকারি ভাষ্য। এইচ টি  ইমাম সাংবাদিকদের কাছে তিস্তা নিয়ে আলোচনায় চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

ভারতীয় সাংবাদিকদের এইচ টি ইমাম বলেন, ভারত পরিপূর্ন একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চাইছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে তেমন ধরনের কোনো  চুক্তি হবে না। ‘তবে সমঝোতা স্মারক ধরনের একটি নথিতে সই হবে। এটা হবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতামূলক নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক’।

দ্য হিন্দু পত্রিকায় বলা হয়েছে, যে সমঝোতা হবে তাতে বলা থাকবে, ‘ভারত বা বাংলাদেশের নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি হলে স্বাভাবিকভাবেই আমরা একে অন্যকে সাহায্য করবো।’ তবে যৌথ সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদন এতে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না- সে ব্যাপারে এইচ টি ইমাম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তাছাড়া সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে কতটুকু সম্পৃক্ততা থাকবে- সে ব্যাপারেও তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে এটুকু বলেছেন, ‘সহযোগিতার মধ্যে ‘তথ্য, পরামর্শ, সন্ত্রাসদমন প্রশ্নে অভিজ্ঞতা’ বিনিময়ের বিষয়গুলো থাকবে।

গত ডিসেম্বরে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকরের ঢাকা সফরের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়। এর মধ্যেই ভারতীয় সেনাপ্রধানের ঢাকা সফরের ফলে গুজবটির পালে জোর হাওয়া পায়।

‘বিপজ্জনক উদ্যোগ’ : পত্রিকায় বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিরোধী বিএনপির প্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জোরালোভাবে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছেন। তিনি অভিযোগ করছেন, এই চুক্তি করা হলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘ভারতের অংশবিশেষে’ পরিণত হবে। বিএনপি জানায়, ‘ভারতের সাথে যেকোনো ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্মাক সই করা হবে বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক উদ্যোগ। ভারত চায় ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশের কাছে তার সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র বিক্রি করতে।’

তবে বিএনপির এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন এইচ টি ইমাম।

এদিকে, বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি সংবাদপত্রগুলোও তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের কথা বলছে। ভারতীয় পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জন্য চুক্তিটি আটকে আছে।

এইচ টি ইমাম অবশ্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘ আমরা তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের উজান অঞ্চলে তথা চীনের দ্বারস্থ হতে পারি কি না তা আমরা ভাবছি। চীনকেও দৃশ্যপটে আনা উচিত। আমরা তাদের সাথেও কথা বলতে চাই।’ তিনি অবশ্য নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘এটা নিছকই তার ব্যক্তিগত অভিমত।’ বিষয়টা এখনো ভারতের কাছে উত্থাপিত হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন। তিনি স্বীকারও করেছেন, ভারতের ঐতিহ্যগত নীতি হলো সব বিষয় দ্বিপক্ষীয়ভাবে আলোচনা করা, ত্রিপক্ষীয় আকারে নয়।

মমতাকে সম্পৃক্ত করা : তিস্তা আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের সময় শেখ হাসিনা ও মমতা ব্যানার্জির মধ্যে একটি বৈঠক হতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হাসিনার রাষ্ট্রপতি ভবনে অবস্থান করাটা তাৎপর্যপূর্ণ। আমি জানি, ভারতের রাষ্ট্রপতির সাথে মমতার সম্পর্ক আন্তরিক।’ আর এ কারণেই সরকার আশাবাদী বলে জানান ইমাম।

ইস্যুটি নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তারা এখনো সতর্ক রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিস্তা ইস্যুটি ‘টেবিলে নেই।’ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘উভয় পক্ষের অনেক কিছু করার আছে।’ তিনি আরো জানান, ‘তিস্তা থাকুক বা না থাকুক, সফরটিই তাৎপর্যপূর্ণ।’

রেল প্রকল্প ও পরিবহন : হিন্দু পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত নতুন লাইন স্থাপনে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রস্তাব দিয়েছে। কোনো প্রতিবেশী দেশকে দেওয়া এটাই সবচেয়ে বড় প্রস্তাব। আগামী সপ্তাহে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরকালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মশিউর রহমান। মশিউর রহমান জানিয়েছেন, ঋণের সাথে কোনো সময়সীমা থাকবে না। এটা হবে ২০১০ সালের ১ বিলিয়ন ডলার, ২০১৫ সালে দেওয়া ২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবটির রেশ ধরে।