Home » আন্তর্জাতিক » হতাশার কাছে হার মানা খুব সহজ কাজ: নোয়াম চমস্কি

হতাশার কাছে হার মানা খুব সহজ কাজ: নোয়াম চমস্কি

আধুনিক সময়ের সেরা বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম নোয়াম চমস্কি ছয় দশক ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন। চমস্কির সাহসিকতা, দৃঢ়প্রত্যয় ও অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের ফলেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক জালিয়াতি, সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্যের গোমর ফাঁস হয়েছে। ভারতের ফ্রন্টলাইনে প্রকাশিত নোয়াম চমস্কির সাক্ষাতকারের দ্বিতীয় অংশ এখানে প্রকাশিত হলো।

প্রশ্ন : আপনি আর অ্যাডওয়ার্ড এস. হারম্যান ১৯৮৮ সালে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। এতে আপনারা জোরালোভাবে প্রমাণ করেছেন যে, কিভাবে গণমাধ্যম ক্ষমতাসীন শ্রেণির জন্য সম্মতি নির্মাণ করে। অবশ্য আপনার প্রকাশনার পর মিডিয়া জগতে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের ফলে খবর ও তথ্যে ঐতিহ্যবাহী একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই কমে গেছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো ‘স্বাধীনতার’ সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। মিডিয়ার দৃশ্যপটে পরিবর্তনকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

নোয়াম চমস্কি : বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৮ সালে। এতে দেখানো হয়, কিভাবে গণমাধ্যম ক্ষমতাসীন শ্রেণির জন্য সম্মতি নির্মাণ করে। আমরা ২০০২ সালে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ করি। ততদিনে ইন্টারনেট ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। কিন্তু আমরা পরিবর্তনের প্রয়োজন মনে করিনি। আমরা সম্প্রতি বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছি, তবে তেমন কোনো পরিবর্তনের গরজ অনুভব করিনি। অবশ্যই অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু মিডিয়ার কর্মসম্পাদন দক্ষতায় প্রভাব সৃষ্টিকারী প্রাতিষ্ঠানিক উপাদানগুলোতে মনে হচ্ছে- বাস্তবে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। মূলধারার মিডিয়া তাদের সব সুবিধা ও ত্রুটি সত্ত্বেও এখনো খবর ও তথ্যের প্রধান উৎস হিসেবে বহাল রয়েছে।

যারা উদ্যোগ নেয়, কেবল তাদের জন্যই ইন্টারনেট বিপুল মাত্রার উৎসে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে। গবেষণার জন্য এটি বেশ সহায়ক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিস্তৃত তথ্য ও অভিমত জানার সুযোগের ফলে ব্যাপক জ্ঞানার্জন ও উপলব্ধি সৃষ্টি করতে পারে- এমন ইঙ্গিত সামান্যই পাওয়া গেছে। স্বাধীনতার সম্ভাবনা অবশ্যই আছে। তবে তা থেকে সুবিধা গ্রহণও প্রয়োজনীয় বিষয়। তাছাড়া প্রায়ই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাপক বিস্তৃত সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার বদলে যা শুনতে আগ্রহী তাতেই সীমাবদ্ধ থাকার কৃত্রিম স্বস্তিদায়ক এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করাও সহজ মনে হয়।

প্রশ্ন : বেশ কয়েকটি ল্যাতিন আমেরিকান দেশে বাম শক্তিগুলো নির্বাচনী পরাজয় ও নানা ধরনের বিপর্যয়ে পড়েছে। ল্যাতিন আমেরিকায় বাম আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ার কারণেই এমনটা ঘটেছে? ল্যাতিন আমেরিকায় বামদের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে?

নোয়াম চমস্কি : দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে অনেক স্থায়ী অর্জনও আছে এবং আগের চেয়ে তা অনেক ভালোও। ইতিহাস অগ্রগতি ও প্রত্যাগতি লিপিবদ্ধ রাখে। তবে সাধারণ অগ্রগতি রয়েছে এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত পরিভাষাটি ধার করে বলতে পারি যে. ন্যায়বিচারের পথে চলতে ইতিহাসের বাঁক নির্মাণ করতে পারি আমরা। হতাশার কাছে হার মানা ও সবচেয়ে খারাপটি ঘটানোকে নিশ্চিত করতে সহায়তা করা খুব সহজ কাজ। বিচক্ষণতা ও সাহসের পথ হলো প্রাপ্য বিপুল সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে তাদের সাথে যোগ দেওয়া যারা আরো উন্নত দুনিয়া নির্মাণের জন্য কাজ করছে।

প্রশ্ন : পূর্বসূরিদের বিপরীতে গিয়ে পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বে প্রভাব ফেলছে এমন নানা আর্থ-সামাজিক ইস্যু নিয়ে অত্যন্ত প্রগতিমূলক অবস্থান গ্রহণ করে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। আমরা জানি যে. আপনি প্রকাশ্যে ঘোষিত নাস্তিক। পোপতন্ত্রের সাথে আপনার আদর্শগত পার্থক্য যাই হোক না কেন, পোপ ফ্রান্সিস সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী? আপনি কি আশা করেন, তার ব্যক্তিগত অবস্থান ক্যাথলিক চার্চের গোঁড়ামিতে পরিবর্তন আনবে?

নোয়াম চমস্কি  : অতীত নিয়ে আমি তেমন একমত নই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, পোপ ত্রয়োদশ জনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশংসনীয় রেকর্ড ছিল। পোপ ফ্রান্সিসও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রশংসনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। ফলে আমি মনে করি, চার্চের ওপর তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমি আশাবাদী।

(অসমাপ্ত)