Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 19)

শিল্প-সংস্কৃতি

চলচ্চিত্র পুনরুদ্ভবনের সাধক

ফ্লোরা সরকার

dizibrilলোকপ্রথা হলো ইমেজের প্রথা। লিখে কিছু বলার চেয়ে মুখে বলা কথা বেশি শক্তিশালী। শব্দ যায় কল্পনার দিকে, কানের দিকে নয়। কল্পনা সৃষ্টি করে ইমজেকে, আর ইমেজ সৃষ্টি করে ফিল্মকে। – – – প্রতিবার ছবি নির্মাণের সময় আমি চলচ্চিত্রকে নতুন করে উদ্ভাবন করি। ছবি নির্মাণের সময় আমি এই পুনরুদ্ভবনকে অনুভব করার চেষ্টা করি এবং চেষ্টাটা যথেষ্ঠ কষ্টসাপেক্ষ বিষয়, তবু করি” এভাবেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নানান কথার মধ্যে দিয়ে সেনেগালের চলচ্চিত্রকার দিজিব্রিল দিয়প ম্যামবেতি তার ছবি নির্মাণের উদ্দেশ্য, আগ্রহ, মতাদর্শের কথা জানিয়েছিলেন। তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত আলোচনা করার আগে জেনে নেয়া যাক সেনেগালের চলচ্চিত্রের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং সেই ইতিহাসের সঙ্গে ম্যামবেতির বেড়ে ওঠারও ইতিহাস। বিস্তারিত »

৬০ দশক – রাষ্ট্র, রাজনীতি ও মানুষ (পর্ব – ৭)

বৈষম্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতি রাজনীতির নানা স্রোত

আনু মুহাম্মদ

60'sপাকিস্তানের ভেতর অসম উন্নয়ন গতি এবং বিশেষভাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি ও কর্মসূচিই ৬০ দশকে বাংলাদেশের রাজনীতির ভাব ও ভাষা নির্ধারণে মূল ভূমিকা পালন করে। ৬০ দশকের প্রথমদিকেই রেহমান সোবহান দুই অর্থনীতির তত্ত্ব দেন, পরে আখলাকুর রহমান এমনকি এম এন হুদাও এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন যা থেকে ক্রমে এই আঞ্চলিক বৈষম্য সম্পর্কিত ধারণা একটি স্পষ্ট রূপ নেয়। তবে অর্থনৈতিক বৈষম্য ও বঞ্চনাকে কেন্দ্র করে হলেও দেশজুড়ে প্রতিবাদী চেতনা যে একটা জাতীয়তাবাদী রূপ নিতে থাকে তার কারণ শুধু এতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আরও অন্তত দুটি বিষয় এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিস্তারিত »

দুই আমেরিকান পরিবারের কথা – দুরাবস্থার প্রামাণ্যচিত্র

ওয়েবসাইট অবলম্বনে

two-american-familiesসম্প্রতি আমেরিকান একটি চ্যানেলে ‘টু আমেরিকান ফ্যামিলিস’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। অনেকের মতে এটি চলতি বছরের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক এবং একইসঙ্গে সেরা প্রামাণ্যচিত্র। এটা মানব ইতিহাসের একটি কঠোর বাস্তবতা কিংবা না বলা কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। আমেরিকার শ্রমজীবী পরিবারগুলোর নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া প্রামাণ্যচিত্র এটা। তাদের দুরাবস্থা এত শোচনীয় পর্যায়ে চলে যায় যে অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় ফেরার আশাও শেষ হয়ে যায়। একটু স্বস্তির আশায় ছুটতে ছুটতে প্রতিনিয়ত আরো জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। সুখ সোনার হরিণই থেকে যায়। কল্পনা কখনো বাস্তব হয়ে ধরা দেয় না। হাত বাড়ালেই এ ধরনের জীবনের সন্ধান পাওয়া যায়, অথচ এগুলোই থাকে সবার অগোচরে। নির্মাতা সেই কঠোর সত্যই তুলে ধরেছেন সাবলীলভাবে। বিস্তারিত »

বিভেদ বিদ্বেষ অনৈক্য আর সংঘাতপীড়িত একটি দেশের কাহিনী

ফ্লোরা সরকার

hotel-rwandaজাতিগত বিদ্বেষের ইতিহাসের শিকড়ের গভীরে থাকে ঔপনিবেশিক শাসনের রাজনীতি কুটনীতি। অন্তত রুয়ান্ডার ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। “হোটেল রুয়ান্ডা” ছবির প্রত্যেকটা মুহূর্ত্ত তাই দর্শক এক স্থির অচঞ্চল উত্তেজনা থেকে রেহাই পায়না। স্তব্ধ দৃষ্টিতে ছবির পর্দায় একের পর এক জাতি বিদ্বেষের নৃশংসতা দেখে দর্শক বিস্ময়ে হতবাক হতে থাকেন। হোটেলের লবিতে বসে জাতিসংঘ থেকে আগত সাংবাদিক যখন রুয়ান্ডার সাংবাদিক বেনেডিক্টের কাছে হুতু তুতসি দুই জাতির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য জানতে চান, তখন বেনেডিক্ট মাত্র কয়েটি সংলাপে এর উত্তর দিয়ে দেন। বেনেডিক্ট বলেন “বেলজিয়ান কলোনির মতে তুতসিরা লম্বা, সুরুচিপূর্ণ। এই বেলজিয়ানরাই মূলত এই পার্থক্য তৈরি করেছে”। সাংবাদিকের প্রশ্ন “কীভাবে”? বেনেডিক্টের উত্তর “আমাদের ভেতর থেকে তারা সেসব মানুষদের তুলে নিত, যাদের নাক সরু, গাত্র বর্ণ কিছুটা উজ্জ্বল। বিস্তারিত »

বিস্টস অব দ্য সাউদার্ন ওয়াইল্ড

তারুণ্য আর মেধার অপূর্ব সমন্বয়

আদর রহমান

beasts-of-the-southern-wildবড় বাজেট, ধুন্ধুমার অ্যাকশন, বিরাট স্টার কাস্ট, কিংবদন্তি নির্মাতা কিংবা জটিল পলিটিক্যাল ড্রামা ঘারানার গল্প কিছুই ছিল না এ ছবিতে। তবুও বছর শেষে দেখা গেল বাঘা বাঘা নির্মাতাদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে নবীন পরিচালক বেন জেটলিনের ‘বিস্টস অব দ্য সাউদার্ন ওয়াইল্ড’ ছবিটি। তেমন বিশেষ কিছুই না থাকলেও এ ছবিতে ছিল কাঁচা হাতের কিছু দৃষ্টিনন্দন নৈপুন্যযা মুগ্ধ করেছে সবাইকে। ব্যবসায়িক পরিভাষায়, লিংকন, আর্গো, লাইফ অব পাই কিংবা সিলভার লাইনিংস প্লেবুকের মতো আর্থিক সাফল্য অর্জন করতে পারেনি ছবিটি। কিন্তু বাজেটের হিসেবে এ ছবির আয় দেখলে বোঝা যায়, এটা সাফল্য পেয়েছে নিঃসন্দেহে। আর্থিক সাফল্যের দিকটা বিবেচনায় পরে আনলে বিস্টস অব দ্য সাউদার্ন ওয়াইল্ডের মতো সফলতা গেল বছর পায়নি কোনো ছবিই। কিন্তু কিভাবে? এসব জানার আগে জেনে নেয়া যাক এ ছবির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো। বিস্তারিত »

নির্ঘুম টাকার গল্প

ফ্লোরা সরকার

wall-streetপুঁজিবাদী অর্থনীতির শেয়ার বাজারের নির্ঘুম টাকার গল্প নিয়ে ওয়ালস্ট্রিট ছবিটি নির্মিত। টাকার এই অমিতশক্তির গল্পের শুরু বেশ আগে থেকে হলেও ১৯২৯৩০ এর দশকে মহামন্দার সময়ে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ লর্ড জে.এম.কেইনস এর হাত ধরে তার বিখ্যাত সুদ তত্ত্ব “স্পেকুলেটিভ ডিম্যান্ড ফর মানি” বা “ফাটকাকারবারীর উদ্দেশ্যে টাকার চাহিদা” জনিত সুদ তত্ত্বের মাধ্যমে তা আরও পূর্ণতা পায়। যে তত্ত্বের সার কথা হলো­­-মানুষের কাছে তার অর্থের চাহিদা শুধু লেনদেন আর সাবধানতার ওপরেই নির্ভর করে না।অর্থের চাহিদা ফাটকাকারবারের উদ্দেশ্যে বন্ডের দাম বা সুদের হারের পরিবর্তনের প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করে। ক্ল্যাসিকাল পন্ডিতেরা যেমন ফিশার এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদেরা অনিশ্চয়তার ওপর কোন গুরুত্ব দেননি বলে তারা শুধুমাত্র লেনদেন আর সাবধানতার উদ্দেশ্যে অর্থের চাহিদার কথাই বলে গেছেন। বিস্তারিত »

ষাট দশকের বাংলা চলচ্চিত্র – (শেষ পর্ব)

ফ্লোরা সরকার

movie-of-60sফরাসি কবি,সাহিত্যিক এবং সমালোচক সাঁৎ বভ্ (১৮০৪১৮৬৯) ক্লাসিক সাহিত্যের অসাধারণ একটি সংজ্ঞা দিয়েছেন – “ক্লাসিক লেখক হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি মানুষের আত্মাকে সমৃদ্ধ করেছেন। যিনি মানবতাকে উপহার দিয়েছেন নতুন দৃপ্ত পদক্ষেপ, দিয়েছেন দ্বিধাহীন নৈতিক সত্যের নিশ্চিত সন্ধান, যিনি তার চিন্তাধারাকে, তার জীবনবোধকে, তার আবিষ্কৃত সত্যকে তুলে ধরেছেন ব্যাপ্ত উদারতায়। প্রতিটি যুগের মানুষের কাছেই তিনি সমকালীন এবং সমাদৃত”। শুধু তাই না ক্লাসিকের ধারণার সঙ্গে মানুষের রুচিবোধের অবশ্যম্ভাবী সম্পর্কের উপরেও তিনি জোর দিয়েছেন এবং রুচির মানদণ্ডকে নতুন করে যুগে যুগে প্রতিষ্ঠার কথাও ব্যক্ত করেছেন। বিস্তারিত »