Home » শিল্প-সংস্কৃতি (page 22)

শিল্প-সংস্কৃতি

গল্পকারের গল্প – জঁ ক্লোদ কাগিয়ে

ফ্লোরা সরকার

film 111ছায়াছবি নির্মাণের শুরুতে প্রথম যে কাজটি করা হয় তা হলো একটি ভালো চিত্রনাট্য বাছাই করা। একটি ছবি তা যত চমৎকার হোক তার ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে চিত্রনাট্যের ওপর। চিত্রনাট্য দাঁড়িয়ে থাকে গল্পের ওপর। দৃশ্যের পর দৃশ্য বা শটের পর শট গেঁথে তা যত নিপুণভাবে উপস্থাপন করা হোক না কেন তার গল্প যদি দর্শকহৃদয়কে স্পর্শ করতে না পারে তাহলে যে কোন ছবি ব্যর্থ হতে বাধ্য। সেই চিত্রনাট্য লেখার ক্ষেত্রে যাদের অবদান অনস্বীকার্য তাদের কথা আমরা প্রায়শই ভুলে যাই। কেননা সিনেমা যেহেতু দেখা এবং শোনার মাধ্যম ফলে ছবি দেখার সময় প্রথমত এবং প্রধানত তারকা এবং মাঝে মাঝে নির্মাতাদের দিকে আমাদের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত হয় বা থাকে। ছবির লিখিত রূপটা থাকে দৃষ্টির অন্তরালে। তাই আমরা আজ সেই গল্পকারদের গল্প উপস্থাপন করবো। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ছবির ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে। বিস্তারিত »

ইরাক যুদ্ধের ছবি – “ভ্যালি অফ দ্যা উলফস্”

ফ্লোরা সরকার

valley of the wolvesতুরস্কের ছোট একটা সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০০৬ সালে নির্মিত হয় সারদার আকার পরিচালিত “ভ্যালি অফ দ্যা উলফস্”। ছবিটি মুক্তির পর প্রচুর সমালোচার ঝড় ওঠে। সমালোচনা শুরু হয় শুধু ছবির বিষয়বস্তুর কারণেই নয়, ছবিটিকে ‘অ্যান্টিআমেরিকান’, অ্যান্টিসেমেটিক’ এমনকি ‘অ্যান্টিক্রিশ্চানিটি’ নামেও অভিহিত করা হয়। যে সময়টিতে এবং যে বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে ছবির কাহিনী আবর্তিত সেটা আমেরিকা কর্তৃক ইরাক দখলের ভরাকটালের সময় অতিবাহিত হচ্ছে। আবু গারিব কারাগারের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ সহ ইরাক যুদ্ধের সব ঘটনাদুর্ঘটনার খবরাখবর পত্রিকা,মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইতিমধ্যে পৃথিবীর সব প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে। তাছাড়া যে সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছবির কাহিনীর সূত্রপাত ছবির কাহিনী সেই কেন্দ্রকেও ছাপিয়ে যায়। বিস্তারিত »

আমেরিকার ধনী – আমেরিকার গরিব

ওয়েবসাইট অবলম্বনে

statue-of-liberty-2-বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশটিতে ধনী আর দরিদ্রের ব্যবধান বেড়েই চলেছে। ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে, গরিবরা হচ্ছে আরো গরিব। একদিকে, গরিবদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকারি সহায়তা কমছে, অন্যদিকে, ধনীদের কর কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অনাহারি ও গৃহহীন লোকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত খাদ্য ও গৃহহীনতাবিষয়ক মেয়রস টাস্ক ফোর্স সম্মেলনে। বোস্টন, শিকাগো, ক্লিভল্যান্ড, ডালাস, ডেনভার, লস অ্যাঞ্জেলস, মিনিয়াপলিস, ন্যাশভিল, ফিলাডেলফিয়া, ফোনিক্স, সল্ট লেক সিটি, স্যান অ্যান্টোনিও, স্যান ফ্রানসিসকো ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ২৫টি প্রধান নগরীতে ইমার্জেন্সি ফুড সার্ভিসেসের সহযোগিতায় ২০১১ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত জরিপের উপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। বিস্তারিত »

পুঁজিবাদের একটি ভুতুরে গল্প – ৩

মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক

অরুন্ধতী রায়

অনুবাদ: মোহাম্মদ হাসান শরীফ

arundhati-1এই রচনাকে কেউ কেউ কঠোর সমালোচনা বিবেচনা করতে পারেন। অন্য দিকে কারো বিরূপতাকে সম্মান দেখানোর ঐতিহ্যে এটাকে পাঠ করা হতে পারে পুঁজিবাদের জন্য দুনিয়াকে নিরাপদ রাখতে নিবেদিত রূপকল্প, নমনীয়তা, মার্জিতবোধ এবং দ্বিধাহীন প্রত্যয়ী লোকদের কৃতজ্ঞতাস্বীকার হিসেবে। বিস্তারিত »

ভেনেজুয়েলার চলচ্চিত্র

বিধান রিবেরু

filmবিভিন্ন সময়ে আমেরিকার চলচ্চিত্র বিশ্বের নানা চলচ্চিত্র কারখানাকে প্রভাবিত করেছে। সেই প্রভাব থেকে ইউরোপ গা ঝাড়া দিয়ে বেরিয়েছে, ইরানও হলিউডি চলচ্চিত্রের লেজ ধরে থাকেনি। আর সবচে হুঙ্কার দিয়ে হলিউডের পথ ছেড়ে উল্টোপথে হেঁটেছে লাতিন আমেরকিার চলচ্চিত্র। ভারতীয় লেখক ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী বলেন, “বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ল্যাটিন আমেরিকার চলচ্চিত্রে বিশেষ আগ্রহ দেখা গেছে হলিউডের নেতিমূলক ধ্যানধারণার সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী ছবি নির্মাণে।” সেসময়কার লাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্রকারদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষবাদী দর্শন আক্রান্ত, এমনটাই দাবী চক্রবর্তীর। তাই তাঁদের ক্যামেরা বাস্তব ঘটনা, সত্যকে তুলে ধরতে সদা সচেষ্ট। তবে চল্লিশ পঞ্চাশের দশকে চোরাস্রোতে প্রবেশ করে হলিউডি প্রভাব। প্রতিকূলের নৌকা বাওয়া বন্ধ হয়ে অনেকটাই হলিউডি কায়দায় ছবি হতে থাকে লাতিন আমেরিকায়। তার মানে এই নয় বাকি সময়টা আর মুক্তি ঘটেনি লাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্রের। বিস্তারিত »

“স্বৈরশাসক” সেই সময় – এই সময়

ফ্লোরা সরকার

film_dictator-1-চার্লি চ্যাপলিনের “দ্য গ্রেট ডিক্টেটর” ছবির শেষ অংশে চ্যাপলিন একজন স্বৈরশাসক নয় প্রকৃত একজন শাসকের মনোমুগ্ধকর দীর্ঘ একটি ভাষণ দিয়ে ছবির সমাপ্তি করেন। তার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো – “ আমি খুব দুঃখিত, আমি সম্রাট হতে চাই না। সেটা আমার কাজ না —- আমি সবাইকে সহায়তা করতে চাই ইহুদি, সকল গেষ্ঠি বা জাতি, কালো, সাদা। আমরা সবাইকে সহায়তা করতে চাই। আর সেটাই প্রকৃত মানুষের কাজ। আমরা সকলের সঙ্গে আনন্দে থাকতে চাই, দুর্দশাগ্রস্থ হয়ে নয়। এই পৃথিবী সকলের। মানুষে জীবন সৌন্দর্যমন্ডিত এবং মুক্তস্বাধীন, কিন্তু আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। লোভ মানুষের আত্মাকে বিষাক্ত করে ফেলেছে, আমরা বিদ্বেষ দ্বারা আবদ্ধ। —- আমাদের জ্ঞান আমাদের বিশ্বনিন্দুকে পরিণত করেছে, আমাদের ধুর্ততা করেছে কঠিন এবং রূঢ়। আমরা খুব বেশি ভাবি, অনুভব করি তার চেয়ে অনেক কম। চাতুরী নয়, প্রয়োজন পরোপকারিতা এবং ভদ্রতা, তা না হলে ধ্বংস অনিবার্য। বিস্তারিত »

হোটেল রুয়ান্ডা – সংঘাত সংঘর্ষ গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত একটি দেশের কাহিনী

ফ্লোরা সরকার

hotel rwanda-1-জাতিগত বিদ্বেষের ইতিহাসের শিকড়ের গভীরে থাকে ঔপনিবেশিক শাসনের রাজনীতিকুটনীতি। অন্তত রুয়ান্ডার ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। “হোটেল রুয়ান্ডা” ছবির প্রত্যেকটা মুহূর্ত্ত তাই দর্শক এক স্থিরঅচঞ্চল উত্তেজনা থেকে রেহাই পায়না। স্তব্ধ দৃষ্টিতে ছবির পর্দায় একের পর এক জাতি বিদ্বেষের নৃশংসতা দেখে দর্শক বিস্ময়ে হতবাক হতে থাকেন। হোটেলের লবিতে বসে জাতিসংঘ থেকে আগত সাংবাদিক যখন রুয়ান্ডার সাংবাদিক বেনেডিক্টের কাছে হুতুতুতসি দুই জাতির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য জানতে চান, তখন বেনেডিক্ট মাত্র কয়েটি সংলাপে এর উত্তর দিয়ে দেন। বেনেডিক্ট বলেন “ বেলজিয়ান কলোনির মতে তুতসিরা লম্বা, সুরুচিপূর্ণ। এই বেলজিয়ানরাই মূলত এই পার্থক্য তৈরি করেছে”। সাংবাদিকের প্রশ্ন “কীভাবে” ? বেনেডিক্টের উত্তর “আমাদের ভেতর থেকে তারা সেসব মানুষদের তুলে নিত, যাদের নাক সরু, গাত্র বর্ণ কিছুটা উজ্জ্বল। সেই সরু নাকের অধিকারী তুতসিদের দিয়ে তারা প্রশাসন চালাতো। কিন্তু দেশ ছেড়ে যাবার সময় হুতুদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে গেলে তুতসিদের ওপর দীর্ঘদিনের শোষণের প্রতিশোধ নিতে হুতুরা ব্যস্ত হয়ে পড়লো”। এরপর সাংবাদিক তার পাশে বসা দুটো মেয়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারে তাদের একজন হুতু আরেকজন তুতসি। সাংবাদিক স্বগতোক্তি করেন “আশ্চর্য, যেন দুটো যমজ বোন”। ঠিক তাই। রুয়ান্ডার পেছনের ইতিহাস অন্তত তাই বলে। এই ইতিহাসের দিকে তাকালে হোটেল রুয়ান্ডা ছবিটা আমাদের কাছে আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। বিস্তারিত »